ঢাকা ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টিম কুকের বিদায়, ১৫ বছর পর অ্যাপলের নতুন সিইও

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:৪৭:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৬৮০

টিম কুকের স্থলাভিষিক্ত হয়ে অ্যাপলের সিইওর দায়িত্ব নিয়েছেন জন টার্নাস। ছবি: সংগৃহীত

টিম কুকের বিদায়ের মধ্য দিয়ে অ্যাপলের ইতিহাসে শেষ হলো দীর্ঘ ১৫ বছরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ৩১ আগস্ট ছিল প্রযুক্তি জায়ান্টটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তার শেষ কর্মদিবস। এরপর থেকে অ্যাপলের নেতৃত্বে নতুন যুগের সূচনা হয়েছে।

সিইও হিসেবে দায়িত্ব ছাড়ার আগে অ্যাপল পরিবারের প্রতি আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন টিম কুক। কর্মীদের প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেছেন, তার পদবি বদলে গেলেও অ্যাপলের প্রতি ভালোবাসা কখনো বদলাবে না। নতুন একটি অধ্যায় শুরু করতে তিনি উচ্ছ্বসিত বলেও জানিয়েছেন।

২০১১ সালের আগস্টে স্টিভ জবসের কাছ থেকে অ্যাপলের প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব নেন টিম কুক। পরবর্তী প্রায় ১৫ বছর তিনি বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্ব দিয়েছেন। অ্যাপলের আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর থেকে কুক নির্বাহী চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকবেন এবং জন টার্নাস সিইও হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন।

টিম কুকের বিদায় মানে অবশ্য অ্যাপল থেকে পুরোপুরি সরে যাওয়া নয়। নতুন দায়িত্বে তিনি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভূমিকা রাখবেন। বিশেষ করে বিশ্বজুড়ে নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে যোগাযোগসহ কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ে তিনি প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা করবেন বলে অ্যাপল জানিয়েছে।

কুকের নেতৃত্বে অ্যাপলের পণ্য ও ব্যবসায় বড় পরিবর্তন এসেছে। এ সময় এয়ারপডস ও অ্যাপল ওয়াচের মতো জনপ্রিয় পণ্য প্রতিষ্ঠানটির পণ্যভান্ডারকে আরও বিস্তৃত করেছে। ম্যাক কম্পিউটারে নিজস্ব অ্যাপল সিলিকন চিপের ব্যবহারও প্রযুক্তি খাতে অ্যাপলের অবস্থানকে নতুনভাবে শক্তিশালী করেছে।

ব্যবসায়িক দিক থেকেও টিম কুকের সময়টি ছিল অত্যন্ত সফল। তার নেতৃত্বে অ্যাপলের বাজারমূল্য কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারের পর্যায়ে পৌঁছায়। একই সময়ে সরবরাহব্যবস্থা, বৈশ্বিক বাণিজ্য উত্তেজনা এবং দ্রুত বদলে যাওয়া প্রযুক্তি বাজারের মতো বড় চ্যালেঞ্জও সামলাতে হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিকে।

টিম কুকের বিদায়ের পর অ্যাপলের নতুন সিইও হয়েছেন জন টার্নাস। দীর্ঘদিন ধরে অ্যাপলের হার্ডওয়্যার প্রকৌশল বিভাগের নেতৃত্ব দেওয়া টার্নাস এখন বিশ্বের অন্যতম বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নিয়েছেন। নতুন নেতৃত্বের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রতিযোগিতায় অ্যাপলকে এগিয়ে নেওয়া।

অ্যাপলের নতুন নেতৃত্বের প্রথম বড় পরীক্ষাও খুব দূরে নয়। সেপ্টেম্বরের পণ্য উন্মোচন অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে টার্নাসের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি নতুন পণ্যের যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। ফলে টিম কুকের বিদায়ের পর অ্যাপলের ভবিষ্যৎ কোন পথে এগোয়, সেদিকেও প্রযুক্তি বিশ্বের নজর থাকবে।

১৫ বছরের নেতৃত্ব শেষে টিম কুকের বিদায় তাই শুধু একজন সিইওর দায়িত্ব পরিবর্তন নয়, অ্যাপলের ইতিহাসে একটি যুগের সমাপ্তি। নতুন দায়িত্বে কুক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে থাকছেন, অন্যদিকে জন টার্নাসের নেতৃত্বে শুরু হচ্ছে অ্যাপলের নতুন অধ্যায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

টিম কুকের বিদায়, ১৫ বছর পর অ্যাপলের নতুন সিইও

Update Time : ১১:৪৭:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টিম কুকের বিদায়ের মধ্য দিয়ে অ্যাপলের ইতিহাসে শেষ হলো দীর্ঘ ১৫ বছরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ৩১ আগস্ট ছিল প্রযুক্তি জায়ান্টটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তার শেষ কর্মদিবস। এরপর থেকে অ্যাপলের নেতৃত্বে নতুন যুগের সূচনা হয়েছে।

সিইও হিসেবে দায়িত্ব ছাড়ার আগে অ্যাপল পরিবারের প্রতি আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন টিম কুক। কর্মীদের প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেছেন, তার পদবি বদলে গেলেও অ্যাপলের প্রতি ভালোবাসা কখনো বদলাবে না। নতুন একটি অধ্যায় শুরু করতে তিনি উচ্ছ্বসিত বলেও জানিয়েছেন।

২০১১ সালের আগস্টে স্টিভ জবসের কাছ থেকে অ্যাপলের প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব নেন টিম কুক। পরবর্তী প্রায় ১৫ বছর তিনি বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্ব দিয়েছেন। অ্যাপলের আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর থেকে কুক নির্বাহী চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকবেন এবং জন টার্নাস সিইও হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন।

আরও পড়ুন  বড় ধাক্কার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শক্তিশালী সমাবেশ | পশ্চিমবঙ্গ শহীদ দিবস ২০২৬

টিম কুকের বিদায় মানে অবশ্য অ্যাপল থেকে পুরোপুরি সরে যাওয়া নয়। নতুন দায়িত্বে তিনি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভূমিকা রাখবেন। বিশেষ করে বিশ্বজুড়ে নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে যোগাযোগসহ কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ে তিনি প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা করবেন বলে অ্যাপল জানিয়েছে।

কুকের নেতৃত্বে অ্যাপলের পণ্য ও ব্যবসায় বড় পরিবর্তন এসেছে। এ সময় এয়ারপডস ও অ্যাপল ওয়াচের মতো জনপ্রিয় পণ্য প্রতিষ্ঠানটির পণ্যভান্ডারকে আরও বিস্তৃত করেছে। ম্যাক কম্পিউটারে নিজস্ব অ্যাপল সিলিকন চিপের ব্যবহারও প্রযুক্তি খাতে অ্যাপলের অবস্থানকে নতুনভাবে শক্তিশালী করেছে।

আরও পড়ুন  আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স ক্যামেরা আপগ্রেড

ব্যবসায়িক দিক থেকেও টিম কুকের সময়টি ছিল অত্যন্ত সফল। তার নেতৃত্বে অ্যাপলের বাজারমূল্য কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারের পর্যায়ে পৌঁছায়। একই সময়ে সরবরাহব্যবস্থা, বৈশ্বিক বাণিজ্য উত্তেজনা এবং দ্রুত বদলে যাওয়া প্রযুক্তি বাজারের মতো বড় চ্যালেঞ্জও সামলাতে হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিকে।

টিম কুকের বিদায়ের পর অ্যাপলের নতুন সিইও হয়েছেন জন টার্নাস। দীর্ঘদিন ধরে অ্যাপলের হার্ডওয়্যার প্রকৌশল বিভাগের নেতৃত্ব দেওয়া টার্নাস এখন বিশ্বের অন্যতম বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নিয়েছেন। নতুন নেতৃত্বের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রতিযোগিতায় অ্যাপলকে এগিয়ে নেওয়া।

আরও পড়ুন  ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চিঠি

অ্যাপলের নতুন নেতৃত্বের প্রথম বড় পরীক্ষাও খুব দূরে নয়। সেপ্টেম্বরের পণ্য উন্মোচন অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে টার্নাসের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি নতুন পণ্যের যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। ফলে টিম কুকের বিদায়ের পর অ্যাপলের ভবিষ্যৎ কোন পথে এগোয়, সেদিকেও প্রযুক্তি বিশ্বের নজর থাকবে।

১৫ বছরের নেতৃত্ব শেষে টিম কুকের বিদায় তাই শুধু একজন সিইওর দায়িত্ব পরিবর্তন নয়, অ্যাপলের ইতিহাসে একটি যুগের সমাপ্তি। নতুন দায়িত্বে কুক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে থাকছেন, অন্যদিকে জন টার্নাসের নেতৃত্বে শুরু হচ্ছে অ্যাপলের নতুন অধ্যায়।