রাজধানীর লালবাগ থানায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় জামিন পেয়েছেন জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। রবিবার দুপুরে আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করার পর, ওইদিন সন্ধ্যায়ই তিনি কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন।
কাশিমপুর মহিলা কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মোছা. কাওয়ালিন নাহার তাঁর কারামুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আদালত থেকে জামিন মঞ্জুরের প্রয়োজনীয় নথিপত্র কারাগারে পৌঁছানোর পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এর আগে, রবিবার দুপুরে ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম জাকির হোসাইনের আদালতে তাঁর জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে বিচারক তাঁর জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।
২০২৪ সালের আগস্ট মাসে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে সাবেক এই স্পিকারকে জনসমক্ষে খুব একটা দেখা যায়নি। পরবর্তীতে গত ৭ এপ্রিল ভোরে রাজধানীর ধানমন্ডি ৮/এ এলাকার নিজ বাসভবন থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। ওই দিনই তাঁকে আদালতে হাজির করে দুই দিনের রিমান্ড চেয়েছিল পুলিশ, অন্যদিকে তাঁর আইনজীবীরা জামিন আবেদন করেছিলেন। তবে আদালত উভয় পক্ষের আবেদনই নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে আজিমপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় হামলা ও গুলির ঘটনা ঘটে। এতে আশরাফুল ওরফে ফাহিম নামের এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এই ঘটনার জেরে গত ২৫ মে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৩০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১১৫ থেকে ১২০ জনকে আসামি করে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়। এই মামলাতেই শিরীন শারমিনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল।
২০০৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে প্রথম জাতীয় সংসদে পা রাখেন শিরীন শারমিন চৌধুরী। এরপর ২০১৩ সালে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রথম নারী স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়ে রেকর্ড গড়েন। এরপর টানা তিন মেয়াদে তিনি অত্যন্ত সফলতার সাথে জাতীয় সংসদের স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন