সুপার কাপের ফাইনালে আবারও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিল প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। অস্ট্রিয়ার রেড বুল অ্যারেনায় বুধবার রাতে অ্যাস্টন ভিলাকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার উয়েফা সুপার কাপের শিরোপা জিতেছে ফরাসি ক্লাবটি। ম্যাচে গোলের শুরু করেন খাভিচা কাভারৎসখেলিয়া। পরে অ্যাস্টন ভিলার হয়ে সমতা ফেরান তরুণ ব্রায়ান মাদজো। দ্বিতীয়ার্ধে দেজিরে দুয়ের গোল শেষ পর্যন্ত পিএসজিকে এনে দেয় কাঙ্ক্ষিত জয়।

ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখল ও আক্রমণে নিজেদের ছন্দ খুঁজে নেয় পিএসজি। তবে অ্যাস্টন ভিলাও খুব বেশি পিছিয়ে ছিল না। ২০ মিনিটে কাভারৎসখেলিয়ার দারুণ ফিনিশে এগিয়ে যায় ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা। ভিলার রক্ষণ থেকে বল ঠিকমতো পরিষ্কার না হওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে আক্রমণ সাজায় পিএসজি। এরপর নিজের দক্ষতা দেখিয়ে জোরালো শটে বল জালে পাঠান জর্জিয়ান ফরোয়ার্ড। গোলটি ম্যাচে পিএসজির আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেয়।

গোল হজম করেও ভেঙে পড়েনি অ্যাস্টন ভিলা। বরং ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে ইংলিশ দলটি। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে সেই প্রচেষ্টার ফলও আসে। ১৭ বছর বয়সী ব্রায়ান মাদজো পিএসজির জালে বল পাঠিয়ে ম্যাচে সমতা ফেরান। অভিষেক ম্যাচেই এমন গুরুত্বপূর্ণ গোল করে আলোচনায় চলে আসেন তরুণ ফরোয়ার্ড। মাদজোর গোল তাকে উয়েফা সুপার কাপের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী গোলদাতাদের মধ্যে নয়, বরং সবচেয়ে কম বয়সী গোলদাতা হিসেবে বিশেষ কীর্তি এনে দেয়।

বিরতির পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করে পিএসজি। দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে এগিয়ে ছিল লুইস এনরিকের দল। ৬১ মিনিটে সেই চাপের ফল আসে। দেজিরে দুয়ে পিএসজিকে আবারও এগিয়ে দেন। গোলটি নিয়ে অফসাইডের সংশয় তৈরি হলেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির পর্যালোচনার পর সেটি বৈধ ঘোষণা করা হয়। এরপর ব্যবধান ধরে রাখতে রক্ষণে মনোযোগ বাড়ায় পিএসজি।

শেষ দিকে অ্যাস্টন ভিলা গোল শোধের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। বলের দখল ও আক্রমণে চাপ তৈরি করলেও পিএসজির রক্ষণ ভাঙতে পারেনি তারা। ফলে ২-১ গোলের ব্যবধানেই শেষ হয় ম্যাচ। এই জয়ের মাধ্যমে পিএসজি শুধু আরেকটি আন্তর্জাতিক ট্রফিই জেতেনি, ইউরোপীয় ফুটবলেও নিজেদের সাম্প্রতিক আধিপত্য আরও শক্ত করেছে। ২০২৫ সালে টটেনহ্যামকে হারিয়ে প্রথমবার সুপার কাপ জেতার পর এবার ভিলাকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা ধরে রাখল তারা।

এই জয়ের সবচেয়ে বড় কৃতিত্বের দাবিদার কোচ লুইস এনরিকেও। ২০২৩ সালে পিএসজির দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তার ১৩তম ট্রফি। একই সময়ে পিএসজি টানা দুটি চ্যাম্পিয়নস লিগ ও দুটি সুপার কাপ জয়ের মতো সাফল্য পেয়েছে। সুপার কাপ ধরে রাখার মাধ্যমে পিএসজি এখন এসি মিলান ও রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে সেই বিরল ক্লাবগুলোর তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে, যারা প্রতিযোগিতাটির শিরোপা পরপর দুইবার জিতেছে। নতুন মৌসুমের শুরুতেই এমন সাফল্য পিএসজির সামনে আরও বড় লক্ষ্য স্থির করে দিয়েছে।