চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার ইয়াবাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি বোটও জব্দ করা হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, সোমবার ভোররাতে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙর সমুদ্র এলাকায় ‘অপারেশন সমুদ্র প্রহরা’র দায়িত্বে থাকা কোস্ট গার্ড জাহাজ কুতুবদিয়া ও আউটপোস্ট পতেঙ্গার সদস্যরা অভিযান চালান। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে সমুদ্র এলাকায় একটি সন্দেহজনক বোটের গতিবিধি নজরে আসে। পরে বোটটির ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়। একপর্যায়ে সেটিকে থামার সংকেত দেওয়া হয়।
কোস্ট গার্ড সদস্যদের থামার সংকেত অমান্য করে বোটটি দ্রুতগতিতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে কোস্ট গার্ড সদস্যরা ধাওয়া করে বোটটি আটক করতে সক্ষম হন। এরপর বোটটিতে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা পাওয়া যায়। পরে ইয়াবাগুলো জব্দ করে বোটটিও নিজেদের হেফাজতে নেয় কোস্ট গার্ড।
অভিযানে বোট থেকে মোট ২ লাখ ৫০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড। এ ঘটনায় বোটে থাকা দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে মাদক পাচারের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। একটি সংঘবদ্ধ মাদক চক্র মিয়ানমারের বিভিন্ন এলাকা থেকে ইয়াবার চালান সংগ্রহ করে চট্টগ্রামে পাচারের চেষ্টা করছিল বলে জানা গেছে। চক্রটির সঙ্গে আরও কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কোস্ট গার্ড সূত্র জানায়, দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে মাদকের বড় চালানটির বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে পরিকল্পিতভাবে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ দুইজনকে আটক করা সম্ভব হয়। একই সঙ্গে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত বোটটি জব্দ করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংঘবদ্ধ মাদক চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। মাদক পাচার বন্ধে সমুদ্রপথে নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে। পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন