ঢাকা ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল: চট্টগ্রাম চেম্বারের জরুরি দাবি

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:৩৩:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৫

গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে বাড়তি সময় চায় চট্টগ্রাম চেম্বার। | ছবি: সংগৃহীত

গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে বাড়তি সময় এবং ব্যাংকঋণের কিস্তি সাময়িক স্থগিতের দাবি জানিয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে দেশের শিল্পকারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় এমন বিশেষ সুবিধা চেয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের প্রস্তাব, সাময়িক বকেয়ার কারণে কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠানের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। পাশাপাশি জরিমানা ছাড়া বিল পরিশোধের জন্য ৯০ দিন সময় দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। শিল্প খাতের চলমান সংকট তুলে ধরে শনিবার সরকারের সংশ্লিষ্ট দুই মন্ত্রীর কাছে আলাদা চিঠি পাঠিয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বার।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হকের সই করা চিঠি দুটি পাঠানো হয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহে অনিশ্চয়তার কারণে তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন খাতের ছোট-বড় শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ায় কোনো কোনো কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, আবার কিছু প্রতিষ্ঠান কার্যত লে-অফের মতো পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে। ফলে ব্যবসায়ীদের ওপর একসঙ্গে কয়েক দিক থেকে চাপ তৈরি হয়েছে।

উৎপাদন কমে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিক্রি ও রপ্তানি আয়ে। চট্টগ্রাম চেম্বারের ভাষ্য, অনেক উদ্যোক্তার জন্য এখন নিয়মিত খরচ চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন, ব্যাংকঋণের সুদ, বিভিন্ন পরিষেবা বিল এবং দৈনন্দিন পরিচালন ব্যয় মেটাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁদের। অন্যদিকে উৎপাদন কমলেও কারখানার স্থায়ী ব্যয় কমছে না। ফলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সামনের কয়েক মাসও এই আর্থিক চাপ সামলাতে হতে পারে। এমন অবস্থায় নিয়মিত গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের সময়সীমা কিছুটা শিথিল করার দাবি উঠেছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রীর কাছে পাঠানো চিঠিতে চট্টগ্রাম চেম্বার মূলত দুটি সুবিধা চেয়েছে। প্রথমত, সাময়িক বকেয়ার কারণে কোনো শিল্পকারখানার গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করার অনুরোধ করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, আগামী ছয় মাস পর্যন্ত মাসিক বিল পরিশোধের বর্তমান নিয়ম শিথিল করে জরিমানা ছাড়া ৯০ দিন সময় দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীদের মতে, এতে সাময়িক আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে এবং উৎপাদন সচল রাখার সুযোগ পাবেন উদ্যোক্তারা। কারণ বিদ্যুৎ বা গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে একটি কারখানা আবার চালু করতে বাড়তি সময় ও অর্থ দুটোই প্রয়োজন হয়।

অন্যদিকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর কাছে পাঠানো চিঠিতে ব্যাংকঋণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। চট্টগ্রাম চেম্বার বলেছে, উৎপাদন ও বিক্রি কমে যাওয়ার এই সময়ে উদ্যোক্তাদের যদি ঋণের উচ্চ সুদ ও নিয়মিত কিস্তির চাপও সামলাতে হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠবে। তাই রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানাসহ সব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য ব্যাংকঋণের সুদ মওকুফ এবং ঋণের কিস্তি অন্তত তিন মাস স্থগিত রাখার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, সংকটের সময় সহায়তা না পেলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

চট্টগ্রাম চেম্বারের এই দাবির মূল লক্ষ্য হলো সংকটের সময়ে শিল্পকারখানাগুলোকে টিকে থাকার সুযোগ দেওয়া। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিল ও ঋণের কিস্তির ক্ষেত্রে সাময়িক ছাড় দিলে উদ্যোক্তারা উৎপাদন ধরে রাখার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে এতে কর্মসংস্থান ও রপ্তানি কার্যক্রমও তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হতে পারে। এখন সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো শিল্পমালিকদের এই প্রস্তাব কীভাবে বিবেচনা করে, সেটিই দেখার বিষয়। জ্বালানি সংকটের মধ্যে ব্যবসায়ীদের এই দাবি বাস্তবায়িত হলে চাপের মুখে থাকা শিল্প খাত কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল: চট্টগ্রাম চেম্বারের জরুরি দাবি

