আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে হ্যাটট্রিক করা এমনিতেই বিরল কীর্তি। টানা তিন বলে তিন ব্যাটারকে সাজঘরে ফেরাতে হলে বোলারকে একই সঙ্গে দক্ষতা, নিয়ন্ত্রণ ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা দেখাতে হয়। আর এই কীর্তি যদি ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দুই ফরম্যাটেই করা যায়, তাহলে সেটি হয়ে ওঠে আরও বিশেষ অর্জন।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত মাত্র পাঁচ বোলার দুই ফরম্যাটেই হ্যাটট্রিক করার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। এই তালিকায় রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার ব্রেট লি, শ্রীলঙ্কার লাসিথ মালিঙ্গা ও থিসারা পেরেরা, ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা এবং দক্ষিণ আফ্রিকার কাগিসো রাবাদা।
তালিকার অন্যতম পরিচিত নাম ব্রেট লি। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এই গতিতারকা ২০০৩ বিশ্বকাপে কেনিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডেতে হ্যাটট্রিক করেন। এরপর ২০০৭ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচেও টানা তিন উইকেট নিয়ে একই কীর্তি গড়েন তিনি।
ব্রেট লির সেই টি-টোয়েন্টি হ্যাটট্রিক ছিল আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম। ফলে দুই ফরম্যাটে হ্যাটট্রিক করা বোলারদের তালিকায় তার অবস্থান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তি পেসার লাসিথ মালিঙ্গার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে হ্যাটট্রিকের সংখ্যা আরও বেশি। ওয়ানডেতে তিনবার হ্যাটট্রিক করেছেন তিনি। ২০০৭ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এবং ২০১১ সালে কেনিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই কীর্তি গড়েন মালিঙ্গা।
টি-টোয়েন্টিতেও মালিঙ্গার রয়েছে দুটি হ্যাটট্রিক। ২০১৭ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে এবং ২০১৯ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টানা তিন উইকেট নেন তিনি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেই ম্যাচে চার বলে চার উইকেট নেওয়ার অবিশ্বাস্য কীর্তিও গড়েছিলেন এই পেসার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার মোট হ্যাটট্রিক পাঁচটি।
শ্রীলঙ্কার আরেক অলরাউন্ডার থিসারা পেরেরাও দুই ফরম্যাটে হ্যাটট্রিক করেছেন। ২০১২ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডেতে চার উইকেট নেওয়ার পথে হ্যাটট্রিক করেন তিনি। এরপর ২০১৬ সালে ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকেও টানা তিন উইকেট নিয়ে এই তালিকায় জায়গা করে নেন পেরেরা।
বর্তমান প্রজন্মের শ্রীলঙ্কান লেগস্পিনার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গাও রয়েছেন এই বিরল তালিকায়। ২০১৭ সালে ওয়ানডে অভিষেকেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টানা তিন বলে তিন উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিক করেন তিনি। পরে ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও একই কীর্তি গড়েন হাসারাঙ্গা।
দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার কাগিসো রাবাদার ওয়ানডে হ্যাটট্রিকটি এসেছিল তার অভিষেকেই। ২০১৫ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে মিরপুরে ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারের শেষ তিন বলে তামিম ইকবাল, লিটন দাস ও মাহমুদউল্লাহকে আউট করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি।
সেই ম্যাচে রাবাদা ১৬ রান দিয়ে ছয় উইকেট নিয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেন। পরে ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দুই ফরম্যাটে এই বিরল কীর্তির মালিক হন দক্ষিণ আফ্রিকার এই পেসার।
দুই আন্তর্জাতিক ফরম্যাটে হ্যাটট্রিকের এই তালিকায় পাঁচ বোলারের নামই তাই আলাদা করে জায়গা করে নিয়েছে। ভিন্ন সময়ে, ভিন্ন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তারা নিজেদের দক্ষতায় এমন কীর্তি গড়েছেন, যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের রেকর্ডবুকে দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ হয়ে থাকবে।























