ঢাকা ০১:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ: দারুণ ১ উদ্যোগে বিদ্যুৎ লক্ষ্যমাত্রায় বড় ভরসা

ভবনের ছাদে স্থাপিত সৌর প্যানেল থেকে উৎপাদিত হচ্ছে বিদ্যুৎ। ছবি: সংগৃহীত

রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ এখন বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে নতুন আশার নাম হয়ে উঠছে। রাজধানীর বিভিন্ন ভবনের একসময় অব্যবহৃত ছাদগুলো ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কার্যকর কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত জলবায়ু বাজেট প্রতিবেদন ২০২৬-২৭ অনুযায়ী, আগারগাঁওয়ের বিনিয়োগ ভবনের ছাদে স্থাপিত একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প দেখিয়ে দিয়েছে কীভাবে নগর এলাকার অব্যবহৃত স্থানকে বিদ্যুৎ, আয় এবং পরিবেশ সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ সম্পদে পরিণত করা যায়।

জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়িত এই প্রকল্পটি বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ভবনে স্থাপন করা হয়েছে। ১৫০ কিলোওয়াট-পিক ক্ষমতার এই কেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (ডেসকো)। প্রকল্প বাস্তবায়নে বিডা শুধু ছাদের জায়গা দিয়েছে, আর প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ ও পরিচালনা ব্যয় বহন করছে ডেসকো। ফলে সরকারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ ছাড়াই নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। মাসিক উৎপাদন দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১৫ হাজার ইউনিটে। শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনই নয়, বছরে আনুমানিক ১৫০ থেকে ১৮০ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণও কমানো যাচ্ছে। প্রকল্পটির রাজস্ব বণ্টন ব্যবস্থাও উল্লেখযোগ্য। উৎপাদিত বিদ্যুতের ১০ শতাংশ সুবিধা পাচ্ছে বিডা, আর বাকি ৯০ শতাংশ ও সম্ভাব্য কার্বন ক্রেডিটের সুবিধা থাকছে ডেসকোর কাছে।

অর্থনৈতিক দিক থেকেও প্রকল্পটি বেশ লাভজনক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রায় ৫০ লাখ টাকা বিনিয়োগে স্থাপিত এই কেন্দ্র থেকে বছরে ১৪ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই হিসাবে মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যেই বিনিয়োগের পুরো অর্থ ফেরত পাওয়া সম্ভব। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই আর্থিক সফলতা দেশের অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি ভবনেও একই ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের পথকে আরও সহজ করে তুলবে।

জলবায়ু বাজেট প্রতিবেদন ২০২৬-২৭-এ জলবায়ু অর্থায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশ বর্তমানে এমন এক পর্যায়ে রয়েছে যেখানে জলবায়ু ঝুঁকি এবং টেকসই উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ একসঙ্গে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তার মতে, জলবায়ু অর্থায়ন শুধু সহায়তা নয়, বরং এটি সহনশীলতা বৃদ্ধি, উদ্ভাবন এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।

সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে ২০৫০ সালের মধ্যে এই হার ৩০ থেকে ৫০ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প সম্প্রসারণ, বায়ু বিদ্যুৎ উন্নয়ন, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং দেশীয়ভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরঞ্জাম তৈরিতে নানা প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিনিয়োগ ভবনের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতের সবুজ ও টেকসই বাংলাদেশের একটি বাস্তব মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ: দারুণ ১ উদ্যোগে বিদ্যুৎ লক্ষ্যমাত্রায় বড় ভরসা

Update Time : ১১:৪৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ এখন বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে নতুন আশার নাম হয়ে উঠছে। রাজধানীর বিভিন্ন ভবনের একসময় অব্যবহৃত ছাদগুলো ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কার্যকর কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত জলবায়ু বাজেট প্রতিবেদন ২০২৬-২৭ অনুযায়ী, আগারগাঁওয়ের বিনিয়োগ ভবনের ছাদে স্থাপিত একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প দেখিয়ে দিয়েছে কীভাবে নগর এলাকার অব্যবহৃত স্থানকে বিদ্যুৎ, আয় এবং পরিবেশ সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ সম্পদে পরিণত করা যায়।

জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়িত এই প্রকল্পটি বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ভবনে স্থাপন করা হয়েছে। ১৫০ কিলোওয়াট-পিক ক্ষমতার এই কেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (ডেসকো)। প্রকল্প বাস্তবায়নে বিডা শুধু ছাদের জায়গা দিয়েছে, আর প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ ও পরিচালনা ব্যয় বহন করছে ডেসকো। ফলে সরকারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ ছাড়াই নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে।

আরও পড়ুন  তৃতীয় টার্মিনাল চালুতে ধাপে ধাপে এগোচ্ছে পরিকল্পনা, জানাল বেবিচক

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। মাসিক উৎপাদন দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১৫ হাজার ইউনিটে। শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনই নয়, বছরে আনুমানিক ১৫০ থেকে ১৮০ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণও কমানো যাচ্ছে। প্রকল্পটির রাজস্ব বণ্টন ব্যবস্থাও উল্লেখযোগ্য। উৎপাদিত বিদ্যুতের ১০ শতাংশ সুবিধা পাচ্ছে বিডা, আর বাকি ৯০ শতাংশ ও সম্ভাব্য কার্বন ক্রেডিটের সুবিধা থাকছে ডেসকোর কাছে।

অর্থনৈতিক দিক থেকেও প্রকল্পটি বেশ লাভজনক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রায় ৫০ লাখ টাকা বিনিয়োগে স্থাপিত এই কেন্দ্র থেকে বছরে ১৪ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই হিসাবে মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যেই বিনিয়োগের পুরো অর্থ ফেরত পাওয়া সম্ভব। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই আর্থিক সফলতা দেশের অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি ভবনেও একই ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের পথকে আরও সহজ করে তুলবে।

আরও পড়ুন  জ্বালানি সংকট প্রভাব: জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি বিশ্লেষণ

জলবায়ু বাজেট প্রতিবেদন ২০২৬-২৭-এ জলবায়ু অর্থায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশ বর্তমানে এমন এক পর্যায়ে রয়েছে যেখানে জলবায়ু ঝুঁকি এবং টেকসই উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ একসঙ্গে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তার মতে, জলবায়ু অর্থায়ন শুধু সহায়তা নয়, বরং এটি সহনশীলতা বৃদ্ধি, উদ্ভাবন এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।

আরও পড়ুন  নেত্রকোনায় ফসলের ক্ষতি: ৩১৩ কোটি টাকার ধানহানি ও ৬৯ হাজার কৃষকের দুর্ভোগ

সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে ২০৫০ সালের মধ্যে এই হার ৩০ থেকে ৫০ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প সম্প্রসারণ, বায়ু বিদ্যুৎ উন্নয়ন, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং দেশীয়ভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরঞ্জাম তৈরিতে নানা প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিনিয়োগ ভবনের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতের সবুজ ও টেকসই বাংলাদেশের একটি বাস্তব মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে।