জলাবদ্ধতার কারণে কুমিল্লার সরকারি মহিলা কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তির খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পরীক্ষাকেন্দ্র পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পরীক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় দেওয়া হয়। সোমবার (১৩ জুলাই) কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু জানান, সকাল থেকে টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার কারণে পরীক্ষার্থীদের অনেকেই নৌকায় কিংবা কোমরসমান পানি মাড়িয়ে কেন্দ্রে পৌঁছাতে বাধ্য হন। এমন দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। পরে তিনি পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন এবং শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
প্রশাসক আরও জানান, পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্র পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে যেসব শিক্ষার্থী জলাবদ্ধতার কারণে নির্ধারিত সময়ে কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি, তাদের কথা বিবেচনা করে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।
সোমবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে কুমিল্লা নগরীর মনোহরপুর এলাকার সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রসহ আশপাশের এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এতে নির্ধারিত সময়ে অনেক পরীক্ষার্থী কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি। কেউ পরিবারের সহায়তায় নৌকায় করে, আবার কেউ হাঁটু কিংবা কোমরসমান পানি পেরিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
জলাবদ্ধতার কারণে পরীক্ষার্থীদের পাশাপাশি তাদের অভিভাবকরাও চরম দুর্ভোগে পড়েন। অনেকেই সন্তানদের নিরাপদে কেন্দ্রে পৌঁছে দিতে দীর্ঘ সময় পানির মধ্যে অবস্থান করেন। পরীক্ষা শুরুর আগে কেন্দ্রের আশপাশে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার পরিবেশ তৈরি হলেও প্রশাসনের উদ্যোগে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসে।
শিক্ষার্থীদের প্রবেশ সহজ করতে কেন্দ্রের ভেতরেও নৌকার ব্যবস্থা করা হয়। তবে জলাবদ্ধতার কারণে অনেকের সময়মতো পরীক্ষার হলে প্রবেশ করা কঠিন হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরীক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ দেয়, যাতে কেউ শুধুমাত্র প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত না হন।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই পরীক্ষাকেন্দ্র পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগ সমন্বয়ের মাধ্যমে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করে, যাতে পরীক্ষার কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয় এবং শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে পরীক্ষা দিতে পারেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার মাত্র তিন ঘণ্টায় কুমিল্লায় ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অল্প সময়ের এই ভারী বর্ষণে নগরীর প্রধান সড়ক, অলিগলি ও আবাসিক এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যায়। অনেক বাসাবাড়িতেও পানি ঢুকে পড়ায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি পরীক্ষার্থীরাও ব্যাপক দুর্ভোগের মুখে পড়েন।
ভারী বৃষ্টির কারণে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে। অনেক সড়কে পানি জমে থাকায় যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করে এবং সাধারণ মানুষকে প্রয়োজনীয় কাজে বের হতে ভোগান্তি পোহাতে হয়। জলাবদ্ধতার প্রভাব শুধু পরীক্ষাকেন্দ্রেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং পুরো নগরজীবনেই এর প্রভাব পড়ে।
জলাবদ্ধতার এই ঘটনা নগরীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। একই সঙ্গে দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে এবং পরবর্তী পরীক্ষাগুলোও পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরিচালনা করা হবে।

























