ঢাকা ০৬:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একাধিক ভিসা প্রত্যাখ্যানের পর UK Student Visa পেলেন ডিভোর্সি মা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৩:৪৭:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫৭৯

একাধিক ভিসা প্রত্যাখ্যানের পর UK Student Visa পেলেন ডিভোর্সি মা

ডিভোর্সের পর সন্তানকে একা নিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করার চেষ্টা করছিলেন বাংলাদেশের এক নারী। এর আগে একাধিক দেশের ভিসা প্রত্যাখ্যান হলেও শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। সম্প্রতি একটি ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য তাঁর যুক্তরাজ্যের শিক্ষার্থী ভিসা অনুমোদন হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয়, ভিসা অনুমোদনের ক্ষেত্রে তাঁর কোনো যুক্তরাজ্য ভিসা ও অভিবাসন বিভাগের সাক্ষাৎকার প্রয়োজন হয়নি।

ভিসা আবেদনের আগে ওই নারী সফলভাবে ভর্তির নিশ্চয়তাপত্রসংক্রান্ত সাক্ষাৎকার সম্পন্ন করেন। এরপর এক বছরের সম্পূর্ণ শিক্ষাব্যয়ের জন্য ১৫ হাজার ৫০০ পাউন্ড পরিশোধ করেন তিনি। ভিসা প্রক্রিয়ার পুরো সময়ে তাঁকে সহযোগিতা করেছেন NWC Education এর UK প্রতিনিধি মুকতা মনি তালুকদার। তাঁর শিক্ষাগত ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির মাধ্যমে আবেদনটি এগিয়ে নেওয়া হয়।

NWC Education প্রতিষ্ঠানে  যাওয়ার সময় ওই নারীর মনে ছিল নানা অনিশ্চয়তা। একাধিক দেশের ভিসা প্রত্যাখ্যান হওয়ায় এবারও যুক্তরাজ্যে যাওয়ার সুযোগ হবে কি না, তা নিয়ে তিনি চিন্তিত ছিলেন। তাঁর এই পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা না দিয়ে প্রোফাইল অনুযায়ী সর্বোচ্চ চেষ্টা করার কথা জানানো হয়। পাশাপাশি সঠিক পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের শিক্ষার্থী ভিসা অনুমোদনের খবরটি তাঁর জন্য হয়ে ওঠে বিশেষ এক মুহূর্ত। এটি শুধু বিদেশে গিয়ে পড়াশোনার সুযোগ নয়, বরং সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করার একটি সম্ভাবনাও তৈরি করেছে। কঠিন সময়ের পর নতুনভাবে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। সেই কারণে ভিসা পাওয়ার বিষয়টি তাঁর কাছে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

এই সাফল্যের গল্পে  NWC Education প্রতিনিধি মুকতা মনি তালুকদারের সহযোগিতার বিষয়টিও সামনে এসেছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি শুধু সিলেটের শিক্ষার্থীদের যুক্তরাজ্যের আবেদন নিয়ে কাজ করে এমন ধারণাও সঠিক নয়। বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শিক্ষার্থীদের যুক্তরাজ্যের আবেদন নিয়ে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থীরাও এ ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

এদিকে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের জানুয়ারি সেশনের ভর্তি নিয়েও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। তবে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, আগের ভিসার ইতিহাস, আর্থিক সক্ষমতা এবং নির্বাচিত বিষয়ের সঙ্গে প্রোফাইলের সামঞ্জস্য আলাদা। তাই ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের নিশ্চয়তার ওপর নির্ভর না করে নিজের যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করার ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং পরিকল্পিত প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আগে ভিসা প্রত্যাখ্যান হয়ে থাকলে আগের আবেদনের বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হয়। শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত ও একাডেমিক পরিস্থিতি বুঝে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা করাই ভালো। এতে আবেদনের প্রক্রিয়াটি আরও গোছানোভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

University campus in the UK
University campus in the UK

এই নারীর ক্ষেত্রে একাধিক ভিসা প্রত্যাখ্যানের পর যুক্তরাজ্যের শিক্ষার্থী ভিসা পাওয়া নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলেছে। সন্তানকে নিয়ে কঠিন সময় পার করে এবার তিনি উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার পথে এগোচ্ছেন। যুক্তরাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয় Canterbury Christ Church University তে তাঁর পড়াশোনার সুযোগ সেই যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। তাঁর গল্প অন্যদের জন্যও নতুন করে চেষ্টা করার অনুপ্রেরণা হতে পারে।

যুক্তরাজ্যের শিক্ষার্থী ভিসা পাওয়ার এই ঘটনাটি দেখিয়ে দেয়, আগের কোনো ব্যর্থতা সবসময় ভবিষ্যতের পথ বন্ধ করে দেয় না। তবে প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি আলাদা হওয়ায় সবার জন্য একই ফলাফল আশা করা ঠিক নয়। প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, আর্থিক সক্ষমতা ও সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই আবেদন করা উচিত। শেষ পর্যন্ত ওই মায়ের জন্য এই অনুমোদন হয়ে উঠেছে নতুন করে স্বপ্ন দেখার সুযোগ।

জনপ্রিয় সংবাদ

একাধিক ভিসা প্রত্যাখ্যানের পর UK Student Visa পেলেন ডিভোর্সি মা

Update Time : ০৩:৪৭:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডিভোর্সের পর সন্তানকে একা নিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করার চেষ্টা করছিলেন বাংলাদেশের এক নারী। এর আগে একাধিক দেশের ভিসা প্রত্যাখ্যান হলেও শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। সম্প্রতি একটি ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য তাঁর যুক্তরাজ্যের শিক্ষার্থী ভিসা অনুমোদন হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয়, ভিসা অনুমোদনের ক্ষেত্রে তাঁর কোনো যুক্তরাজ্য ভিসা ও অভিবাসন বিভাগের সাক্ষাৎকার প্রয়োজন হয়নি।

ভিসা আবেদনের আগে ওই নারী সফলভাবে ভর্তির নিশ্চয়তাপত্রসংক্রান্ত সাক্ষাৎকার সম্পন্ন করেন। এরপর এক বছরের সম্পূর্ণ শিক্ষাব্যয়ের জন্য ১৫ হাজার ৫০০ পাউন্ড পরিশোধ করেন তিনি। ভিসা প্রক্রিয়ার পুরো সময়ে তাঁকে সহযোগিতা করেছেন NWC Education এর UK প্রতিনিধি মুকতা মনি তালুকদার। তাঁর শিক্ষাগত ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির মাধ্যমে আবেদনটি এগিয়ে নেওয়া হয়।

NWC Education প্রতিষ্ঠানে  যাওয়ার সময় ওই নারীর মনে ছিল নানা অনিশ্চয়তা। একাধিক দেশের ভিসা প্রত্যাখ্যান হওয়ায় এবারও যুক্তরাজ্যে যাওয়ার সুযোগ হবে কি না, তা নিয়ে তিনি চিন্তিত ছিলেন। তাঁর এই পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা না দিয়ে প্রোফাইল অনুযায়ী সর্বোচ্চ চেষ্টা করার কথা জানানো হয়। পাশাপাশি সঠিক পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন  বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস: পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় গঠনে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত

শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের শিক্ষার্থী ভিসা অনুমোদনের খবরটি তাঁর জন্য হয়ে ওঠে বিশেষ এক মুহূর্ত। এটি শুধু বিদেশে গিয়ে পড়াশোনার সুযোগ নয়, বরং সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করার একটি সম্ভাবনাও তৈরি করেছে। কঠিন সময়ের পর নতুনভাবে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। সেই কারণে ভিসা পাওয়ার বিষয়টি তাঁর কাছে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

এই সাফল্যের গল্পে  NWC Education প্রতিনিধি মুকতা মনি তালুকদারের সহযোগিতার বিষয়টিও সামনে এসেছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি শুধু সিলেটের শিক্ষার্থীদের যুক্তরাজ্যের আবেদন নিয়ে কাজ করে এমন ধারণাও সঠিক নয়। বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শিক্ষার্থীদের যুক্তরাজ্যের আবেদন নিয়ে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থীরাও এ ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

আরও পড়ুন  এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে অভিভাবকদের জন্য নতুন ব্যবস্থা, বোর্ডের নির্দেশ

এদিকে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের জানুয়ারি সেশনের ভর্তি নিয়েও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। তবে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, আগের ভিসার ইতিহাস, আর্থিক সক্ষমতা এবং নির্বাচিত বিষয়ের সঙ্গে প্রোফাইলের সামঞ্জস্য আলাদা। তাই ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের নিশ্চয়তার ওপর নির্ভর না করে নিজের যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করার ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং পরিকল্পিত প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আগে ভিসা প্রত্যাখ্যান হয়ে থাকলে আগের আবেদনের বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হয়। শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত ও একাডেমিক পরিস্থিতি বুঝে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা করাই ভালো। এতে আবেদনের প্রক্রিয়াটি আরও গোছানোভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

আরও পড়ুন  চিঠির অমলিন স্মৃতি কেন আজও মানুষের মনে বেঁচে আছে
University campus in the UK
University campus in the UK

এই নারীর ক্ষেত্রে একাধিক ভিসা প্রত্যাখ্যানের পর যুক্তরাজ্যের শিক্ষার্থী ভিসা পাওয়া নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলেছে। সন্তানকে নিয়ে কঠিন সময় পার করে এবার তিনি উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার পথে এগোচ্ছেন। যুক্তরাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয় Canterbury Christ Church University তে তাঁর পড়াশোনার সুযোগ সেই যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। তাঁর গল্প অন্যদের জন্যও নতুন করে চেষ্টা করার অনুপ্রেরণা হতে পারে।

যুক্তরাজ্যের শিক্ষার্থী ভিসা পাওয়ার এই ঘটনাটি দেখিয়ে দেয়, আগের কোনো ব্যর্থতা সবসময় ভবিষ্যতের পথ বন্ধ করে দেয় না। তবে প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি আলাদা হওয়ায় সবার জন্য একই ফলাফল আশা করা ঠিক নয়। প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, আর্থিক সক্ষমতা ও সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই আবেদন করা উচিত। শেষ পর্যন্ত ওই মায়ের জন্য এই অনুমোদন হয়ে উঠেছে নতুন করে স্বপ্ন দেখার সুযোগ।