ঢাকা ০১:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

স্কিপ-কেয়ার ট্রেন্ডে ঝুঁকছেন কোরিয়ান তরুণীরা

স্কিপ-কেয়ার পদ্ধতিতে কম ধাপে ত্বকের যত্ন নিচ্ছেন কোরিয়ান তরুণীরা। | ছবি: সংগৃহীত

স্কিপ-কেয়ার এখন দক্ষিণ কোরিয়ার তরুণীদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। একসময় ১০ ধাপের স্কিনকেয়ার রুটিনের জন্য পরিচিত কে-বিউটি বিশ্বজুড়ে আলোচনায় ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই বুঝতে শুরু করেছেন, সব ধরনের প্রসাধনী সবার ত্বকের জন্য প্রয়োজনীয় নয়। ফলে অতিরিক্ত পণ্যের পরিবর্তে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর পণ্য ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছেন কোরিয়ার নতুন প্রজন্ম।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্কিপ-কেয়ার মানে ত্বকের যত্নে অবহেলা নয়; বরং অপ্রয়োজনীয় ধাপ বাদ দিয়ে ত্বকের প্রকৃত চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়া। এই পদ্ধতিতে এমন পণ্য বেছে নেওয়া হয়, যা একাধিক কাজ করতে পারে এবং ত্বকের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে না। ফলে সময় বাঁচে, খরচ কমে এবং ত্বকের স্বাভাবিক ভারসাম্যও বজায় থাকে।

দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় অভিনেত্রী কিম সো হিয়ন এবং কে-পপ তারকাদের অনেকেই সরল স্কিনকেয়ার রুটিন অনুসরণের কথা জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার এবং সানস্ক্রিন প্রয়োগই সুস্থ ত্বকের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের বক্তব্য তরুণ প্রজন্মকে স্কিপ-কেয়ারের প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলেছে।

স্কিপ-কেয়ার রুটিনে সাধারণত চারটি ধাপকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রথমে একটি কার্যকর ক্লিনজার দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করা হয়, যা একই সঙ্গে ময়লা, অতিরিক্ত তেল ও হালকা মেকআপ দূর করতে সক্ষম। এরপর ব্যবহার করা হয় একটি নির্দিষ্ট সমস্যাভিত্তিক সিরাম। তৃতীয় ধাপে থাকে ময়েশ্চারাইজার, যা ত্বককে আর্দ্র রাখে। দিনের বেলায় ময়েশ্চারাইজারের সঙ্গে সানস্ক্রিন যুক্ত থাকলে আরও সুবিধা পাওয়া যায়। রাতে একটি উপযুক্ত নাইট ক্রিম ব্যবহার করাই যথেষ্ট বলে মনে করছেন অনেকেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ড্রয়ারভর্তি প্রসাধনী ব্যবহার করলেই ভালো ফল পাওয়া যায় না। বরং ত্বকের প্রয়োজন অনুযায়ী কম কিন্তু কার্যকর পণ্য ব্যবহার করলে দীর্ঘমেয়াদে উপকার পাওয়া সম্ভব। বর্তমানে পরিবেশ সচেতনতা ও ব্যয় কমানোর প্রবণতাও স্কিপ-কেয়ার জনপ্রিয় হওয়ার অন্যতম কারণ।

তবে এই পদ্ধতি সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর নাও হতে পারে। যাঁদের ব্রণ, একজিমা বা অন্যান্য বিশেষ ত্বকের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে চিকিৎসক বা ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী অতিরিক্ত পণ্য ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে। তাই নতুন কোনো রুটিন অনুসরণ করার আগে নিজের ত্বকের ধরন ও প্রয়োজন সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি।

সব মিলিয়ে, স্কিপ-কেয়ার বর্তমান সময়ে শুধু একটি সৌন্দর্যচর্চার ধারা নয়; বরং প্রয়োজনভিত্তিক ও সচেতন ত্বক পরিচর্যার একটি আধুনিক দর্শন। কম প্রসাধনী ব্যবহার করেও কীভাবে সুস্থ ও উজ্জ্বল ত্বক বজায় রাখা যায়, সেই বার্তাই দিচ্ছে এই নতুন ট্রেন্ড।

