ঢাকা ০৮:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংসদে হট্টগোল: প্রথম দিনেই উত্তপ্ত অধিবেশন

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৭:৩১:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫১১

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে সংসদে উত্তেজনা ও প্রতিবাদ। | ছবি: সংগৃহীত

সংসদে হট্টগোল দিয়েই শুরু হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন। বৃহস্পতিবার বিকেলে অধিবেশন শুরুর এক ঘণ্টার মধ্যেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নোত্তর পর্বে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেন। একপর্যায়ে অধিবেশন কক্ষে চিৎকার ও হট্টগোলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অধিবেশনের প্রথম দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বীর বিক্রম উদ্বোধনী বক্তব্য দেন। শুরুটা স্বাভাবিক থাকলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নোত্তর পর্বে গিয়ে পাল্টে যায় পুরো পরিবেশ। মাত্র কিছুক্ষণের মধ্যেই সংসদে শুরু হয় তীব্র রাজনৈতিক বাদানুবাদ।

সরকারের গত ছয় মাসের অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি সাম্প্রতিক অপরাধের চিত্র তুলে ধরে সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, তার দায়িত্ব পালনের সময় তিনি সফল হয়েছেন, নাকি ব্যর্থ। প্রশ্নটি ঘিরেই মূলত উত্তেজনার সূত্রপাত হয়।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ প্রশ্নটির ধরন নিয়ে আপত্তি জানান। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সফল না ব্যর্থ—এ ধরনের প্রশ্ন সংসদে করা যায় না। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি ‘শাহবাগ ও পল্টন’ প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। আর তার এই মন্তব্যের পরই বিরোধী দলের সদস্যরা নিজ নিজ আসন থেকে উঠে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে আপত্তি জানিয়ে সংসদ সদস্যদের চিৎকারের মধ্যে অধিবেশন কক্ষে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পিকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পিকারের উদ্দেশে নিজের অবস্থান তুলে ধরে তার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অবশ্য তার বক্তব্যের পক্ষে যুক্তিও দেন। তিনি দাবি করেন, গত ছয় মাসে সংঘটিত প্রতিটি অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তার বক্তব্য ছিল, কোনো অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—এমন নির্দিষ্ট ঘটনা থাকলে বিরোধী সদস্যদের তা উল্লেখ করতে হবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোন অপরাধে শাস্তি হয়নি, সেটি নির্দিষ্ট করে বলা হোক।

কিন্তু বিষয়টি সেখানেই থেমে থাকেনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর বিরোধী দলের পক্ষ থেকে তীব্র সমালোচনা আসে। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সংসদে দাঁড়িয়ে মন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান। তার অভিযোগ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রায়ই সংসদে এমন ভঙ্গিতে কথা বলেন, যা সংসদীয় পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, সংসদ সদস্যরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে শিক্ষার্থী হিসেবে আসেননি। তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, মন্ত্রী যদি শিক্ষকতা করতে চান, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে পারেন। সেখানে আগ্রহীরা ভর্তি হয়ে তার কাছ থেকে শিক্ষা নিতে পারবেন।

বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যে সংসদের উত্তাপ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি দাবি করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে সংসদের মর্যাদা ও সৌন্দর্য ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ কারণে তাকে সংসদে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এই সংসদে হট্টগোল শুধু একটি প্রশ্নের উত্তরকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়নি; এর পেছনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। গত কয়েক মাসে দেশের অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা হয়েছে। ফলে সংসদে এ বিষয়ে প্রশ্ন ওঠা ছিল প্রত্যাশিত। কিন্তু প্রশ্নের ভাষা ও মন্ত্রীর জবাবের ধরন পরিস্থিতিকে দ্রুত উত্তপ্ত করে তোলে।

সংসদীয় রাজনীতিতে প্রশ্নোত্তর পর্ব সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বিরোধী সংসদ সদস্যরা সাধারণত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম, সরকারি সিদ্ধান্ত এবং দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রীদের কাছে প্রশ্ন করেন। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। এ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই সংসদে সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনার সুযোগ তৈরি হয়।