Update Time : ১১:৩৩:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে বাড়তি সময় এবং ব্যাংকঋণের কিস্তি সাময়িক স্থগিতের দাবি জানিয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে দেশের শিল্পকারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় এমন বিশেষ সুবিধা চেয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের প্রস্তাব, সাময়িক বকেয়ার কারণে কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠানের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। পাশাপাশি জরিমানা ছাড়া বিল পরিশোধের জন্য ৯০ দিন সময় দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। শিল্প খাতের চলমান সংকট তুলে ধরে শনিবার সরকারের সংশ্লিষ্ট দুই মন্ত্রীর কাছে আলাদা চিঠি পাঠিয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বার।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হকের সই করা চিঠি দুটি পাঠানো হয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহে অনিশ্চয়তার কারণে তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন খাতের ছোট-বড় শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ায় কোনো কোনো কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, আবার কিছু প্রতিষ্ঠান কার্যত লে-অফের মতো পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে। ফলে ব্যবসায়ীদের ওপর একসঙ্গে কয়েক দিক থেকে চাপ তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন  গ্যাস সংকটে চট্টগ্রাম, সারারাত লাইনে দাঁড়িয়ে মিলছে অল্প গ্যাস

উৎপাদন কমে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিক্রি ও রপ্তানি আয়ে। চট্টগ্রাম চেম্বারের ভাষ্য, অনেক উদ্যোক্তার জন্য এখন নিয়মিত খরচ চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন, ব্যাংকঋণের সুদ, বিভিন্ন পরিষেবা বিল এবং দৈনন্দিন পরিচালন ব্যয় মেটাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁদের। অন্যদিকে উৎপাদন কমলেও কারখানার স্থায়ী ব্যয় কমছে না। ফলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সামনের কয়েক মাসও এই আর্থিক চাপ সামলাতে হতে পারে। এমন অবস্থায় নিয়মিত গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের সময়সীমা কিছুটা শিথিল করার দাবি উঠেছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রীর কাছে পাঠানো চিঠিতে চট্টগ্রাম চেম্বার মূলত দুটি সুবিধা চেয়েছে। প্রথমত, সাময়িক বকেয়ার কারণে কোনো শিল্পকারখানার গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করার অনুরোধ করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, আগামী ছয় মাস পর্যন্ত মাসিক বিল পরিশোধের বর্তমান নিয়ম শিথিল করে জরিমানা ছাড়া ৯০ দিন সময় দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীদের মতে, এতে সাময়িক আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে এবং উৎপাদন সচল রাখার সুযোগ পাবেন উদ্যোক্তারা। কারণ বিদ্যুৎ বা গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে একটি কারখানা আবার চালু করতে বাড়তি সময় ও অর্থ দুটোই প্রয়োজন হয়।

আরও পড়ুন  বড় সুখবর,বিনিয়োগে আস্থা ফেরাতে স্থিতিশীলতার বার্তা

অন্যদিকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর কাছে পাঠানো চিঠিতে ব্যাংকঋণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। চট্টগ্রাম চেম্বার বলেছে, উৎপাদন ও বিক্রি কমে যাওয়ার এই সময়ে উদ্যোক্তাদের যদি ঋণের উচ্চ সুদ ও নিয়মিত কিস্তির চাপও সামলাতে হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠবে। তাই রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানাসহ সব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য ব্যাংকঋণের সুদ মওকুফ এবং ঋণের কিস্তি অন্তত তিন মাস স্থগিত রাখার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, সংকটের সময় সহায়তা না পেলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

আরও পড়ুন  উত্তরাঞ্চলে বিনিয়োগ: বাধা দূর, উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান

চট্টগ্রাম চেম্বারের এই দাবির মূল লক্ষ্য হলো সংকটের সময়ে শিল্পকারখানাগুলোকে টিকে থাকার সুযোগ দেওয়া। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিল ও ঋণের কিস্তির ক্ষেত্রে সাময়িক ছাড় দিলে উদ্যোক্তারা উৎপাদন ধরে রাখার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে এতে কর্মসংস্থান ও রপ্তানি কার্যক্রমও তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হতে পারে। এখন সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো শিল্পমালিকদের এই প্রস্তাব কীভাবে বিবেচনা করে, সেটিই দেখার বিষয়। জ্বালানি সংকটের মধ্যে ব্যবসায়ীদের এই দাবি বাস্তবায়িত হলে চাপের মুখে থাকা শিল্প খাত কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে।