ঢাকা ০৩:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

কুবিতে ফের নিয়মবহির্ভূত ডিন নিয়োগের অভিযোগ

নতুন ডিন নিয়োগ নিয়ে উত্তাল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এর ১০৯তম ও ১১০তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত, ডিন নিয়োগসংক্রান্ত কমিটির প্রতিবেদন এবং আইন উপদেষ্টার পরামর্শের ভিত্তিতে উপাচার্য ৫ জন শিক্ষককে নতুন ডিন হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। নিয়োগপ্রাপ্তরা হলেন— বিজ্ঞান অনুষদে অধ্যাপক সজল চন্দ্র মজুমদার, কলা অনুষদে অধ্যাপক মুহাম্মদ শামসুজ্জামান মিলকী, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে অধ্যাপক মোহাম্মদ রেজাউল করিম, প্রকৌশল অনুষদে সহযোগী অধ্যাপক মাহমুদুল হাছান এবং ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে সহযোগী অধ্যাপক এমদাদুল হক। তবে এই নিয়োগের পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক অনুষদে রোটেশন ও জ্যেষ্ঠতার নীতি লঙ্ঘনের তীব্র অভিযোগ উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ২২(৫) ধারা অনুযায়ী, উপাচার্য সিন্ডিকেটের অনুমোদনক্রমে বিভিন্ন বিভাগের অধ্যাপকদের মধ্য থেকে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পালাক্রমে দুই বছরের জন্য ডিন নিয়োগ দেবেন। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, অন্তত তিনটি অনুষদে এই রোটেশন নীতি একেবারেই মানা হয়নি। যেমন বিজ্ঞান অনুষদের প্রথম বিভাগ গণিত হওয়া সত্ত্বেও চার বছর পরে প্রতিষ্ঠিত পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে এবার ডিন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে গণিত বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপকেরা তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

অনুরূপভাবে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে আবর্তন অনুযায়ী গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ এবং ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ থেকে ডিন নিয়োগ পাওয়ার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। এছাড়া সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে লোক প্রশাসন বিভাগ থেকে ডিন নিয়োগ দেওয়া হলেও বিভাগের জ্যেষ্ঠতম অধ্যাপককে দায়িত্ব না দিয়ে জ্যেষ্ঠতার নীতিও লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে প্রশাসন দাবি করেছে, ২০২২ সালে সাবেক প্রশাসনের আমলে হওয়া নিয়মের ব্যত্যয় ‘সমন্বয়’ করতেই এবার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ নূরুল করিম জানান, আইন উপদেষ্টা ও কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই নিকট অতীতের ব্যত্যয় দূর করতে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে ক্ষুব্ধ শিক্ষকদের দাবি, যদি অতীতের নিয়মের ব্যত্যয় সমন্বয় করাই মূল উদ্দেশ্য হয়, তবে ২০১৮ সালে ঘটা প্রথম অনিয়ম থেকে তা শুরু করা উচিত ছিল। কেবল একটি নির্দিষ্ট বছরের ঘটনাকে সামনে এনে বর্তমান প্রশাসন নিজেদের পছন্দের শিক্ষকদের সুবিধা দেওয়ার জন্য আইনের অপব্যাখ্যা করছে বলে তারা মনে করছেন।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সাজ্জাদ হোসাইন জানান, তিনি কেবল আইনের ধারাটি বিশ্লেষণ করেছেন এবং তাকে শুধু ২০২২ সালের নিকট অতীতের ব্যত্যয়ের বিষয়টি জানানো হয়েছিল। এর আগের কোনো অনিয়মের তথ্য তাকে প্রশাসন থেকে দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল একে একটি সমঝোতামূলক নিয়োগ বলে দাবি করলেও, উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করিম এই বিষয়ে গণমাধ্যমের সাথে সরাসরি কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ধনেপাতা দীর্ঘদিন সতেজ রাখার ৫ কার্যকর ঘরোয়া উপায়

কুবিতে ফের নিয়মবহির্ভূত ডিন নিয়োগের অভিযোগ

Update Time : ১২:৪৩:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এর ১০৯তম ও ১১০তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত, ডিন নিয়োগসংক্রান্ত কমিটির প্রতিবেদন এবং আইন উপদেষ্টার পরামর্শের ভিত্তিতে উপাচার্য ৫ জন শিক্ষককে নতুন ডিন হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। নিয়োগপ্রাপ্তরা হলেন— বিজ্ঞান অনুষদে অধ্যাপক সজল চন্দ্র মজুমদার, কলা অনুষদে অধ্যাপক মুহাম্মদ শামসুজ্জামান মিলকী, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে অধ্যাপক মোহাম্মদ রেজাউল করিম, প্রকৌশল অনুষদে সহযোগী অধ্যাপক মাহমুদুল হাছান এবং ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে সহযোগী অধ্যাপক এমদাদুল হক। তবে এই নিয়োগের পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক অনুষদে রোটেশন ও জ্যেষ্ঠতার নীতি লঙ্ঘনের তীব্র অভিযোগ উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ২২(৫) ধারা অনুযায়ী, উপাচার্য সিন্ডিকেটের অনুমোদনক্রমে বিভিন্ন বিভাগের অধ্যাপকদের মধ্য থেকে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পালাক্রমে দুই বছরের জন্য ডিন নিয়োগ দেবেন। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, অন্তত তিনটি অনুষদে এই রোটেশন নীতি একেবারেই মানা হয়নি। যেমন বিজ্ঞান অনুষদের প্রথম বিভাগ গণিত হওয়া সত্ত্বেও চার বছর পরে প্রতিষ্ঠিত পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে এবার ডিন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে গণিত বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপকেরা তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

আরও পড়ুন  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বক্তব্য প্রত্যাহার করলেন ববি হাজ্জাজ

অনুরূপভাবে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে আবর্তন অনুযায়ী গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ এবং ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ থেকে ডিন নিয়োগ পাওয়ার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। এছাড়া সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে লোক প্রশাসন বিভাগ থেকে ডিন নিয়োগ দেওয়া হলেও বিভাগের জ্যেষ্ঠতম অধ্যাপককে দায়িত্ব না দিয়ে জ্যেষ্ঠতার নীতিও লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে প্রশাসন দাবি করেছে, ২০২২ সালে সাবেক প্রশাসনের আমলে হওয়া নিয়মের ব্যত্যয় ‘সমন্বয়’ করতেই এবার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন  স্থগিত হচ্ছে না সিলেট বোর্ডের শনিবারের এইচএসসি পরীক্ষা

বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ নূরুল করিম জানান, আইন উপদেষ্টা ও কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই নিকট অতীতের ব্যত্যয় দূর করতে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে ক্ষুব্ধ শিক্ষকদের দাবি, যদি অতীতের নিয়মের ব্যত্যয় সমন্বয় করাই মূল উদ্দেশ্য হয়, তবে ২০১৮ সালে ঘটা প্রথম অনিয়ম থেকে তা শুরু করা উচিত ছিল। কেবল একটি নির্দিষ্ট বছরের ঘটনাকে সামনে এনে বর্তমান প্রশাসন নিজেদের পছন্দের শিক্ষকদের সুবিধা দেওয়ার জন্য আইনের অপব্যাখ্যা করছে বলে তারা মনে করছেন।

আরও পড়ুন  বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতির আলোয় মাস্টার্স পরীক্ষা, ভিডিও ভাইরাল

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সাজ্জাদ হোসাইন জানান, তিনি কেবল আইনের ধারাটি বিশ্লেষণ করেছেন এবং তাকে শুধু ২০২২ সালের নিকট অতীতের ব্যত্যয়ের বিষয়টি জানানো হয়েছিল। এর আগের কোনো অনিয়মের তথ্য তাকে প্রশাসন থেকে দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল একে একটি সমঝোতামূলক নিয়োগ বলে দাবি করলেও, উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করিম এই বিষয়ে গণমাধ্যমের সাথে সরাসরি কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।