পিচ্চি জাহিদ নামে পরিচিত জাহিদুল ইসলামকে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। নিহত জাহিদুল ইসলাম চট্টগ্রাম নগর ও জেলা পুলিশের তালিকাভুক্ত ব্যক্তি ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার রাতে সাতকানিয়া উপজেলার পুরানগড় ইউনিয়নের মনোয়ারাবাদ এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, মোটরসাইকেলে করে ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় জাহিদুলের ওপর হামলা হয়। রাতের ওই হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঠিক কী কারণে এবং কারা এই হামলা চালিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা জাহিদুলের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। আকস্মিক হামলার পর তিনি গুরুতর আহত হয়ে রাস্তায় পড়ে যান। স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থল ও আশপাশের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র, হামলাকারীদের সংখ্যা এবং তাদের পালিয়ে যাওয়ার পথ সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সাতকানিয়া সার্কেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি পূর্ব শত্রুতার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পরিকল্পিতভাবেই জাহিদুলকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
নিহত জাহিদুল ইসলাম সাতকানিয়ার পুরানগড় ইউনিয়নের বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, চট্টগ্রাম নগরীর ফিরোজশাহ এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার তথ্য ছিল। চলতি বছরের শুরুতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরে জামিনে মুক্ত হওয়ার কথাও জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে তাঁর জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেননি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। পুলিশের প্রাথমিক তথ্যে জেলার বিভিন্ন থানায় তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা ও অস্ত্রসহ ছয়টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।
হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে নজরদারি বাড়িয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে হত্যার পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ, পুরোনো শত্রুতা কিংবা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ বলছে, তদন্ত এগোলেই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে আরও পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যাবে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো হয়নি। পিচ্চি জাহিদ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করাই এখন তদন্তকারীদের প্রধান লক্ষ্য।



















