ঢাকা ০৩:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে আদালত: ডা. জাহেদ Logo পাইলস কেন হয়? অপারেশন ছাড়াই কি ভালো হয় জানুন Logo তেলের দাম কমেছে: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনায় বিশ্ববাজারে স্বস্তি Logo হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করবে ইরান: যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরবে না, বললেন গালিবাফ Logo আশুরা নিয়ে প্রচলিত ১১ ভুল ধারণা ও ইসলামের সঠিক দিকনির্দেশনা Logo রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ: দারুণ ১ উদ্যোগে বিদ্যুৎ লক্ষ্যমাত্রায় বড় ভরসা Logo আমির খানের তৃতীয় বিয়ে! চমকপ্রদ ১ প্রশ্নে তোলপাড় ভক্তরা Logo কোয়ান্টাম কম্পিউটার নির্মাণে গতি বাড়ানোর নির্দেশ ট্রাম্পের Logo বিজিএমইএ-ইন্টারটেক বৈঠক: টেকসই উন্নয়নে ৫ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার Logo কাতারে গ্যাস স্থাপনায় বিস্ফোরণে নিহত ১৩, আহত ৬৬

নেত্রকোনায় ফসলের ক্ষতি: ৩১৩ কোটি টাকার ধানহানি ও ৬৯ হাজার কৃষকের দুর্ভোগ

নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলে পানিতে তলিয়ে যাওয়া ধানক্ষেত — ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনায় ফসলের ক্ষতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে চলতি মৌসুমে। অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার হাওরাঞ্চলসহ ১০টি উপজেলায় ব্যাপক ধানহানি হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ২২ হাজার ৩৪৮ হেক্টর জমির বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ৬৯ হাজার ৬৯৮ জন কৃষক সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েছেন এবং আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩১৩ কোটি টাকা। স্থানীয় কৃষকদের মতে, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ সরকারি হিসাবের চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে।

জানা গেছে, চলতি মৌসুমে নেত্রকোনায় প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছিল। হাওরাঞ্চলেই প্রায় ৪৫ হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা হয়, যা জেলার খাদ্য নিরাপত্তার প্রধান উৎস। সরকারি হিসাব অনুযায়ী ৬২ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হলেও হঠাৎ অতিবৃষ্টি ও নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে বাকি ধান পানিতে তলিয়ে যায়। কৃষকরা জানান, এখনও বিপুল পরিমাণ জমির ধান কাটা বাকি ছিল, কিন্তু পানি বৃদ্ধি ও সময়মতো যন্ত্র ব্যবহার করতে না পারায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে গেছে।

এবারের নেত্রকোনায় ফসলের ক্ষতি আরও বাড়িয়েছে বিভিন্ন কাঠামোগত সমস্যা। কৃষকদের অভিযোগ অনুযায়ী, ডিজেল সংকটের কারণে কম্বাইন হার্ভেস্টার ব্যবহার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি শ্রমিক সংকট এবং পানিবদ্ধ জমির কারণে ধান কাটা সম্ভব হয়নি। অপরিকল্পিত বেড়িবাঁধ নির্মাণ, খাল-বিল ভরাট এবং স্লুইসগেট অকেজো থাকায় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এতে হাওরের পানি দ্রুত নামতে না পেরে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ডুবে যায়।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, কংস ও উব্দাখালী নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। এদিকে কৃষকরা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অনেকেই ঋণ পরিশোধ ও পরিবারের দৈনন্দিন খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ এবং টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না করা গেলে ভবিষ্যতে নেত্রকোনায় ফসলের ক্ষতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে আদালত: ডা. জাহেদ

নেত্রকোনায় ফসলের ক্ষতি: ৩১৩ কোটি টাকার ধানহানি ও ৬৯ হাজার কৃষকের দুর্ভোগ

Update Time : ০৪:০৩:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

নেত্রকোনায় ফসলের ক্ষতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে চলতি মৌসুমে। অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার হাওরাঞ্চলসহ ১০টি উপজেলায় ব্যাপক ধানহানি হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ২২ হাজার ৩৪৮ হেক্টর জমির বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ৬৯ হাজার ৬৯৮ জন কৃষক সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েছেন এবং আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩১৩ কোটি টাকা। স্থানীয় কৃষকদের মতে, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ সরকারি হিসাবের চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে।

আরও পড়ুন  মাছের বাজারে আগুন, রাজধানীতে স্বস্তি কেবল সবজিতে

জানা গেছে, চলতি মৌসুমে নেত্রকোনায় প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছিল। হাওরাঞ্চলেই প্রায় ৪৫ হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা হয়, যা জেলার খাদ্য নিরাপত্তার প্রধান উৎস। সরকারি হিসাব অনুযায়ী ৬২ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হলেও হঠাৎ অতিবৃষ্টি ও নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে বাকি ধান পানিতে তলিয়ে যায়। কৃষকরা জানান, এখনও বিপুল পরিমাণ জমির ধান কাটা বাকি ছিল, কিন্তু পানি বৃদ্ধি ও সময়মতো যন্ত্র ব্যবহার করতে না পারায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে গেছে।

আরও পড়ুন  আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণ-রুপার দামে বড় পতন, উদ্বেগে বিনিয়োগকারীরা

এবারের নেত্রকোনায় ফসলের ক্ষতি আরও বাড়িয়েছে বিভিন্ন কাঠামোগত সমস্যা। কৃষকদের অভিযোগ অনুযায়ী, ডিজেল সংকটের কারণে কম্বাইন হার্ভেস্টার ব্যবহার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি শ্রমিক সংকট এবং পানিবদ্ধ জমির কারণে ধান কাটা সম্ভব হয়নি। অপরিকল্পিত বেড়িবাঁধ নির্মাণ, খাল-বিল ভরাট এবং স্লুইসগেট অকেজো থাকায় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এতে হাওরের পানি দ্রুত নামতে না পেরে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ডুবে যায়।

আরও পড়ুন  নীলফামারীতে কোল্ড স্টোরেজ ভাড়া কমানোর দাবিতে মানববন্ধন

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, কংস ও উব্দাখালী নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। এদিকে কৃষকরা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অনেকেই ঋণ পরিশোধ ও পরিবারের দৈনন্দিন খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ এবং টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না করা গেলে ভবিষ্যতে নেত্রকোনায় ফসলের ক্ষতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।