ঢাকার বাতাস সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় রাজধানীর অবস্থান এখনও উদ্বেগজনক। সর্বশেষ বায়ুমান সূচকে ঢাকা ১২৫টি শহরের মধ্যে ১১তম স্থানে রয়েছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে বায়ুর মান কিছুটা উন্নতি হয়েছে, তবুও দূষণের দিক থেকে বিশ্বের শীর্ষ শহরগুলোর মধ্যে ঢাকার অবস্থান পরিবেশবিদদের ভাবিয়ে তুলছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় প্রকাশিত বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা এএকিউআই স্কোর ছিল ৯৪। এই স্কোরকে মাঝারি বা সহনীয় পর্যায়ের বায়ুমান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের বায়ুমান সাধারণ মানুষের জন্য তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য হলেও দীর্ঘমেয়াদে দূষণের প্রভাব পুরোপুরি এড়ানো যায় না। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, এএকিউআই স্কোর ০ থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ভালো হিসেবে গণ্য করা হয়। ৫১ থেকে ১০০-এর মধ্যে থাকলে সেটি মাঝারি বা সহনীয় পর্যায়ে পড়ে।
অন্যদিকে, ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর হলে সংবেদনশীল ব্যক্তিদের জন্য অস্বাস্থ্যকর বলে বিবেচিত হয়। ১৫১ থেকে ২০০ হলে তা অস্বাস্থ্যকর, ২০১ থেকে ৩০০ হলে খুবই অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০০-এর বেশি হলে দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি হিসেবে ধরা হয়। সর্বশেষ তালিকায় বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের অবস্থান দখল করেছে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা। শহরটির এএকিউআই স্কোর ছিল ১৭৩, যা অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ের মধ্যে পড়ে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর। শহরটির দূষণ স্কোর ১৭১। দীর্ঘদিন ধরেই বায়ুদূষণের কারণে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শহরগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত লাহোর।
তালিকার পরবর্তী অবস্থানগুলোতে রয়েছে চিলির সান্তিয়াগো, ভারতের দিল্লি এবং ভিয়েতনামের হ্যানয়। এসব শহরের স্কোর যথাক্রমে ১৪৩, ১৪২ এবং ১৩২। এ ছাড়া ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর কিনশাসা ১২৯ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ ১২৮ স্কোর নিয়ে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষ সারিতে অবস্থান করছে। এসব শহরে শিল্পকারখানা, যানবাহনের ধোঁয়া এবং নগরায়ণের কারণে বায়ুদূষণ উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্যদিকে, বিশ্বের সবচেয়ে নির্মল বাতাসের শহর হিসেবে উঠে এসেছে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন। শহরটির এএকিউআই স্কোর মাত্র ৯, যা অত্যন্ত ভালো বায়ুমানের নির্দেশক। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিপাতের কারণে ঢাকার বায়ুমানে সাময়িক উন্নতি দেখা যায়। তবে শুষ্ক মৌসুমে নির্মাণকাজ, ইটভাটা, শিল্পকারখানার ধোঁয়া এবং যানবাহনের নির্গমন আবারও দূষণের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ঢাকার বাতাস সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। পরিবেশবান্ধব নগর পরিকল্পনা, যানবাহনের ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ এবং শিল্প খাতে পরিবেশগত নিয়মকানুন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা না গেলে রাজধানীর বায়ুমান আবারও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পৌঁছাতে পারে।
সব মিলিয়ে, আজকের দিনে ঢাকার বায়ুর মান কিছুটা স্বস্তিদায়ক হলেও বিশ্বব্যাপী দূষিত শহরের তালিকায় ১১তম অবস্থান প্রমাণ করে যে বায়ুদূষণ এখনও রাজধানীর অন্যতম বড় পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ।





















