ঢাকা ০৫:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

শিক্ষকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৯:২৮:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
  • ৫৮১

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে শিক্ষকদের সতর্কবার্তা। ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নতুন সতর্কবার্তা দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকার, সরকারি প্রতিষ্ঠান বা সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য, কটূক্তি কিংবা অপপ্রচারমূলক পোস্ট না করেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি জারি করা এক নির্দেশনায় অধিদপ্তর জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রাখা সব সরকারি কর্মচারীর জন্য জরুরি।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক মন্তব্য করছেন এবং কখনো কখনো সেসব পোস্ট শেয়ারও করছেন। এসব পোস্টের মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, এমন কার্যক্রম সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি করতে পারে।

অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, শিক্ষকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রণীত সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা-২০১৯ অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে পারবেন, তবে তা করতে হবে দায়িত্বশীল ও পেশাদার আচরণ বজায় রেখে। এমন কোনো মন্তব্য, ছবি বা তথ্য প্রকাশ করা যাবে না যা সরকারি নীতি বা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো শিক্ষক যদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তি, অপপ্রচার বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেন, তাহলে তা সরকারি চাকরির বিধি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে। সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা অনুযায়ী এ ধরনের আচরণ অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হতে পারে। ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

অধিদপ্তর জানিয়েছে, যেসব শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সরকার বা সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করছেন, তাদের চিহ্নিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার কথাও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষকরা সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং তাদের আচরণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ওপর প্রভাব ফেলে। তাই শিক্ষকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখা প্রয়োজন। সচেতন ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিক্ষার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারি চাকরিজীবীরা প্রথমবার যে ভাতা পাবেন

শিক্ষকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা

Update Time : ০৯:২৮:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

শিক্ষকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নতুন সতর্কবার্তা দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকার, সরকারি প্রতিষ্ঠান বা সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য, কটূক্তি কিংবা অপপ্রচারমূলক পোস্ট না করেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি জারি করা এক নির্দেশনায় অধিদপ্তর জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রাখা সব সরকারি কর্মচারীর জন্য জরুরি।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক মন্তব্য করছেন এবং কখনো কখনো সেসব পোস্ট শেয়ারও করছেন। এসব পোস্টের মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, এমন কার্যক্রম সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি করতে পারে।

আরও পড়ুন  জুলাই অভ্যুত্থান পথভ্রষ্ট? শাবিপ্রবি সেমিনারে বিশ্লেষণ

অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, শিক্ষকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রণীত সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা-২০১৯ অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে পারবেন, তবে তা করতে হবে দায়িত্বশীল ও পেশাদার আচরণ বজায় রেখে। এমন কোনো মন্তব্য, ছবি বা তথ্য প্রকাশ করা যাবে না যা সরকারি নীতি বা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

আরও পড়ুন  শত শত কোটি টাকার টোল চুরি, রেগনাম নিয়ে গুরুতর অভিযোগ

নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো শিক্ষক যদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তি, অপপ্রচার বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেন, তাহলে তা সরকারি চাকরির বিধি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে। সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা অনুযায়ী এ ধরনের আচরণ অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হতে পারে। ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

অধিদপ্তর জানিয়েছে, যেসব শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সরকার বা সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করছেন, তাদের চিহ্নিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার কথাও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  পরীমনি ফেসবুক ফলোয়ারে বাজিমাত, ছাড়িয়ে গেলেন সাকিব আল হাসানকে

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষকরা সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং তাদের আচরণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ওপর প্রভাব ফেলে। তাই শিক্ষকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখা প্রয়োজন। সচেতন ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিক্ষার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।