ঢাকা ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঠান্ডা চা বারবার গরম করে খাচ্ছেন? জেনে নিন ক্ষতি

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:৪৪:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৩

ঠান্ডা হয়ে যাওয়া চা বারবার গরম না করে প্রয়োজন অনুযায়ী টাটকা চা তৈরি করে পান করাই ভালো।

ঠান্ডা চা বারবার গরম করে খাচ্ছেন? জেনে নিন কতটা ক্ষতিকর

দিনভর ব্যস্ততা, অফিসের কাজ কিংবা আড্ডার ফাঁকে এক কাপ চা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক। অনেকেই তখন সেই চা আবার গরম করে পান করেন। চায়ের দোকানেও কখনো একই চা বারবার গরম বা ফুটিয়ে পরিবেশন করা হয়। তবে অভ্যাসটি স্বাস্থ্যের জন্য কতটা নিরাপদ, তা জানা জরুরি।

ঠান্ডা হয়ে যাওয়া চা বারবার গরম করলে স্বাদ ও গন্ধ নষ্ট হতে পারে। একই সঙ্গে চায়ের কিছু উপকারী উপাদানের কার্যকারিতাও কমে যেতে পারে। বিশেষ করে দুধ-চা দীর্ঘ সময় রেখে পরে গরম করে পান করলে জীবাণু বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই চা সংরক্ষণ ও পুনরায় গরম করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

চায়ের অন্যতম উপকারী উপাদান হলো পলিফেনল ও ক্যাটেচিনজাতীয় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এগুলো শরীরকে ক্ষতিকর অক্সিডেটিভ চাপ থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে। তবে চা দীর্ঘ সময় গরম রাখা বা বারবার ফুটানোর ফলে এসব উপাদানের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। ফলে তাজা চায়ের তুলনায় পুনরায় গরম করা চা থেকে প্রত্যাশিত উপকার কম মিলতে পারে।

বারবার গরম করা চায়ের স্বাদেও পরিবর্তন আসে। দীর্ঘ সময় তাপে রাখলে চায়ে থাকা ট্যানিনের স্বাদ বেশি প্রকট হয়ে উঠতে পারে। ফলে চা তিতা বা কষাটে লাগতে পারে এবং এর স্বাভাবিক ঘ্রাণও নষ্ট হয়। একই সঙ্গে ক্যাফিনের স্বাদ তুলনামূলক তীব্র মনে হওয়ায় কারও কারও অস্বস্তি হতে পারে।

দুধ-চায়ের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। দুধযুক্ত চা দীর্ঘ সময় কক্ষের তাপমাত্রায় রেখে দিলে তাতে জীবাণু দ্রুত বাড়তে পারে। পরে চা ভালোভাবে গরম করলেও সব ধরনের ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। বিশেষ করে গরম আবহাওয়ায় দীর্ঘ সময় রেখে দেওয়া দুধ-চা পান করা এড়িয়ে চলা ভালো।

দীর্ঘ সময় বাইরে রাখা দুধ-চা পান করলে কিছু ক্ষেত্রে পেটের অস্বস্তি, বমি, পাতলা পায়খানা বা খাদ্যবাহিত সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই দুধ-চা তৈরি করার পর দ্রুত পান করাই নিরাপদ। চা অনেকক্ষণ রেখে দেওয়ার প্রয়োজন হলে সংরক্ষণের পদ্ধতিও বিবেচনা করা উচিত।

বারবার গরম করা চা কিছু মানুষের হজমের সমস্যাও বাড়িয়ে দিতে পারে। চায়ের স্বাভাবিক গঠনে পরিবর্তন ও অতিরিক্ত তাপের কারণে কারও অম্লতা, বুকজ্বালা বা বদহজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। যাদের আগে থেকেই গ্যাস্ট্রিক বা অম্লতার প্রবণতা রয়েছে, তাদের দীর্ঘ সময় রাখা বা বারবার গরম করা চা এড়িয়ে চলা ভালো।

একবারে বেশি চা তৈরি করার প্রয়োজন হলে দীর্ঘ সময় চুলায় ফুটিয়ে না রেখে তাপ ধরে রাখে এমন পাত্রে রাখা যেতে পারে। এতে বারবার চা গরম করার প্রয়োজন কমে। তবে দুধ-চায়ের ক্ষেত্রে এভাবে দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ না করে যত দ্রুত সম্ভব পান করাই ভালো।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, চা তৈরির ১৫ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে পান করলে এর স্বাদ, গন্ধ ও উপকারী উপাদান অনেকটাই অক্ষুণ্ন থাকে। তাই একবারে বেশি চা তৈরি করে বারবার গরম করার বদলে প্রয়োজন অনুযায়ী অল্প পরিমাণে চা তৈরি করা ভালো। এতে স্বাদও ভালো থাকবে, পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যঝুঁকিও কমানো সম্ভব।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঠান্ডা চা বারবার গরম করে খাচ্ছেন? জেনে নিন ক্ষতি

