আজ পহেলা মে, আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস—যা সারা বিশ্বে ‘মে দিবস’ নামেই বেশি পরিচিত। ১৮৮৬ সালের এই দিনে আমেরিকার শিকাগো শহরের হে মার্কেটে আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর পুলিশ গুলি চালালে বেশ কয়েকজন শ্রমিক প্রাণ হারান। তাঁদের সেই মহান আত্মত্যাগের স্মরণে ১৮৮৯ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে দিনটি পালিত হয়ে আসছে।
বাংলাদেশেও প্রতি বছরের ন্যায় এবারও যথাযথ ভাবগাম্ভীর্য ও মর্যাদার সাথে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের মে দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় হলো— “শ্রমিক-মালিক একতা, উন্নয়নের মূল লক্ষ্য”। মে দিবস উপলক্ষে দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে সাধারণ ছুটি পালন করা হচ্ছে।
দিবসের তাৎপর্য: শিকাগোর সেই আন্দোলনের ফলেই আজ বিশ্বব্যাপী শ্রমিকদের জন্য আট ঘণ্টা শ্রম সময় নির্ধারিত হয়েছে। মে দিবস কেবল একটি ছুটির দিন নয়, এটি শ্রমিকদের অধিকার সচেতনতা ও আত্মমর্যাদার প্রতীক। শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ন্যায্য মজুরি প্রদানই হোক এই দিনের প্রধান অঙ্গীকার।
কর্মসূচি: মে দিবস উপলক্ষে রাজধানীসহ সারা দেশে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় আগামীকাল দেশের সকল কলকারখানা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও অফিস-আদালত বন্ধ থাকবে।
শ্রমিক নেতাদের মতে, মে দিবস কেবল উৎসবের দিন নয়, বরং শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করার অঙ্গীকারের দিন। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে সংগতি রেখে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে আরও জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।


