তবে প্রশ্নোত্তর পর্বে রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হলে সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বৃহস্পতিবারের ঘটনাতেও তারই প্রতিফলন দেখা গেছে। একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে ব্যবহৃত শব্দ ও পাল্টা প্রতিক্রিয়া শেষ পর্যন্ত পুরো অধিবেশনকেই উত্তপ্ত করে তোলে।

এ ঘটনায় স্পিকারের ভূমিকা নিয়েও গুরুত্ব তৈরি হয়েছে। সংসদের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং সদস্যদের বক্তব্যের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা স্পিকারের অন্যতম দায়িত্ব। ফলে ভবিষ্যৎ অধিবেশনগুলোতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে সংসদীয় শিষ্টাচার ও বক্তব্যের ধরন নিয়ে আরও সতর্কতা প্রয়োজন হতে পারে।

এদিকে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এ বিষয়ে সরকারের সফলতা বা ব্যর্থতা নিয়ে বিরোধী দলের প্রশ্ন থাকাটাই স্বাভাবিক। একই সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকেও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া পদক্ষেপের ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

প্রথম দিনের ঘটনাকে তাই শুধু সংসদে হট্টগোল হিসেবে দেখলে পুরো বিষয়টি বোঝা যাবে না। এর মধ্যে রয়েছে সরকারের জবাবদিহি, বিরোধী দলের প্রশ্ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সংসদীয় ভাষা ব্যবহারের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অধিবেশনের পরবর্তী দিনগুলোতে এসব ইস্যু নিয়ে আলোচনা আরও বাড়তে পারে।

সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের শুরুতেই যে রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হয়েছে, তা নজর কেড়েছে। দিনের শুরুতে শান্ত পরিবেশ থাকলেও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে একটি প্রশ্ন এবং তার জবাব মুহূর্তেই পরিস্থিতি বদলে দেয়। এখন দেখার বিষয়, পরবর্তী বৈঠকগুলোতে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে এই উত্তাপ কতটা অব্যাহত থাকে এবং গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে সংসদ কতটা কার্যকর বিতর্কের জায়গা হয়ে উঠতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সংসদে হট্টগোল: প্রথম দিনেই উত্তপ্ত অধিবেশন

Update Time : ০৭:৩১:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

সংসদে হট্টগোল দিয়েই শুরু হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন। বৃহস্পতিবার বিকেলে অধিবেশন শুরুর এক ঘণ্টার মধ্যেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নোত্তর পর্বে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেন। একপর্যায়ে অধিবেশন কক্ষে চিৎকার ও হট্টগোলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অধিবেশনের প্রথম দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বীর বিক্রম উদ্বোধনী বক্তব্য দেন। শুরুটা স্বাভাবিক থাকলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নোত্তর পর্বে গিয়ে পাল্টে যায় পুরো পরিবেশ। মাত্র কিছুক্ষণের মধ্যেই সংসদে শুরু হয় তীব্র রাজনৈতিক বাদানুবাদ।

সরকারের গত ছয় মাসের অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি সাম্প্রতিক অপরাধের চিত্র তুলে ধরে সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, তার দায়িত্ব পালনের সময় তিনি সফল হয়েছেন, নাকি ব্যর্থ। প্রশ্নটি ঘিরেই মূলত উত্তেজনার সূত্রপাত হয়।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ প্রশ্নটির ধরন নিয়ে আপত্তি জানান। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সফল না ব্যর্থ—এ ধরনের প্রশ্ন সংসদে করা যায় না। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি ‘শাহবাগ ও পল্টন’ প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। আর তার এই মন্তব্যের পরই বিরোধী দলের সদস্যরা নিজ নিজ আসন থেকে উঠে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন।

আরও পড়ুন  রাজনৈতিক ঐক্যই স্থিতিশীল বাংলাদেশের ভিত্তি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে আপত্তি জানিয়ে সংসদ সদস্যদের চিৎকারের মধ্যে অধিবেশন কক্ষে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পিকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পিকারের উদ্দেশে নিজের অবস্থান তুলে ধরে তার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অবশ্য তার বক্তব্যের পক্ষে যুক্তিও দেন। তিনি দাবি করেন, গত ছয় মাসে সংঘটিত প্রতিটি অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তার বক্তব্য ছিল, কোনো অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—এমন নির্দিষ্ট ঘটনা থাকলে বিরোধী সদস্যদের তা উল্লেখ করতে হবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোন অপরাধে শাস্তি হয়নি, সেটি নির্দিষ্ট করে বলা হোক।