Update Time : ১১:৪৪:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

ঠান্ডা চা বারবার গরম করে খাচ্ছেন? জেনে নিন কতটা ক্ষতিকর

দিনভর ব্যস্ততা, অফিসের কাজ কিংবা আড্ডার ফাঁকে এক কাপ চা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক। অনেকেই তখন সেই চা আবার গরম করে পান করেন। চায়ের দোকানেও কখনো একই চা বারবার গরম বা ফুটিয়ে পরিবেশন করা হয়। তবে অভ্যাসটি স্বাস্থ্যের জন্য কতটা নিরাপদ, তা জানা জরুরি।

ঠান্ডা হয়ে যাওয়া চা বারবার গরম করলে স্বাদ ও গন্ধ নষ্ট হতে পারে। একই সঙ্গে চায়ের কিছু উপকারী উপাদানের কার্যকারিতাও কমে যেতে পারে। বিশেষ করে দুধ-চা দীর্ঘ সময় রেখে পরে গরম করে পান করলে জীবাণু বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই চা সংরক্ষণ ও পুনরায় গরম করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন  আফগানি কড়াই মটন রেসিপি: রেস্তোরাঁর স্বাদ এবার ঘরেই

চায়ের অন্যতম উপকারী উপাদান হলো পলিফেনল ও ক্যাটেচিনজাতীয় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এগুলো শরীরকে ক্ষতিকর অক্সিডেটিভ চাপ থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে। তবে চা দীর্ঘ সময় গরম রাখা বা বারবার ফুটানোর ফলে এসব উপাদানের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। ফলে তাজা চায়ের তুলনায় পুনরায় গরম করা চা থেকে প্রত্যাশিত উপকার কম মিলতে পারে।

বারবার গরম করা চায়ের স্বাদেও পরিবর্তন আসে। দীর্ঘ সময় তাপে রাখলে চায়ে থাকা ট্যানিনের স্বাদ বেশি প্রকট হয়ে উঠতে পারে। ফলে চা তিতা বা কষাটে লাগতে পারে এবং এর স্বাভাবিক ঘ্রাণও নষ্ট হয়। একই সঙ্গে ক্যাফিনের স্বাদ তুলনামূলক তীব্র মনে হওয়ায় কারও কারও অস্বস্তি হতে পারে।

দুধ-চায়ের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। দুধযুক্ত চা দীর্ঘ সময় কক্ষের তাপমাত্রায় রেখে দিলে তাতে জীবাণু দ্রুত বাড়তে পারে। পরে চা ভালোভাবে গরম করলেও সব ধরনের ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। বিশেষ করে গরম আবহাওয়ায় দীর্ঘ সময় রেখে দেওয়া দুধ-চা পান করা এড়িয়ে চলা ভালো।

আরও পড়ুন  প্রেশার কুকারে তেজপাতা দিলে কি বিস্ফোরণ হতে পারে?

দীর্ঘ সময় বাইরে রাখা দুধ-চা পান করলে কিছু ক্ষেত্রে পেটের অস্বস্তি, বমি, পাতলা পায়খানা বা খাদ্যবাহিত সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই দুধ-চা তৈরি করার পর দ্রুত পান করাই নিরাপদ। চা অনেকক্ষণ রেখে দেওয়ার প্রয়োজন হলে সংরক্ষণের পদ্ধতিও বিবেচনা করা উচিত।

বারবার গরম করা চা কিছু মানুষের হজমের সমস্যাও বাড়িয়ে দিতে পারে। চায়ের স্বাভাবিক গঠনে পরিবর্তন ও অতিরিক্ত তাপের কারণে কারও অম্লতা, বুকজ্বালা বা বদহজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। যাদের আগে থেকেই গ্যাস্ট্রিক বা অম্লতার প্রবণতা রয়েছে, তাদের দীর্ঘ সময় রাখা বা বারবার গরম করা চা এড়িয়ে চলা ভালো।

আরও পড়ুন  গভীর ঘুমের উপায়: চিকিৎসকের কার্যকর পরামর্শ

একবারে বেশি চা তৈরি করার প্রয়োজন হলে দীর্ঘ সময় চুলায় ফুটিয়ে না রেখে তাপ ধরে রাখে এমন পাত্রে রাখা যেতে পারে। এতে বারবার চা গরম করার প্রয়োজন কমে। তবে দুধ-চায়ের ক্ষেত্রে এভাবে দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ না করে যত দ্রুত সম্ভব পান করাই ভালো।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, চা তৈরির ১৫ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে পান করলে এর স্বাদ, গন্ধ ও উপকারী উপাদান অনেকটাই অক্ষুণ্ন থাকে। তাই একবারে বেশি চা তৈরি করে বারবার গরম করার বদলে প্রয়োজন অনুযায়ী অল্প পরিমাণে চা তৈরি করা ভালো। এতে স্বাদও ভালো থাকবে, পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যঝুঁকিও কমানো সম্ভব।