ঢাকা ১২:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্থগিত হচ্ছে না সিলেট বোর্ডের শনিবারের এইচএসসি পরীক্ষা

সিলেট বোর্ড এইচএসসি পরীক্ষা শনিবার নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হবে। ছবি: সংগৃহীত

বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও সিলেট শিক্ষা বোর্ডের শনিবার (১১ জুলাই) অনুষ্ঠিতব্য এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হচ্ছে না। শুক্রবার (১০ জুলাই) রাতে সিলেট বিভাগের চার জেলার জেলা প্রশাসক, কেন্দ্র সচিব এবং শিক্ষা বোর্ড কর্মকর্তাদের জরুরি বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

সিলেট শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক চৌধুরী মামুন আকবর জানান, বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে যে বোর্ডের আওতাধীন অধিকাংশ পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়ার মতো পরিবেশ এখনো রয়েছে। তাই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT) বিষয়ের পরীক্ষা পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে।

কেন গুঞ্জন ছড়িয়েছিল?

গত কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণ এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের বিভিন্ন এলাকা আকস্মিক বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। এতে অনেক সড়ক তলিয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হয়। এই পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিলেট বোর্ডের পরীক্ষাও স্থগিত হতে পারে—এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।

এই গুঞ্জনের পরই শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ জরুরি বৈঠক ডেকে চার জেলার প্রশাসনের কাছ থেকে মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ করে।

বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হলো?

বৈঠকে অংশ নেওয়া জেলা প্রশাসক ও কেন্দ্র সচিবরা জানান—

  1. অধিকাংশ পরীক্ষাকেন্দ্র এখনো সচল রয়েছে।
  2. পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছানোর জন্য স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।
  3. কোথাও বড় ধরনের নিরাপত্তা বা যোগাযোগ সংকট তৈরি হয়নি।
  4. তাই আপাতত পরীক্ষা স্থগিত করার প্রয়োজন নেই।

বোর্ড জানায়, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। যদি কোনো জেলায় হঠাৎ পরিস্থিতির অবনতি ঘটে, তাহলে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা কেন স্থগিত?

এর আগে একই দিনে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড বন্যা পরিস্থিতির কারণে শনিবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান ও পার্বত্য এলাকার কয়েকটি অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দেওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ কারণে অনেকেই ধারণা করেছিলেন, সিলেট বোর্ডেও একই সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তবে দুই বোর্ডের বাস্তব পরিস্থিতি আলাদা হওয়ায় সিলেটে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জরুরি বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত

শুক্রবার রাতে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের উদ্যোগে এক জরুরি ভার্চুয়াল ও সমন্বয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সিলেট বিভাগের চার জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ প্রশাসনের প্রতিনিধিরা, কেন্দ্র সচিব, শিক্ষা বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিভাগের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বৈঠকে প্রতিটি জেলার বাস্তব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষ করে—

  1. কোন কোন পরীক্ষাকেন্দ্রে পানি প্রবেশ করেছে কি না,
  2. পরীক্ষার্থীদের যাতায়াত কতটা স্বাভাবিক,
  3. যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল আছে কি না,
  4. কেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুৎ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিক আছে কি না,
  5. স্থানীয় প্রশাসন পরীক্ষার্থীদের সহায়তা দিতে প্রস্তুত কি না—

এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সব দিক বিবেচনায় অংশগ্রহণকারীরা মত দেন যে, পরীক্ষা স্থগিত করার মতো সংকট এখনো তৈরি হয়নি।

বোর্ড সচিব যা বলেছেন

সিলেট শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক চৌধুরী মামুন আকবর বলেন, জেলা প্রশাসক ও কেন্দ্র সচিবরা মাঠপর্যায়ের তথ্য দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, অধিকাংশ এলাকায় পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হবে। তাই আপাতত পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

তিনি আরও জানান, শনিবার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT) বিষয়ের পরীক্ষা পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী সকাল থেকেই অনুষ্ঠিত হবে।

কোন জেলাগুলো নিয়ে বেশি উদ্বেগ?

সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে রয়েছে—

  1. সিলেট
  2. সুনামগঞ্জ
  3. হবিগঞ্জ
  4. মৌলভীবাজার

এর মধ্যে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কয়েকটি উপজেলা প্লাবিত হয়েছে।

বিশেষ করে নিম্নাঞ্চলে বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও স্থানীয় সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে পারবেন কি না—এ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়।

গুজব কীভাবে ছড়ায়?

শুক্রবার বিকেল থেকেই ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হয় যে, সিলেট বোর্ডের পরীক্ষাও চট্টগ্রাম বোর্ডের মতো স্থগিত করা হয়েছে।

কিন্তু শিক্ষা বোর্ড রাতেই বিষয়টি পরিষ্কার করে জানিয়ে দেয় যে এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

বোর্ড পরীক্ষার্থীদের অনুরোধ করেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনির্ভরযোগ্য তথ্য নয়, শিক্ষা বোর্ডের অফিসিয়াল ঘোষণা ও জেলা প্রশাসনের নির্দেশনাই অনুসরণ করতে।

চট্টগ্রাম বোর্ডের সঙ্গে পার্থক্য

একই সময়ে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড শনিবারের পরীক্ষা স্থগিত করেছে।

এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—

  1. অতিভারী বৃষ্টিপাত,
  2. পাহাড়ি ঢল,
  3. সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া,
  4. কয়েকটি পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়া।

অন্যদিকে সিলেট বোর্ডের মূল্যায়নে দেখা গেছে, কিছু এলাকায় বন্যা থাকলেও অধিকাংশ পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়ার মতো পরিবেশ রয়েছে।

ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত বদল হতে পারে?

বোর্ড কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমান সিদ্ধান্ত স্থায়ী নয়। যদি রাতারাতি বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়, নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে উঠে যায় বা পরীক্ষার্থীদের নিরাপদে কেন্দ্রে পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়ে, তাহলে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

তবে এখন পর্যন্ত এমন কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি।

পরীক্ষার্থীদের জন্য বোর্ডের নির্দেশনা

সিলেট শিক্ষা বোর্ড পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে জানিয়েছে—

  1. নির্ধারিত সময়ের আগেই পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে হবে।
  2. বন্যাকবলিত এলাকার শিক্ষার্থীরা স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করবে।
  3. কোনো গুজবে কান না দিয়ে শুধুমাত্র শিক্ষা বোর্ডের অফিসিয়াল ঘোষণা অনুসরণ করতে হবে।
  4. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে।
  5. পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট আগে কেন্দ্রে পৌঁছানোর চেষ্টা করুন।
  6. যেসব এলাকায় পানি জমে আছে, সেখান থেকে আগে বের হওয়ার পরিকল্পনা করুন।
  7. প্রবেশপত্র, রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রয়োজনীয় উপকরণ আগেই প্রস্তুত রাখুন।
  8. স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলুন।
  9. গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তির ওপর নির্ভর করুন

বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে প্রশাসন

সিলেট বিভাগের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি এবং কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা থাকলেও প্রশাসনের দাবি, এখন পর্যন্ত অধিকাংশ পরীক্ষাকেন্দ্র নিরাপদ রয়েছে। জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও শিক্ষা বিভাগ যৌথভাবে পরীক্ষা নির্বিঘ্ন করতে কাজ করছে।

শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে তাৎক্ষণিকভাবে নতুন সিদ্ধান্ত জানানো হবে। তবে বর্তমান সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শনিবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্থগিত হচ্ছে না সিলেট বোর্ডের শনিবারের এইচএসসি পরীক্ষা

Update Time : ১০:৫৯:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও সিলেট শিক্ষা বোর্ডের শনিবার (১১ জুলাই) অনুষ্ঠিতব্য এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হচ্ছে না। শুক্রবার (১০ জুলাই) রাতে সিলেট বিভাগের চার জেলার জেলা প্রশাসক, কেন্দ্র সচিব এবং শিক্ষা বোর্ড কর্মকর্তাদের জরুরি বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

সিলেট শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক চৌধুরী মামুন আকবর জানান, বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে যে বোর্ডের আওতাধীন অধিকাংশ পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়ার মতো পরিবেশ এখনো রয়েছে। তাই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT) বিষয়ের পরীক্ষা পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে।

কেন গুঞ্জন ছড়িয়েছিল?

গত কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণ এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের বিভিন্ন এলাকা আকস্মিক বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। এতে অনেক সড়ক তলিয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হয়। এই পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিলেট বোর্ডের পরীক্ষাও স্থগিত হতে পারে—এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।

এই গুঞ্জনের পরই শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ জরুরি বৈঠক ডেকে চার জেলার প্রশাসনের কাছ থেকে মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ করে।

বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হলো?

বৈঠকে অংশ নেওয়া জেলা প্রশাসক ও কেন্দ্র সচিবরা জানান—

  1. অধিকাংশ পরীক্ষাকেন্দ্র এখনো সচল রয়েছে।
  2. পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছানোর জন্য স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।
  3. কোথাও বড় ধরনের নিরাপত্তা বা যোগাযোগ সংকট তৈরি হয়নি।
  4. তাই আপাতত পরীক্ষা স্থগিত করার প্রয়োজন নেই।

বোর্ড জানায়, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। যদি কোনো জেলায় হঠাৎ পরিস্থিতির অবনতি ঘটে, তাহলে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা কেন স্থগিত?

