ঢাকা ১০:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভাঙ্গা-কুয়াকাটা রেললাইন নিয়ে নতুন মোড়, সামনে বড় শঙ্কা!

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৯:০৩:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৬

ভাঙ্গা-কুয়াকাটা রেললাইন প্রকল্প নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। | ছবি: সংগৃহীত

ভাঙ্গা-কুয়াকাটা রেললাইন প্রকল্প নিয়ে দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা এই প্রকল্পে ভাঙ্গা থেকে বরিশাল হয়ে পায়রা বন্দর ও কুয়াকাটা পর্যন্ত রেল যোগাযোগ গড়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল। সম্ভাব্যতা যাচাই থেকে শুরু করে প্রকল্পের বিভিন্ন প্রাথমিক কাজও শেষ হয়েছে। এখন মূল অপেক্ষা অর্থের সংস্থানের। এর মধ্যেই শরীয়তপুর হয়ে বরিশালের হিজলা পর্যন্ত নতুন একটি রেলপথের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।

ভাঙ্গা-কুয়াকাটা রেললাইন প্রকল্পের পরিকল্পনা অবশ্য নতুন নয়। ২০১৬ সালে ঢাকা থেকে বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত রেললাইন স্থাপনের প্রাথমিক উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে পদ্মা সেতু চালু হওয়ার প্রেক্ষাপটে পরিকল্পনায় পরিবর্তন এনে ভাঙ্গা থেকে বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত রুট বিবেচনা করা হয়। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষ করে। প্রকল্প বাস্তবায়নে বিপুল পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ এবং বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন হবে বলে প্রতিবেদনে উঠে আসে। অর্থের সংস্থান না হওয়ায় এখনো মূল নির্মাণকাজ শুরু হয়নি।

এমন পরিস্থিতিতে গত ২৯ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে নতুন একটি নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে পদ্মা সেতু থেকে শরীয়তপুর সদর, ভেদরগঞ্জ, ডামুড্যা ও গোসাইরহাট হয়ে বরিশালের হিজলা পর্যন্ত রেললাইন স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কথা বলা হয়েছে। নতুন প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলের রেল যোগাযোগের চিত্রে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে, এই উদ্যোগ ভাঙ্গা-কুয়াকাটা রেললাইন প্রকল্পের ভবিষ্যতে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না।

নতুন রুটের প্রস্তাব সামনে আসার পর বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কারণ নতুন প্রস্তাবনায় বিভাগীয় সদর বরিশাল, পায়রা বন্দর, কুয়াকাটা এবং মাদারীপুরসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকার কথা সরাসরি উল্লেখ নেই। স্থানীয়দের আশঙ্কা, সীমিত অর্থের মধ্যে একই অঞ্চলে দুটি আলাদা রেলপথ বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে। ফলে পুরোনো প্রকল্পটি আরও পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কুয়াকাটা পর্যটনকেন্দ্র ও পায়রা বন্দরকে রেল যোগাযোগের আওতায় আনার দাবি দীর্ঘদিনের।

তবে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতাদের কেউ কেউ বলছেন, নতুন রুটের সম্ভাব্যতা যাচাই মানেই ভাঙ্গা-কুয়াকাটা রেললাইন প্রকল্প বাতিল হয়ে যাওয়া নয়। বরং শরীয়তপুরের মানুষও রেল যোগাযোগের সুবিধা পাওয়ার দাবি তুলতে পারেন। একই সঙ্গে ভাঙ্গা থেকে বরিশাল হয়ে পায়রা বন্দর ও কুয়াকাটা পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়ন করা সম্ভব বলে তারা মনে করছেন। তাদের মতে, দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ও অর্থনীতির জন্য দুটি রুটেরই প্রয়োজনীয়তা আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা উচিত।

ভাঙ্গা-কুয়াকাটা রেললাইন বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। কুয়াকাটার পর্যটন, পায়রা বন্দরের কার্যক্রম, পটুয়াখালীর শিল্প-বাণিজ্য এবং বরিশাল অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই নতুন রেলপথের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি পুরোনো প্রকল্পের ভবিষ্যৎও স্পষ্ট করা জরুরি। এখন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের প্রধান প্রত্যাশা—সরকার যেন দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয় এবং বরিশাল, কুয়াকাটা ও পায়রা বন্দরকে রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত করার দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তব রূপ পায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভাঙ্গা-কুয়াকাটা রেললাইন নিয়ে নতুন মোড়, সামনে বড় শঙ্কা!

