ঢাকা ০৮:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

জুলাইয়ে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি, জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর

জুলাই মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি

চলতি জুলাই মাসে দেশের দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে মাসজুড়ে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এক থেকে দুটি মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে বলেও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বুধবার প্রকাশিত জুলাই মাসের দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়া পূর্বাভাসে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে, জুলাই মাসে দেশের গড় তাপমাত্রা সাধারণ সময়ের তুলনায় কিছুটা বেশি থাকবে। বিশেষ করে দেশের পশ্চিমাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলের কিছু এলাকায় গরমের তীব্রতা বেশি অনুভূত হতে পারে। দিন ও রাত উভয় সময়েই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা বিরাজ করার সম্ভাবনা রয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে এক থেকে দুটি বিচ্ছিন্ন মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এসব তাপপ্রবাহে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। যদিও তা তীব্র তাপপ্রবাহের পর্যায়ে যাবে না, তবুও জনজীবনে অস্বস্তি বাড়াতে পারে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষাকাল চললেও অনেক সময় বৃষ্টির বিরতি এবং আর্দ্রতা বৃদ্ধির কারণে গরমের অনুভূতি বেশি হয়। ফলে প্রকৃত তাপমাত্রা তুলনামূলক কম থাকলেও মানুষ অতিরিক্ত গরম অনুভব করতে পারেন। জুলাই মাসেও এমন পরিস্থিতি দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে, মাসজুড়ে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বর্ষা মৌসুম সক্রিয় থাকায় দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে কৃষি খাত উপকৃত হলেও কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, জুলাই মাসে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে অন্তত একটি লঘুচাপ মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব আবহাওয়া ব্যবস্থা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও নিম্নচাপ সাধারণত দেশের উপকূলীয় অঞ্চল এবং নদীবন্দরগুলোর আবহাওয়ার ওপর প্রভাব ফেলে। ফলে সমুদ্রবন্দর ও নদীবন্দরগুলোকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখতে হতে পারে। প্রয়োজনে সতর্কতামূলক বার্তাও জারি করা হতে পারে।

জুলাই মাসে বজ্রপাতের প্রবণতাও উল্লেখযোগ্য থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মাসজুড়ে দেশে আট থেকে নয় দিন বজ্রপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বজ্রপাতের কারণে গ্রামীণ এলাকায় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে বজ্রপাতের ঘটনা বৃদ্ধি পায়। কৃষিকাজ, মাছ ধরা কিংবা খোলা মাঠে অবস্থানকালে বজ্রপাতের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই বজ্রপাতের সময় নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মৌসুমি বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানির স্তরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে যেসব নদী উজান থেকে নেমে এসেছে, সেগুলোতে পানি বৃদ্ধি বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। তবে এই বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা, বিশেষ করে তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার এলাকাগুলোতে নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। একইভাবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওরাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকাগুলোতেও অতিবৃষ্টির প্রভাব পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আবহাওয়ার ধরনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। কখনো অতিরিক্ত বৃষ্টি, আবার কখনো দীর্ঘ সময় বৃষ্টিহীন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। ফলে মৌসুমি আবহাওয়ার পূর্বাভাস আগের চেয়ে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কৃষি খাতের জন্য জুলাই মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমন ধানের চাষ, সবজি উৎপাদন এবং অন্যান্য কৃষিকাজ এই সময়ের আবহাওয়ার ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত কৃষকদের জন্য ইতিবাচক হলেও অতিবৃষ্টি ক্ষতির কারণ হতে পারে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেশি তাপমাত্রা ও আর্দ্র আবহাওয়ায় হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা এবং বিভিন্ন সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ে। তাই পর্যাপ্ত পানি পান, ছায়াযুক্ত স্থানে অবস্থান এবং প্রয়োজন ছাড়া রোদে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের প্রতি বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে তাদের শারীরিক সমস্যা দ্রুত জটিল আকার ধারণ করতে পারে। তাই পরিবারের সদস্যদেরও সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জুলাই মাসের আবহাওয়া পরিস্থিতি সামগ্রিকভাবে বর্ষাকালীন বৈশিষ্ট্য বজায় রাখলেও এর সঙ্গে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বজ্রপাত এবং স্বল্পমেয়াদি বন্যার ঝুঁকিও থাকবে। ফলে নাগরিকদের আবহাওয়া সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য নিয়মিত অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা প্রকাশ করা হবে। তাই যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা প্রতিকূল আবহাওয়া মোকাবিলায় সবাইকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জুলাই মাসজুড়ে দেশের আবহাওয়া কেমন থাকবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ সবসময়ই বেশি থাকে। এবারও তাপমাত্রা বৃদ্ধি, সম্ভাব্য তাপপ্রবাহ, বজ্রপাত এবং বন্যার পূর্বাভাস দেশের আবহাওয়া পরিস্থিতিকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

সেরাকণ্ঠের মুগ্ধ এবার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, চমকে দিলেন সবাইকে

জুলাইয়ে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি, জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর

Update Time : ০৭:১০:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

চলতি জুলাই মাসে দেশের দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে মাসজুড়ে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এক থেকে দুটি মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে বলেও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বুধবার প্রকাশিত জুলাই মাসের দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়া পূর্বাভাসে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে, জুলাই মাসে দেশের গড় তাপমাত্রা সাধারণ সময়ের তুলনায় কিছুটা বেশি থাকবে। বিশেষ করে দেশের পশ্চিমাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলের কিছু এলাকায় গরমের তীব্রতা বেশি অনুভূত হতে পারে। দিন ও রাত উভয় সময়েই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা বিরাজ করার সম্ভাবনা রয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে এক থেকে দুটি বিচ্ছিন্ন মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এসব তাপপ্রবাহে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। যদিও তা তীব্র তাপপ্রবাহের পর্যায়ে যাবে না, তবুও জনজীবনে অস্বস্তি বাড়াতে পারে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষাকাল চললেও অনেক সময় বৃষ্টির বিরতি এবং আর্দ্রতা বৃদ্ধির কারণে গরমের অনুভূতি বেশি হয়। ফলে প্রকৃত তাপমাত্রা তুলনামূলক কম থাকলেও মানুষ অতিরিক্ত গরম অনুভব করতে পারেন। জুলাই মাসেও এমন পরিস্থিতি দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুন  চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার খবর বানোয়াট: প্রতিমন্ত্রীর দাবি

অন্যদিকে, মাসজুড়ে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বর্ষা মৌসুম সক্রিয় থাকায় দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে কৃষি খাত উপকৃত হলেও কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, জুলাই মাসে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে অন্তত একটি লঘুচাপ মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব আবহাওয়া ব্যবস্থা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও নিম্নচাপ সাধারণত দেশের উপকূলীয় অঞ্চল এবং নদীবন্দরগুলোর আবহাওয়ার ওপর প্রভাব ফেলে। ফলে সমুদ্রবন্দর ও নদীবন্দরগুলোকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখতে হতে পারে। প্রয়োজনে সতর্কতামূলক বার্তাও জারি করা হতে পারে।

জুলাই মাসে বজ্রপাতের প্রবণতাও উল্লেখযোগ্য থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মাসজুড়ে দেশে আট থেকে নয় দিন বজ্রপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বজ্রপাতের কারণে গ্রামীণ এলাকায় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে বজ্রপাতের ঘটনা বৃদ্ধি পায়। কৃষিকাজ, মাছ ধরা কিংবা খোলা মাঠে অবস্থানকালে বজ্রপাতের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই বজ্রপাতের সময় নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন  ১৫ জেলায় দুপুরের মধ্যে ঝড়ের আভাস

মৌসুমি বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানির স্তরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে যেসব নদী উজান থেকে নেমে এসেছে, সেগুলোতে পানি বৃদ্ধি বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। তবে এই বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা, বিশেষ করে তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার এলাকাগুলোতে নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। একইভাবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওরাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকাগুলোতেও অতিবৃষ্টির প্রভাব পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আবহাওয়ার ধরনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। কখনো অতিরিক্ত বৃষ্টি, আবার কখনো দীর্ঘ সময় বৃষ্টিহীন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। ফলে মৌসুমি আবহাওয়ার পূর্বাভাস আগের চেয়ে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কৃষি খাতের জন্য জুলাই মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমন ধানের চাষ, সবজি উৎপাদন এবং অন্যান্য কৃষিকাজ এই সময়ের আবহাওয়ার ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত কৃষকদের জন্য ইতিবাচক হলেও অতিবৃষ্টি ক্ষতির কারণ হতে পারে।

আরও পড়ুন  তিন বিভাগে টানা ৩ দিন ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেশি তাপমাত্রা ও আর্দ্র আবহাওয়ায় হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা এবং বিভিন্ন সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ে। তাই পর্যাপ্ত পানি পান, ছায়াযুক্ত স্থানে অবস্থান এবং প্রয়োজন ছাড়া রোদে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের প্রতি বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে তাদের শারীরিক সমস্যা দ্রুত জটিল আকার ধারণ করতে পারে। তাই পরিবারের সদস্যদেরও সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জুলাই মাসের আবহাওয়া পরিস্থিতি সামগ্রিকভাবে বর্ষাকালীন বৈশিষ্ট্য বজায় রাখলেও এর সঙ্গে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বজ্রপাত এবং স্বল্পমেয়াদি বন্যার ঝুঁকিও থাকবে। ফলে নাগরিকদের আবহাওয়া সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য নিয়মিত অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা প্রকাশ করা হবে। তাই যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা প্রতিকূল আবহাওয়া মোকাবিলায় সবাইকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জুলাই মাসজুড়ে দেশের আবহাওয়া কেমন থাকবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ সবসময়ই বেশি থাকে। এবারও তাপমাত্রা বৃদ্ধি, সম্ভাব্য তাপপ্রবাহ, বজ্রপাত এবং বন্যার পূর্বাভাস দেশের আবহাওয়া পরিস্থিতিকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।