সনাতন ধর্মাবলম্বী ভোট ব্যাংক এমন রাজনৈতিক ধারণা আর টিকে নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তার দাবি, অতীতে একটি বিশেষ রাজনৈতিক শক্তি দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিজেদের নির্দিষ্ট ভোট ব্যাংক হিসেবে দেখত। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেই পুরোনো ধারণা ভেঙে দিয়েছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরাই। তার এই বক্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শুক্রবার বিকালে ঢাকায় জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত র্যালিতে অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার পলাশী মোড় থেকে র্যালিটি শুরু হয়। সেখানে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সংবিধানেও সব ধর্মের মানুষের ধর্ম পালন ও নিজ নিজ উপাসনালয়ে স্বাধীনভাবে ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ দেশের সব ধর্মের মানুষের জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, শুধু সংবিধানের পাতায় ধর্মীয় স্বাধীনতার কথা লিখে রাখলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। বাস্তব জীবনেও মানুষ যেন স্বাধীনভাবে নিজের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় পালন করতে পারেন, সেটিই নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্র প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে নাগরিক পরিচয়ের বিষয়টিও। তার মতে, একজন মানুষের ধর্মীয় পরিচয় থাকতে পারে, পাশাপাশি থাকতে পারে সাংস্কৃতিক বা নৃগোষ্ঠীগত পরিচয়। তবে রাষ্ট্রের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় হলো নাগরিক পরিচয়। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কিংবা অন্য যে কোনো ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় আচার পালন করবেন, কিন্তু জাতীয় পরিচয়ের জায়গায় সবাই বাংলাদেশের নাগরিক এটাই হওয়া উচিত মূল পরিচয়।
তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহাবস্থান ও সামাজিক শান্তি বজায় রাখতে হবে। ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে কাউকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে কেউ নিজেকে সংখ্যালঘু হিসেবে নয়, বরং সমান অধিকারসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে পরিচয় দেবেন এমন প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি। তার ভাষায়, দেশের সবার আগে থাকা উচিত বাংলাদেশ এবং নাগরিক হিসেবে সবার অধিকারও সমান হওয়া উচিত।
জন্মাষ্টমীর র্যালিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সামাজিক সম্প্রীতি। তিনি বলেন, ধর্মীয় পরিচয় মানুষের ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও সংস্কৃতির অংশ হলেও রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের ক্ষেত্রে সবাই সমান। তাই ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজনের পরিবর্তে পারস্পরিক সহাবস্থান, শান্তি ও সম্প্রীতির পরিবেশ গড়ে তোলাই হওয়া উচিত সবার লক্ষ্য। একই সঙ্গে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের রাজনৈতিকভাবে কোনো নির্দিষ্ট ‘ভোট ব্যাংক’ হিসেবে দেখার পুরোনো ধারণা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বানও জানান তিনি।




