কিন্তু বিষয়টি সেখানেই থেমে থাকেনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর বিরোধী দলের পক্ষ থেকে তীব্র সমালোচনা আসে। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সংসদে দাঁড়িয়ে মন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান। তার অভিযোগ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রায়ই সংসদে এমন ভঙ্গিতে কথা বলেন, যা সংসদীয় পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, সংসদ সদস্যরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে শিক্ষার্থী হিসেবে আসেননি। তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, মন্ত্রী যদি শিক্ষকতা করতে চান, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে পারেন। সেখানে আগ্রহীরা ভর্তি হয়ে তার কাছ থেকে শিক্ষা নিতে পারবেন।

বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যে সংসদের উত্তাপ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি দাবি করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে সংসদের মর্যাদা ও সৌন্দর্য ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ কারণে তাকে সংসদে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুন  ধর্ষণ মামলা পল্লবীতে রামিসার বাসায় গিয়ে পরিবারের পাশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

এই সংসদে হট্টগোল শুধু একটি প্রশ্নের উত্তরকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়নি; এর পেছনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। গত কয়েক মাসে দেশের অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা হয়েছে। ফলে সংসদে এ বিষয়ে প্রশ্ন ওঠা ছিল প্রত্যাশিত। কিন্তু প্রশ্নের ভাষা ও মন্ত্রীর জবাবের ধরন পরিস্থিতিকে দ্রুত উত্তপ্ত করে তোলে।

সংসদীয় রাজনীতিতে প্রশ্নোত্তর পর্ব সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বিরোধী সংসদ সদস্যরা সাধারণত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম, সরকারি সিদ্ধান্ত এবং দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রীদের কাছে প্রশ্ন করেন। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। এ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই সংসদে সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনার সুযোগ তৈরি হয়।

তবে প্রশ্নোত্তর পর্বে রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হলে সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বৃহস্পতিবারের ঘটনাতেও তারই প্রতিফলন দেখা গেছে। একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে ব্যবহৃত শব্দ ও পাল্টা প্রতিক্রিয়া শেষ পর্যন্ত পুরো অধিবেশনকেই উত্তপ্ত করে তোলে।

এ ঘটনায় স্পিকারের ভূমিকা নিয়েও গুরুত্ব তৈরি হয়েছে। সংসদের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং সদস্যদের বক্তব্যের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা স্পিকারের অন্যতম দায়িত্ব। ফলে ভবিষ্যৎ অধিবেশনগুলোতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে সংসদীয় শিষ্টাচার ও বক্তব্যের ধরন নিয়ে আরও সতর্কতা প্রয়োজন হতে পারে।

আরও পড়ুন  ব্যাটারিচালিত রিকশা মহানগর এলাকার বাইরে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা

এদিকে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এ বিষয়ে সরকারের সফলতা বা ব্যর্থতা নিয়ে বিরোধী দলের প্রশ্ন থাকাটাই স্বাভাবিক। একই সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকেও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া পদক্ষেপের ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

প্রথম দিনের ঘটনাকে তাই শুধু সংসদে হট্টগোল হিসেবে দেখলে পুরো বিষয়টি বোঝা যাবে না। এর মধ্যে রয়েছে সরকারের জবাবদিহি, বিরোধী দলের প্রশ্ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সংসদীয় ভাষা ব্যবহারের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অধিবেশনের পরবর্তী দিনগুলোতে এসব ইস্যু নিয়ে আলোচনা আরও বাড়তে পারে।

সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের শুরুতেই যে রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হয়েছে, তা নজর কেড়েছে। দিনের শুরুতে শান্ত পরিবেশ থাকলেও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে একটি প্রশ্ন এবং তার জবাব মুহূর্তেই পরিস্থিতি বদলে দেয়। এখন দেখার বিষয়, পরবর্তী বৈঠকগুলোতে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে এই উত্তাপ কতটা অব্যাহত থাকে এবং গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে সংসদ কতটা কার্যকর বিতর্কের জায়গা হয়ে উঠতে পারে।