টেকনোলজি বিশ্বে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় কৌতূহল এবং আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে ওপেনএআই (OpenAI)-এর পরবর্তী প্রজন্মের লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল ‘ChatGPT-5’। বর্তমানের চ্যাটজিপিটি-৪ বা ৪ও (4o) মডেলগুলো যেখানে ইতিমধ্যে মানুষের দৈনন্দিন কাজকে সহজ করে দিয়েছে, সেখানে চ্যাটজিপিটি-৫ এআই (AI) প্রযুক্তির সংজ্ঞা পুরোপুরি বদলে দিতে যাচ্ছে বলে দাবি করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা। গুগলে এই মুহূর্তে প্রযুক্তিপ্রেমীদের সবচেয়ে বেশি সার্চ করা টপিকগুলোর শীর্ষে রয়েছে এই এআই মডেলটি।
ওপেনএআই-এর অভ্যন্তরীণ সূত্র এবং প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন লিকড (Leaked) তথ্য অনুযায়ী, চ্যাটজিপিটি-৫-এর কোড নেম দেওয়া হয়েছে ‘প্রজেক্ট স্ট্রবেরি’ (Project Strawberry)। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির প্রধান স্যাম অল্টম্যান (Sam Altman) বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, নতুন এই মডেলটি শুধু চ্যাটবট হিসেবে উত্তর দেবে না, বরং এটি মানুষের মতো জটিল গাণিতিক ও বৈজ্ঞানিক সমস্যার ‘রিজনিং’ বা যুক্তি খণ্ডন করতে পারবে।
কী কী অবিশ্বাস্য ফিচার থাকছে ChatGPT-5-এ?
মানুষের মতো চিন্তা করার ক্ষমতা (Advanced Reasoning): চ্যাটজিপিটি-৫ কোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে মানুষের মতো গভীরভাবে চিন্তা করতে পারবে। কোনো জটিল কোডিং বা বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রে এটি ধাপে ধাপে নিজে থেকেই ভুলত্রুটি সংশোধন করে নিখুঁত ফলাফল দিতে সক্ষম হবে।
সরাসরি ইন্টারনেট ব্রাউজিং ও স্বায়ত্তশাসন (AI Agents): নতুন মডেলে যুক্ত হচ্ছে শক্তিশালী ‘এআই এজেন্ট’ ব্যবস্থা। এর মানে হলো, আপনি একে কোনো টাস্ক দিলে (যেমন: আগামী সপ্তাহের জন্য সবচেয়ে কম খরচে ঘুরে আসার ট্রাভেল প্ল্যান বুক করা), এটি মানুষের সাহায্য ছাড়াই নিজে ইন্টারনেট ব্রাউজ করে, বিভিন্ন ওয়েবসাইট ঘেঁটে পুরো কাজটি একা সম্পন্ন করে দিতে পারবে।
মেমোরি ও রিয়েল-টাইম ভয়েস: আগের চেয়ে অনেক বেশি তথ্য মনে রাখার ক্ষমতা থাকবে এর। আপনি এক মাস আগে কী নিয়ে কথা বলেছিলেন, সেটি মনে রেখে একদম প্রাকৃতিক মানুষের কণ্ঠে (রিয়েল-টাইম ইমোশনসহ) এটি কথা বলতে পারবে।
কবে নাগাদ রিলিজ হতে পারে?
ওপেনএআই আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ ঘোষণা না করলেও, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের ধারণা অনুযায়ী ২০২৬ সালের শেষভাগে অথবা ২০২৭ সালের শুরুর দিকেই ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হতে পারে চ্যাটজিপিটি-৫। তবে এর একটি বিশেষ ট্রায়াল বা ‘প্রিভিউ সংস্করণ’ খুব শীঘ্রই মেম্বারদের জন্য রিলিজ করা হতে পারে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, চ্যাটজিপিটি-৫ বাজারে আসলে ফ্রিল্যান্সিং, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট এবং কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের ক্ষেত্রে এক বিশাল পরিবর্তন আসবে। এটি মানুষের কর্মসংস্থান কমাবে নাকি কাজের গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে—তা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে চলছে তুমুল বিতর্ক।



























