ঢাকা ০৮:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo খালেদা জিয়াকে গরু উপহার দেওয়া সেই সোহাগ গ্রেপ্তার Logo নিপোর্ট মৌখিক পরীক্ষা সূচি প্রকাশ, গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা Logo সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর ১টি বড় ব্রেকিং নিউজ Logo হাকিমির সঙ্গে প্রেমে নোরা ফাতেহি? বিশ্বকাপে নতুন গুঞ্জন Logo ডেঙ্গু জ্বরের তাণ্ডব: হাসপাতালে নতুন ১৩৫ রোগীর চাঞ্চল্যকর তথ্য Logo প্রথম ম্যাচে ড্র, তবু বিশ্বকাপ জিতেছিল যারা—স্বস্তি পাবে ব্রাজিল Logo তৃণমূলের সংকট মোকাবিলায় মমতা ব্যানার্জির জন্য বড় ১টি দুশ্চিন্তা Logo ৭-১-এর পর সবচেয়ে বাজে ৪৫ মিনিট? ব্রাজিলকে নিয়ে তীব্র সমালোচনা Logo জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে বিমানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ বার্তা Logo প্রাথমিক শিক্ষা বিস্তার প্রকল্প নিয়ে সংসদে বড় তথ্য দিলেন শিক্ষামন্ত্রী

শা-পা ডে: বিইউপি শিক্ষার্থীদের শাড়ি-পাঞ্জাবি দিবসের উৎসব

শাড়ি-পাঞ্জাবি দিবসে একরঙা পোশাকে বিইউপির শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি। ছবি: সংগৃহীত।

শাড়ি-পাঞ্জাবি দিবস বিইউপির শিক্ষার্থীদের কাছে শুধু একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়, বরং এটি স্মৃতি, বন্ধুত্ব এবং বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের আবেগঘন এক অধ্যায়ের নাম। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)-এর বিভিন্ন বিভাগের বিদায়ী ব্যাচ প্রতিবছর আয়োজন করে এই বিশেষ দিন, যা শিক্ষার্থীদের কাছে পরিচিত ‘শা-পা ডে’ নামে।

শাড়ি-পাঞ্জাবি দিবসের দিন ক্যাম্পাসজুড়ে দেখা যায় ভিন্ন এক আবহ। একই বিভাগের শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট একটি রং বেছে নিয়ে শাড়ি ও পাঞ্জাবি পরেন। এক নজরে দেখে মনে হতে পারে যেন এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো নির্ধারিত ইউনিফর্ম। কিন্তু বাস্তবে এটি বিদায়ী ব্যাচের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের এক ঐতিহ্য, যা সময়ের সঙ্গে আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

এই আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হয় ব্যাচের নাম নির্ধারণের মাধ্যমে। প্রতিটি ব্যাচ নিজেদের জন্য একটি অর্থবহ ও ব্যতিক্রমী নাম নির্বাচন করে। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন নাম প্রস্তাব করেন এবং পরে ভোটের মাধ্যমে চূড়ান্ত নাম নির্ধারণ করা হয়। সেই নাম পরবর্তীতে দলগত ছবির সঙ্গে যুক্ত হয়ে ফেসবুক কাভার ফটো ও বিভাগীয় স্মারকে স্থান পায়। ফলে একটি নাম শুধু পরিচয় নয়, বরং পুরো ব্যাচের স্মৃতির অংশ হয়ে ওঠে।

নাম নির্বাচনের পর শুরু হয় শাড়ি ও পাঞ্জাবির রং বাছাইয়ের পর্ব। এখানেই দেখা দেয় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। শতাধিক শিক্ষার্থীর পছন্দকে এক জায়গায় আনা সহজ নয়। আবার অন্য বিভাগের সঙ্গে রঙের মিল না হয়ে যায়, সেদিকেও নজর রাখতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে বিভাগের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল রেখে রং নির্বাচন করা হয়। যেমন শান্তি ও মানবাধিকার বিষয়ে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীরা শান্তির প্রতীক হিসেবে হালকা গোলাপি রং বেছে নিয়েছেন।

শাড়ি-পাঞ্জাবি দিবস
শাড়ি-পাঞ্জাবি দিবস উপলক্ষে বিইউপির শিক্ষার্থীদের ব্যতিক্রমী আয়োজন

শাড়ি-পাঞ্জাবি দিবস ঘিরে শিক্ষার্থীদের থাকে নানা পরিকল্পনা। দলগত ফটোসেশন, বন্ধুদের সঙ্গে আলাদা ছবি, ভিডিও রিলস তৈরি এবং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে স্মৃতি ধরে রাখার আয়োজন চলে দিনভর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এসব ছবি ও ভিডিও ব্যাপক সাড়া ফেলে। বিদায়ী ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বিশ্বাস করেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতিগুলোর একটি হয়ে থাকে এই দিন।

শুধু বর্তমান শিক্ষার্থীরাই নন, সাবেক শিক্ষার্থীদের কাছেও শা-পা ডে বিশেষ আবেগের নাম। অনেক শিক্ষক, যারা একসময় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন, তাঁরাও এ দিনের স্মৃতি মনে করেন। কেউ কেউ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিল রেখে একই রঙের শাড়ি বা পোশাক পরে ক্যাম্পাসে আসেন, যা প্রজন্মের মধ্যে এক ধরনের আবেগী সংযোগ তৈরি করে।

শাড়ি-পাঞ্জাবি দিবস মূলত বন্ধুত্ব, ঐক্য এবং বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সুন্দর মুহূর্তগুলো উদ্‌যাপনের একটি অনন্য উপলক্ষ। বিইউপির শিক্ষার্থীদের এই ‘শা-পা ডে’ এখন শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং একটি ক্যাম্পাস সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর নতুন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এই ঐতিহ্যকে ধারণ করে স্মরণীয় করে তুলছেন তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষ অধ্যায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

খালেদা জিয়াকে গরু উপহার দেওয়া সেই সোহাগ গ্রেপ্তার

শা-পা ডে: বিইউপি শিক্ষার্থীদের শাড়ি-পাঞ্জাবি দিবসের উৎসব

Update Time : ০৬:৫৫:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

শাড়ি-পাঞ্জাবি দিবস বিইউপির শিক্ষার্থীদের কাছে শুধু একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়, বরং এটি স্মৃতি, বন্ধুত্ব এবং বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের আবেগঘন এক অধ্যায়ের নাম। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)-এর বিভিন্ন বিভাগের বিদায়ী ব্যাচ প্রতিবছর আয়োজন করে এই বিশেষ দিন, যা শিক্ষার্থীদের কাছে পরিচিত ‘শা-পা ডে’ নামে।

শাড়ি-পাঞ্জাবি দিবসের দিন ক্যাম্পাসজুড়ে দেখা যায় ভিন্ন এক আবহ। একই বিভাগের শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট একটি রং বেছে নিয়ে শাড়ি ও পাঞ্জাবি পরেন। এক নজরে দেখে মনে হতে পারে যেন এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো নির্ধারিত ইউনিফর্ম। কিন্তু বাস্তবে এটি বিদায়ী ব্যাচের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের এক ঐতিহ্য, যা সময়ের সঙ্গে আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন  শিক্ষাব্যবস্থা উন্নয়ন: নতুন মানদণ্ডের পথে বাংলাদেশ

এই আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হয় ব্যাচের নাম নির্ধারণের মাধ্যমে। প্রতিটি ব্যাচ নিজেদের জন্য একটি অর্থবহ ও ব্যতিক্রমী নাম নির্বাচন করে। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন নাম প্রস্তাব করেন এবং পরে ভোটের মাধ্যমে চূড়ান্ত নাম নির্ধারণ করা হয়। সেই নাম পরবর্তীতে দলগত ছবির সঙ্গে যুক্ত হয়ে ফেসবুক কাভার ফটো ও বিভাগীয় স্মারকে স্থান পায়। ফলে একটি নাম শুধু পরিচয় নয়, বরং পুরো ব্যাচের স্মৃতির অংশ হয়ে ওঠে।

নাম নির্বাচনের পর শুরু হয় শাড়ি ও পাঞ্জাবির রং বাছাইয়ের পর্ব। এখানেই দেখা দেয় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। শতাধিক শিক্ষার্থীর পছন্দকে এক জায়গায় আনা সহজ নয়। আবার অন্য বিভাগের সঙ্গে রঙের মিল না হয়ে যায়, সেদিকেও নজর রাখতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে বিভাগের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল রেখে রং নির্বাচন করা হয়। যেমন শান্তি ও মানবাধিকার বিষয়ে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীরা শান্তির প্রতীক হিসেবে হালকা গোলাপি রং বেছে নিয়েছেন।

আরও পড়ুন  ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে চার নতুন বিষয় যুক্ত হচ্ছে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে
শাড়ি-পাঞ্জাবি দিবস
শাড়ি-পাঞ্জাবি দিবস উপলক্ষে বিইউপির শিক্ষার্থীদের ব্যতিক্রমী আয়োজন

শাড়ি-পাঞ্জাবি দিবস ঘিরে শিক্ষার্থীদের থাকে নানা পরিকল্পনা। দলগত ফটোসেশন, বন্ধুদের সঙ্গে আলাদা ছবি, ভিডিও রিলস তৈরি এবং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে স্মৃতি ধরে রাখার আয়োজন চলে দিনভর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এসব ছবি ও ভিডিও ব্যাপক সাড়া ফেলে। বিদায়ী ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বিশ্বাস করেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতিগুলোর একটি হয়ে থাকে এই দিন।

শুধু বর্তমান শিক্ষার্থীরাই নন, সাবেক শিক্ষার্থীদের কাছেও শা-পা ডে বিশেষ আবেগের নাম। অনেক শিক্ষক, যারা একসময় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন, তাঁরাও এ দিনের স্মৃতি মনে করেন। কেউ কেউ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিল রেখে একই রঙের শাড়ি বা পোশাক পরে ক্যাম্পাসে আসেন, যা প্রজন্মের মধ্যে এক ধরনের আবেগী সংযোগ তৈরি করে।

আরও পড়ুন  ২০২৭ সালের এসএসসি-এইচএসসি এগিয়ে আনার পরিকল্পনা, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

শাড়ি-পাঞ্জাবি দিবস মূলত বন্ধুত্ব, ঐক্য এবং বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সুন্দর মুহূর্তগুলো উদ্‌যাপনের একটি অনন্য উপলক্ষ। বিইউপির শিক্ষার্থীদের এই ‘শা-পা ডে’ এখন শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং একটি ক্যাম্পাস সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর নতুন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এই ঐতিহ্যকে ধারণ করে স্মরণীয় করে তুলছেন তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষ অধ্যায়।