ঢাকা ০৫:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ: বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের Logo উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা: সাত নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, আবহাওয়া সতর্কতা জারি Logo বিএনপির সংরক্ষিত নারী এমপিদের শ্রদ্ধা: জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে দোয়া Logo নেত্রকোনায় ফসলের ক্ষতি: ৩১৩ কোটি টাকার ধানহানি ও ৬৯ হাজার কৃষকের দুর্ভোগ Logo ইরান যুক্তরাষ্ট্র শান্তি প্রস্তাব মূল্যায়ন করছে: যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক অগ্রগতি Logo সংরক্ষিত নারী এমপিদের শপথ, সংসদে নতুন অধ্যায় Logo আ.লীগের রাজনীতি ফেরার সুযোগ রাখা হচ্ছে: নাহিদ Logo কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ সিনেমা মৌসুমী নিয়ে বিতর্ক, ক্ষোভে ওমর সানী Logo ২০২৬ সালের ডিজিটাল মার্কেটিং ট্রেন্ড: AI ও GEO Logo গণভোট ইস্যুতে সরকারকে আক্রমণ, গোলাম পরওয়ারের বক্তব্য

নেত্রকোনায় ফসলের ক্ষতি: ৩১৩ কোটি টাকার ধানহানি ও ৬৯ হাজার কৃষকের দুর্ভোগ

  • Md Abdur Rahman
  • Update Time : ০৪:০৩:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
  • ৫০৪

নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলে পানিতে তলিয়ে যাওয়া ধানক্ষেত — ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনায় ফসলের ক্ষতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে চলতি মৌসুমে। অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার হাওরাঞ্চলসহ ১০টি উপজেলায় ব্যাপক ধানহানি হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ২২ হাজার ৩৪৮ হেক্টর জমির বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ৬৯ হাজার ৬৯৮ জন কৃষক সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েছেন এবং আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩১৩ কোটি টাকা। স্থানীয় কৃষকদের মতে, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ সরকারি হিসাবের চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে।

জানা গেছে, চলতি মৌসুমে নেত্রকোনায় প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছিল। হাওরাঞ্চলেই প্রায় ৪৫ হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা হয়, যা জেলার খাদ্য নিরাপত্তার প্রধান উৎস। সরকারি হিসাব অনুযায়ী ৬২ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হলেও হঠাৎ অতিবৃষ্টি ও নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে বাকি ধান পানিতে তলিয়ে যায়। কৃষকরা জানান, এখনও বিপুল পরিমাণ জমির ধান কাটা বাকি ছিল, কিন্তু পানি বৃদ্ধি ও সময়মতো যন্ত্র ব্যবহার করতে না পারায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে গেছে।

এবারের নেত্রকোনায় ফসলের ক্ষতি আরও বাড়িয়েছে বিভিন্ন কাঠামোগত সমস্যা। কৃষকদের অভিযোগ অনুযায়ী, ডিজেল সংকটের কারণে কম্বাইন হার্ভেস্টার ব্যবহার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি শ্রমিক সংকট এবং পানিবদ্ধ জমির কারণে ধান কাটা সম্ভব হয়নি। অপরিকল্পিত বেড়িবাঁধ নির্মাণ, খাল-বিল ভরাট এবং স্লুইসগেট অকেজো থাকায় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এতে হাওরের পানি দ্রুত নামতে না পেরে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ডুবে যায়।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, কংস ও উব্দাখালী নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। এদিকে কৃষকরা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অনেকেই ঋণ পরিশোধ ও পরিবারের দৈনন্দিন খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ এবং টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না করা গেলে ভবিষ্যতে নেত্রকোনায় ফসলের ক্ষতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ: বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের

নেত্রকোনায় ফসলের ক্ষতি: ৩১৩ কোটি টাকার ধানহানি ও ৬৯ হাজার কৃষকের দুর্ভোগ

Update Time : ০৪:০৩:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

নেত্রকোনায় ফসলের ক্ষতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে চলতি মৌসুমে। অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার হাওরাঞ্চলসহ ১০টি উপজেলায় ব্যাপক ধানহানি হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ২২ হাজার ৩৪৮ হেক্টর জমির বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ৬৯ হাজার ৬৯৮ জন কৃষক সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েছেন এবং আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩১৩ কোটি টাকা। স্থানীয় কৃষকদের মতে, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ সরকারি হিসাবের চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে।

আরও পড়ুন  হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার অনুমতি পায়নি বাংলাদেশি জাহাজ!

জানা গেছে, চলতি মৌসুমে নেত্রকোনায় প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছিল। হাওরাঞ্চলেই প্রায় ৪৫ হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা হয়, যা জেলার খাদ্য নিরাপত্তার প্রধান উৎস। সরকারি হিসাব অনুযায়ী ৬২ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হলেও হঠাৎ অতিবৃষ্টি ও নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে বাকি ধান পানিতে তলিয়ে যায়। কৃষকরা জানান, এখনও বিপুল পরিমাণ জমির ধান কাটা বাকি ছিল, কিন্তু পানি বৃদ্ধি ও সময়মতো যন্ত্র ব্যবহার করতে না পারায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে গেছে।

আরও পড়ুন  এডিবির বড় অঙ্কের ঋণ অনুমোদন, বিস্তৃত হচ্ছে নারীদের সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি

এবারের নেত্রকোনায় ফসলের ক্ষতি আরও বাড়িয়েছে বিভিন্ন কাঠামোগত সমস্যা। কৃষকদের অভিযোগ অনুযায়ী, ডিজেল সংকটের কারণে কম্বাইন হার্ভেস্টার ব্যবহার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি শ্রমিক সংকট এবং পানিবদ্ধ জমির কারণে ধান কাটা সম্ভব হয়নি। অপরিকল্পিত বেড়িবাঁধ নির্মাণ, খাল-বিল ভরাট এবং স্লুইসগেট অকেজো থাকায় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এতে হাওরের পানি দ্রুত নামতে না পেরে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ডুবে যায়।

আরও পড়ুন  বিশ্ববাজারে দাম কমলেও দেশে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, উদ্বেগ প্রকাশ জামায়াত আমিরের

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, কংস ও উব্দাখালী নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। এদিকে কৃষকরা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অনেকেই ঋণ পরিশোধ ও পরিবারের দৈনন্দিন খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ এবং টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না করা গেলে ভবিষ্যতে নেত্রকোনায় ফসলের ক্ষতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।