ঢাকা ০৬:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈশ্বরদী থেকে নাসায় মাহমুদা সুলতানার অনন্য সাফল্য

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৪:২১:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৮

ঈশ্বরদীর মাহমুদা সুলতানা এখন NASA-র গবেষণাগারে। ছবি: সংগৃহীত

মাহমুদা সুলতানা—নামটি এখন মহাকাশ প্রযুক্তি ও ন্যানোটেকনোলজির গবেষণার সঙ্গে যুক্ত। তাঁর যাত্রার শুরু বাংলাদেশের রাজশাহীর ঈশ্বরদীতে। কৈশোরে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ার পর সেখানেই শুরু হয় তাঁর উচ্চশিক্ষার নতুন অধ্যায়। কঠিন একাডেমিক পথ পেরিয়ে তিনি শেষ পর্যন্ত জায়গা করে নেন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা NASA-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাকেন্দ্র Goddard Space Flight Center-এ।

যুক্তরাষ্ট্রের University of Southern California (USC) থেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ও গণিতে স্নাতক সম্পন্ন করেন তিনি। অসাধারণ ফলাফলের জন্য অর্জন করেন summa cum laude সম্মান। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন Massachusetts Institute of Technology (MIT)-এ। সেখান থেকে ২০১০ সালে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। একই বছর NASA Goddard Space Flight Center-এ যোগ দিয়ে শুরু করেন মহাকাশ প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

NASA-তে মাহমুদা সুলতানার কাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র ন্যানোম্যাটেরিয়ালভিত্তিক প্রযুক্তি। graphene-ভিত্তিক detector, sensor, micro-electro-mechanical systems বা MEMS, quantum dots এবং উন্নত উপকরণ নিয়ে তাঁর গবেষণা মহাকাশে ব্যবহারের উপযোগী আরও সংবেদনশীল যন্ত্র তৈরির সঙ্গে সম্পর্কিত। মহাকাশে ক্ষীণ সংকেত শনাক্ত করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ—এ ধরনের প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।

তাঁর গবেষণার সাফল্যের একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত আসে ২০১৯ সালে। তাঁর নেতৃত্বাধীন একটি দল ন্যানোম্যাটেরিয়ালভিত্তিক detector platform উন্নয়নের জন্য ২ মিলিয়ন ডলারের প্রযুক্তি উন্নয়ন পুরস্কার পায়। এমন প্রযুক্তি ভবিষ্যৎ মহাকাশ মিশনে আরও উন্নত sensing ও বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি করতে পারে। James Webb Space Telescope-সংশ্লিষ্ট কাজের জন্যও তাঁর দল পেয়েছে Group Achievement Award।

গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মাহমুদা সুলতানা পেয়েছেন NASA GSFC Innovator of the Year Award, Robert H. Goddard Award, NASA Early Career Achievement Medal এবং IRAD New Achiever Medalসহ একাধিক সম্মাননা। NASA-তে যোগ দেওয়ার আগেও তাঁর গবেষণার স্বীকৃতি মিলেছে বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ ফেলোশিপে। এর মধ্যে Bell Laboratories Graduate Research Fellowship, National Science Foundation Graduate Research Fellowship এবং MIT-এর WmC and Margaret H. Rousseau Fellowship উল্লেখযোগ্য।

বর্তমানে মাহমুদা সুলতানা NASA Goddard Space Flight Center-এর Instrument Systems Engineering Branch-এর Associate Branch Head হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অর্থাৎ তিনি শুধু গবেষণার সঙ্গে যুক্ত নন, প্রযুক্তি ও গবেষণার নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্বও পালন করছেন। তাঁর ক্যারিয়ারের এই অবস্থান দেখিয়ে দেয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন শাখাকে একসঙ্গে কাজে লাগিয়ে কীভাবে মহাকাশ গবেষণায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করা যায়।

ঈশ্বরদীর ছোট শহর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের NASA গবেষণাগার—মাহমুদা সুলতানার এই পথচলা নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণার। কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে ন্যানোটেকনোলজি, আর সেখান থেকে মহাকাশ প্রযুক্তির অত্যাধুনিক গবেষণা—তাঁর ক্যারিয়ার একাধিক বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রের অসাধারণ সমন্বয়ের উদাহরণ। তাঁর গল্প মনে করিয়ে দেয়, বড় বৈজ্ঞানিক স্বপ্নের শুরুটা কোথায় হয়েছে, সেটি নয়; সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে মেধা, পরিশ্রম ও দীর্ঘদিনের অধ্যবসায় কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটিই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় হয়ে ওঠে।

ঈশ্বরদী থেকে নাসায় মাহমুদা সুলতানার অনন্য সাফল্য

Update Time : ০৪:২১:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাহমুদা সুলতানা—নামটি এখন মহাকাশ প্রযুক্তি ও ন্যানোটেকনোলজির গবেষণার সঙ্গে যুক্ত। তাঁর যাত্রার শুরু বাংলাদেশের রাজশাহীর ঈশ্বরদীতে। কৈশোরে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ার পর সেখানেই শুরু হয় তাঁর উচ্চশিক্ষার নতুন অধ্যায়। কঠিন একাডেমিক পথ পেরিয়ে তিনি শেষ পর্যন্ত জায়গা করে নেন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা NASA-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাকেন্দ্র Goddard Space Flight Center-এ।

যুক্তরাষ্ট্রের University of Southern California (USC) থেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ও গণিতে স্নাতক সম্পন্ন করেন তিনি। অসাধারণ ফলাফলের জন্য অর্জন করেন summa cum laude সম্মান। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন Massachusetts Institute of Technology (MIT)-এ। সেখান থেকে ২০১০ সালে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। একই বছর NASA Goddard Space Flight Center-এ যোগ দিয়ে শুরু করেন মহাকাশ প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

আরও পড়ুন  ইমরুলের যুগান্তকারী ওষুধ গবেষণা, বাংলাদেশে চলছে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল

NASA-তে মাহমুদা সুলতানার কাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র ন্যানোম্যাটেরিয়ালভিত্তিক প্রযুক্তি। graphene-ভিত্তিক detector, sensor, micro-electro-mechanical systems বা MEMS, quantum dots এবং উন্নত উপকরণ নিয়ে তাঁর গবেষণা মহাকাশে ব্যবহারের উপযোগী আরও সংবেদনশীল যন্ত্র তৈরির সঙ্গে সম্পর্কিত। মহাকাশে ক্ষীণ সংকেত শনাক্ত করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ—এ ধরনের প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।

তাঁর গবেষণার সাফল্যের একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত আসে ২০১৯ সালে। তাঁর নেতৃত্বাধীন একটি দল ন্যানোম্যাটেরিয়ালভিত্তিক detector platform উন্নয়নের জন্য ২ মিলিয়ন ডলারের প্রযুক্তি উন্নয়ন পুরস্কার পায়। এমন প্রযুক্তি ভবিষ্যৎ মহাকাশ মিশনে আরও উন্নত sensing ও বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি করতে পারে। James Webb Space Telescope-সংশ্লিষ্ট কাজের জন্যও তাঁর দল পেয়েছে Group Achievement Award।

আরও পড়ুন  হোয়াটসঅ্যাপে কল রেকর্ড করার গোপন ট্রিকস!

গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মাহমুদা সুলতানা পেয়েছেন NASA GSFC Innovator of the Year Award, Robert H. Goddard Award, NASA Early Career Achievement Medal এবং IRAD New Achiever Medalসহ একাধিক সম্মাননা। NASA-তে যোগ দেওয়ার আগেও তাঁর গবেষণার স্বীকৃতি মিলেছে বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ ফেলোশিপে। এর মধ্যে Bell Laboratories Graduate Research Fellowship, National Science Foundation Graduate Research Fellowship এবং MIT-এর WmC and Margaret H. Rousseau Fellowship উল্লেখযোগ্য।

বর্তমানে মাহমুদা সুলতানা NASA Goddard Space Flight Center-এর Instrument Systems Engineering Branch-এর Associate Branch Head হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অর্থাৎ তিনি শুধু গবেষণার সঙ্গে যুক্ত নন, প্রযুক্তি ও গবেষণার নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্বও পালন করছেন। তাঁর ক্যারিয়ারের এই অবস্থান দেখিয়ে দেয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন শাখাকে একসঙ্গে কাজে লাগিয়ে কীভাবে মহাকাশ গবেষণায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করা যায়।

আরও পড়ুন  নাসার দুর্দান্ত ছবিতে রাতের পৃথিবীর আলোর ক্যানভাস

ঈশ্বরদীর ছোট শহর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের NASA গবেষণাগার—মাহমুদা সুলতানার এই পথচলা নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণার। কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে ন্যানোটেকনোলজি, আর সেখান থেকে মহাকাশ প্রযুক্তির অত্যাধুনিক গবেষণা—তাঁর ক্যারিয়ার একাধিক বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রের অসাধারণ সমন্বয়ের উদাহরণ। তাঁর গল্প মনে করিয়ে দেয়, বড় বৈজ্ঞানিক স্বপ্নের শুরুটা কোথায় হয়েছে, সেটি নয়; সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে মেধা, পরিশ্রম ও দীর্ঘদিনের অধ্যবসায় কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটিই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় হয়ে ওঠে।