এসএসসি উত্তরপত্র মূল্যায়ন মামলা: কুমিল্লার দেবীদ্বারে এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন নিয়ে এক ব্যতিক্রমী ঘটনা সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক নিজে উত্তরপত্র মূল্যায়ন না করে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে দিয়ে সেই কাজ করিয়েছেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর শিক্ষা বোর্ড ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নেয়।
এই ঘটনায় দেবীদ্বার উপজেলার হাজী আমির উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. বাচ্চু মিয়া (৫৫) এবং শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান (১৫)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিবার বিশেষ অভিযানে তাদের আটক করে আদালতে পাঠায় পুলিশ।
কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) পাপিয়া আক্তার শনিবার দেবীদ্বার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পাবলিক পরীক্ষাসমূহ (অপরাধ) আইন, ১৯৮০-এর ১০, ১২ ও ১৩ ধারায় মামলা করা হয়।
পুলিশ জানায়, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও দেবীদ্বার থানা পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে। দেবীদ্বার সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. শাহীন বলেন, পাবলিক পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, অননুমোদিত ব্যক্তি এবং অপরাধে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আহসান পারভেজ ঘটনাটিকে শিক্ষক সমাজের জন্য কলঙ্কজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, একজন পরীক্ষক নিজের দায়িত্ব অন্য কারও ওপর ছেড়ে দিতে পারেন না। এমন ঘটনা ভবিষ্যতে যেন আর না ঘটে, সে জন্য কঠোর নজরদারি বাড়ানো হবে। তাঁর মতে, এই মামলাটি দেশে প্রথমবারের মতো পাবলিক পরীক্ষাসমূহ (অপরাধ) আইনের অধীনে ফৌজদারি মামলা হিসেবে গুরুত্ব পেয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলনও এ ঘটনায় কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পাবলিক পরীক্ষায় অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই। শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা, পরীক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরপত্র মূল্যায়ন একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল দায়িত্ব। একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ফলাফল, উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ এবং ক্যারিয়ার অনেকাংশে নির্ভর করে এই মূল্যায়নের ওপর। তাই এ ধরনের অনিয়ম শুধু আইনের লঙ্ঘন নয়, শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলে।
এ ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষক মহলেও আলোচনা চলছে। অনেকে মনে করছেন, পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে আরও কঠোর তদারকি, ডিজিটাল মনিটরিং এবং পরীক্ষকদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। শিক্ষা বোর্ডও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




























