বিএনপি শোকজ ইস্যুতে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ (বাচ্চু)। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বিএনপি। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেছেন, তাঁর নির্বাচনী এলাকায় কোনো ধরনের অস্থিরতা বা বিশৃঙ্খলা নেই। সবকিছু স্বাভাবিকভাবেই পরিচালিত হচ্ছে।
শনিবার বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত নোটিশে ফখর উদ্দিন আহমেদের কাছে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। দলীয় চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁর ও তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আবারও দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ফখর উদ্দিন আহমেদ বলেন, দল যদি আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাখ্যা চায়, তাহলে তিনি অবশ্যই লিখিত জবাব দেবেন। তিনি জানান, তিনি সবসময় দলের সিদ্ধান্তকে সম্মান করেন এবং দলের প্রতি অনুগত রয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে এলাকায় দখল, চাঁদাবাজি বা বিশৃঙ্খলার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। এমন কিছু ঘটলে তা অবশ্যই গণমাধ্যমে উঠে আসত বলে তিনি মনে করেন।
এর আগে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ভালুকার কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান দখল এবং চাঁদাবাজির অভিযোগে ফখর উদ্দিন আহমেদকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে আবেদন করলে ২০২৫ সালের অক্টোবরে তাঁর সদস্যপদ পুনর্বহাল করা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক নোটিশে দল উল্লেখ করেছে, পুনর্বহালের পরও তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে, যা দল গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
শিল্পপ্রতিষ্ঠান দখলের অভিযোগ নিয়েও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন এই সংসদ সদস্য। তাঁর দাবি, কোনো কারখানায় মালিকপক্ষের অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করা সম্ভব নয়। পাশাপাশি নির্ধারিত নিয়ম ও আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া কোনো পণ্য কারখানা থেকে বের করাও সম্ভব নয়। তাই জোরপূর্বক কারখানা দখল বা পণ্য সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ বাস্তবসম্মত নয় বলেই তিনি মন্তব্য করেন।
ফখর উদ্দিন আরও জানান, কয়েকটি অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের পর দলীয় দপ্তর তাঁর কাছে বিষয়টি জানতে চেয়েছিল। তখন তিনি সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সরাসরি দলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন। তাঁর দাবি, ওই আলোচনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও জানিয়েছেন যে তাঁদের প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের সমস্যা হয়নি এবং কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চলছে। তবে তিনি বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে শোকজ নোটিশ হাতে পাওয়ার আগে তিনি ধারণা করেননি যে বিষয়টি এত দূর গড়াবে। এখন তিনি দলের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই লিখিত ব্যাখ্যা জমা দেবেন।

