জনপ্রিয় সংবাদ

শার্ক ফিন অ্যান্টেনা: জানুন এর চমকপ্রদ ৫টি গুরুত্বপূর্ণ কাজ

স্কিপ-কেয়ার ট্রেন্ডে ঝুঁকছেন কোরিয়ান তরুণীরা

Update Time : ১১:২৩:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

স্কিপ-কেয়ার এখন দক্ষিণ কোরিয়ার তরুণীদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। একসময় ১০ ধাপের স্কিনকেয়ার রুটিনের জন্য পরিচিত কে-বিউটি বিশ্বজুড়ে আলোচনায় ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই বুঝতে শুরু করেছেন, সব ধরনের প্রসাধনী সবার ত্বকের জন্য প্রয়োজনীয় নয়। ফলে অতিরিক্ত পণ্যের পরিবর্তে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর পণ্য ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছেন কোরিয়ার নতুন প্রজন্ম।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্কিপ-কেয়ার মানে ত্বকের যত্নে অবহেলা নয়; বরং অপ্রয়োজনীয় ধাপ বাদ দিয়ে ত্বকের প্রকৃত চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়া। এই পদ্ধতিতে এমন পণ্য বেছে নেওয়া হয়, যা একাধিক কাজ করতে পারে এবং ত্বকের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে না। ফলে সময় বাঁচে, খরচ কমে এবং ত্বকের স্বাভাবিক ভারসাম্যও বজায় থাকে।

দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় অভিনেত্রী কিম সো হিয়ন এবং কে-পপ তারকাদের অনেকেই সরল স্কিনকেয়ার রুটিন অনুসরণের কথা জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার এবং সানস্ক্রিন প্রয়োগই সুস্থ ত্বকের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের বক্তব্য তরুণ প্রজন্মকে স্কিপ-কেয়ারের প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলেছে।

স্কিপ-কেয়ার রুটিনে সাধারণত চারটি ধাপকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রথমে একটি কার্যকর ক্লিনজার দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করা হয়, যা একই সঙ্গে ময়লা, অতিরিক্ত তেল ও হালকা মেকআপ দূর করতে সক্ষম। এরপর ব্যবহার করা হয় একটি নির্দিষ্ট সমস্যাভিত্তিক সিরাম। তৃতীয় ধাপে থাকে ময়েশ্চারাইজার, যা ত্বককে আর্দ্র রাখে। দিনের বেলায় ময়েশ্চারাইজারের সঙ্গে সানস্ক্রিন যুক্ত থাকলে আরও সুবিধা পাওয়া যায়। রাতে একটি উপযুক্ত নাইট ক্রিম ব্যবহার করাই যথেষ্ট বলে মনে করছেন অনেকেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ড্রয়ারভর্তি প্রসাধনী ব্যবহার করলেই ভালো ফল পাওয়া যায় না। বরং ত্বকের প্রয়োজন অনুযায়ী কম কিন্তু কার্যকর পণ্য ব্যবহার করলে দীর্ঘমেয়াদে উপকার পাওয়া সম্ভব। বর্তমানে পরিবেশ সচেতনতা ও ব্যয় কমানোর প্রবণতাও স্কিপ-কেয়ার জনপ্রিয় হওয়ার অন্যতম কারণ।

তবে এই পদ্ধতি সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর নাও হতে পারে। যাঁদের ব্রণ, একজিমা বা অন্যান্য বিশেষ ত্বকের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে চিকিৎসক বা ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী অতিরিক্ত পণ্য ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে। তাই নতুন কোনো রুটিন অনুসরণ করার আগে নিজের ত্বকের ধরন ও প্রয়োজন সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি।

সব মিলিয়ে, স্কিপ-কেয়ার বর্তমান সময়ে শুধু একটি সৌন্দর্যচর্চার ধারা নয়; বরং প্রয়োজনভিত্তিক ও সচেতন ত্বক পরিচর্যার একটি আধুনিক দর্শন। কম প্রসাধনী ব্যবহার করেও কীভাবে সুস্থ ও উজ্জ্বল ত্বক বজায় রাখা যায়, সেই বার্তাই দিচ্ছে এই নতুন ট্রেন্ড।