উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা তৈরি হয়েছে ভারী বৃষ্টিপাত ও নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার কারণে। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে হাওরাঞ্চলের নদীগুলোতে পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা স্থানীয় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও হবিগঞ্জ জেলার অন্তত সাতটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে নিম্নাঞ্চলগুলোতে জলাবদ্ধতা ও সম্ভাব্য বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় এই অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। নেত্রকোনার জারিয়াজঞ্জাইলে ৭৪ মিলিমিটার, হবিগঞ্জে ৭৪ মিলিমিটার এবং চাঁদপুর-বাগান এলাকায় ৬১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এই ধারাবাহিক বৃষ্টিপাতই নদীর পানির উচ্চতা বাড়ার প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সুনামগঞ্জের নলজুর নদীর পানি জগন্নাথপুর পয়েন্টে ৪০ সেন্টিমিটার ওপরে, নেত্রকোনার ধনু-বাউলাই নদী জারিয়াজঞ্জাইলে ৮ সেন্টিমিটার এবং সোমেশ্বরী নদী কলমাকান্দায় ৫০ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। পাশাপাশি ভুগাই-কংশ নদী, মগরা নদী এবং হবিগঞ্জের কালনী ও সুতাং নদীর পানিও বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, বর্তমানে নদীগুলোর পানি বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে ধীর হলেও এটি স্থায়ীভাবে বাড়ছে। প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ০ থেকে ১ সেন্টিমিটার করে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা দীর্ঘ সময় ধরে চললে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। বিশেষ করে হাওরাঞ্চলের নিম্নভূমিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন দেশের সব বিভাগেই দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণও হতে পারে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। নদীর তীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাওরাঞ্চলের প্রাকৃতিক জলাধারগুলো ইতোমধ্যে পূর্ণ হওয়ার পথে রয়েছে। ফলে অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে পানি দ্রুত নামতে না পারায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি হতে পারে। কৃষি জমি, বসতবাড়ি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
সব মিলিয়ে, বর্তমান আবহাওয়া পরিস্থিতি ও নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সতর্কতা ও প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।



