Update Time : ০৯:০৩:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

ভাঙ্গা-কুয়াকাটা রেললাইন প্রকল্প নিয়ে দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা এই প্রকল্পে ভাঙ্গা থেকে বরিশাল হয়ে পায়রা বন্দর ও কুয়াকাটা পর্যন্ত রেল যোগাযোগ গড়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল। সম্ভাব্যতা যাচাই থেকে শুরু করে প্রকল্পের বিভিন্ন প্রাথমিক কাজও শেষ হয়েছে। এখন মূল অপেক্ষা অর্থের সংস্থানের। এর মধ্যেই শরীয়তপুর হয়ে বরিশালের হিজলা পর্যন্ত নতুন একটি রেলপথের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।

ভাঙ্গা-কুয়াকাটা রেললাইন প্রকল্পের পরিকল্পনা অবশ্য নতুন নয়। ২০১৬ সালে ঢাকা থেকে বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত রেললাইন স্থাপনের প্রাথমিক উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে পদ্মা সেতু চালু হওয়ার প্রেক্ষাপটে পরিকল্পনায় পরিবর্তন এনে ভাঙ্গা থেকে বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত রুট বিবেচনা করা হয়। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষ করে। প্রকল্প বাস্তবায়নে বিপুল পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ এবং বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন হবে বলে প্রতিবেদনে উঠে আসে। অর্থের সংস্থান না হওয়ায় এখনো মূল নির্মাণকাজ শুরু হয়নি।

আরও পড়ুন  ইলিয়াস কাঞ্চন দেশে ফিরলেন: চিকিৎসা শেষে সুখবর, জানালেন গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

এমন পরিস্থিতিতে গত ২৯ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে নতুন একটি নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে পদ্মা সেতু থেকে শরীয়তপুর সদর, ভেদরগঞ্জ, ডামুড্যা ও গোসাইরহাট হয়ে বরিশালের হিজলা পর্যন্ত রেললাইন স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কথা বলা হয়েছে। নতুন প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলের রেল যোগাযোগের চিত্রে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে, এই উদ্যোগ ভাঙ্গা-কুয়াকাটা রেললাইন প্রকল্পের ভবিষ্যতে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না।

আরও পড়ুন  ঈদ ট্রেন টিকিট বিক্রি শুরু সময়সূচি আজ

নতুন রুটের প্রস্তাব সামনে আসার পর বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কারণ নতুন প্রস্তাবনায় বিভাগীয় সদর বরিশাল, পায়রা বন্দর, কুয়াকাটা এবং মাদারীপুরসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকার কথা সরাসরি উল্লেখ নেই। স্থানীয়দের আশঙ্কা, সীমিত অর্থের মধ্যে একই অঞ্চলে দুটি আলাদা রেলপথ বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে। ফলে পুরোনো প্রকল্পটি আরও পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কুয়াকাটা পর্যটনকেন্দ্র ও পায়রা বন্দরকে রেল যোগাযোগের আওতায় আনার দাবি দীর্ঘদিনের।

তবে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতাদের কেউ কেউ বলছেন, নতুন রুটের সম্ভাব্যতা যাচাই মানেই ভাঙ্গা-কুয়াকাটা রেললাইন প্রকল্প বাতিল হয়ে যাওয়া নয়। বরং শরীয়তপুরের মানুষও রেল যোগাযোগের সুবিধা পাওয়ার দাবি তুলতে পারেন। একই সঙ্গে ভাঙ্গা থেকে বরিশাল হয়ে পায়রা বন্দর ও কুয়াকাটা পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়ন করা সম্ভব বলে তারা মনে করছেন। তাদের মতে, দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ও অর্থনীতির জন্য দুটি রুটেরই প্রয়োজনীয়তা আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা উচিত।

আরও পড়ুন  পদ্মা রেল সেতুর নিচে মাটি অপসারণ প্রকল্পেরই অংশ, নিরাপত্তার ঝুঁকি নেই: সড়ক মন্ত্রী

ভাঙ্গা-কুয়াকাটা রেললাইন বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। কুয়াকাটার পর্যটন, পায়রা বন্দরের কার্যক্রম, পটুয়াখালীর শিল্প-বাণিজ্য এবং বরিশাল অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই নতুন রেলপথের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি পুরোনো প্রকল্পের ভবিষ্যৎও স্পষ্ট করা জরুরি। এখন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের প্রধান প্রত্যাশা—সরকার যেন দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয় এবং বরিশাল, কুয়াকাটা ও পায়রা বন্দরকে রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত করার দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তব রূপ পায়।