এর আগে একই দিনে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড বন্যা পরিস্থিতির কারণে শনিবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান ও পার্বত্য এলাকার কয়েকটি অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দেওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ কারণে অনেকেই ধারণা করেছিলেন, সিলেট বোর্ডেও একই সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তবে দুই বোর্ডের বাস্তব পরিস্থিতি আলাদা হওয়ায় সিলেটে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জরুরি বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত

শুক্রবার রাতে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের উদ্যোগে এক জরুরি ভার্চুয়াল ও সমন্বয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সিলেট বিভাগের চার জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ প্রশাসনের প্রতিনিধিরা, কেন্দ্র সচিব, শিক্ষা বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিভাগের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বৈঠকে প্রতিটি জেলার বাস্তব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষ করে—

  1. কোন কোন পরীক্ষাকেন্দ্রে পানি প্রবেশ করেছে কি না,
  2. পরীক্ষার্থীদের যাতায়াত কতটা স্বাভাবিক,
  3. যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল আছে কি না,
  4. কেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুৎ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিক আছে কি না,
  5. স্থানীয় প্রশাসন পরীক্ষার্থীদের সহায়তা দিতে প্রস্তুত কি না—

এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সব দিক বিবেচনায় অংশগ্রহণকারীরা মত দেন যে, পরীক্ষা স্থগিত করার মতো সংকট এখনো তৈরি হয়নি।

বোর্ড সচিব যা বলেছেন

সিলেট শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক চৌধুরী মামুন আকবর বলেন, জেলা প্রশাসক ও কেন্দ্র সচিবরা মাঠপর্যায়ের তথ্য দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, অধিকাংশ এলাকায় পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হবে। তাই আপাতত পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

তিনি আরও জানান, শনিবার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT) বিষয়ের পরীক্ষা পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী সকাল থেকেই অনুষ্ঠিত হবে।

কোন জেলাগুলো নিয়ে বেশি উদ্বেগ?

সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে রয়েছে—

  1. সিলেট
  2. সুনামগঞ্জ
  3. হবিগঞ্জ
  4. মৌলভীবাজার

এর মধ্যে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কয়েকটি উপজেলা প্লাবিত হয়েছে।

বিশেষ করে নিম্নাঞ্চলে বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও স্থানীয় সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে পারবেন কি না—এ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়।

গুজব কীভাবে ছড়ায়?

শুক্রবার বিকেল থেকেই ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হয় যে, সিলেট বোর্ডের পরীক্ষাও চট্টগ্রাম বোর্ডের মতো স্থগিত করা হয়েছে।

কিন্তু শিক্ষা বোর্ড রাতেই বিষয়টি পরিষ্কার করে জানিয়ে দেয় যে এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

বোর্ড পরীক্ষার্থীদের অনুরোধ করেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনির্ভরযোগ্য তথ্য নয়, শিক্ষা বোর্ডের অফিসিয়াল ঘোষণা ও জেলা প্রশাসনের নির্দেশনাই অনুসরণ করতে।

চট্টগ্রাম বোর্ডের সঙ্গে পার্থক্য

একই সময়ে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড শনিবারের পরীক্ষা স্থগিত করেছে।

এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—

  1. অতিভারী বৃষ্টিপাত,
  2. পাহাড়ি ঢল,
  3. সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া,
  4. কয়েকটি পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়া।

অন্যদিকে সিলেট বোর্ডের মূল্যায়নে দেখা গেছে, কিছু এলাকায় বন্যা থাকলেও অধিকাংশ পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়ার মতো পরিবেশ রয়েছে।

ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত বদল হতে পারে?

বোর্ড কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমান সিদ্ধান্ত স্থায়ী নয়। যদি রাতারাতি বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়, নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে উঠে যায় বা পরীক্ষার্থীদের নিরাপদে কেন্দ্রে পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়ে, তাহলে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

তবে এখন পর্যন্ত এমন কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি।

পরীক্ষার্থীদের জন্য বোর্ডের নির্দেশনা

সিলেট শিক্ষা বোর্ড পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে জানিয়েছে—

  1. নির্ধারিত সময়ের আগেই পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে হবে।
  2. বন্যাকবলিত এলাকার শিক্ষার্থীরা স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করবে।
  3. কোনো গুজবে কান না দিয়ে শুধুমাত্র শিক্ষা বোর্ডের অফিসিয়াল ঘোষণা অনুসরণ করতে হবে।
  4. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে।
  5. পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট আগে কেন্দ্রে পৌঁছানোর চেষ্টা করুন।
  6. যেসব এলাকায় পানি জমে আছে, সেখান থেকে আগে বের হওয়ার পরিকল্পনা করুন।
  7. প্রবেশপত্র, রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রয়োজনীয় উপকরণ আগেই প্রস্তুত রাখুন।
  8. স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলুন।
  9. গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তির ওপর নির্ভর করুন

বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে প্রশাসন

সিলেট বিভাগের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি এবং কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা থাকলেও প্রশাসনের দাবি, এখন পর্যন্ত অধিকাংশ পরীক্ষাকেন্দ্র নিরাপদ রয়েছে। জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও শিক্ষা বিভাগ যৌথভাবে পরীক্ষা নির্বিঘ্ন করতে কাজ করছে।

শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে তাৎক্ষণিকভাবে নতুন সিদ্ধান্ত জানানো হবে। তবে বর্তমান সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শনিবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে।