ঢাকা ০৫:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo সমালোচনা থামাতে পারেনি টক্সিকের বক্স অফিস ঝড়! Logo স্ত্রী-সন্তানকে চোখের সামনে হারালেন, ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা Logo কেন লাল চুলের নারী হলেন ডলি পার্টনের ‘জোলিন’-এর অনুপ্রেরণা Logo নেপালে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিকম্প, কেমন আছেন অপু বিশ্বাস? Logo নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ধসের মধ্যে আটকা পড়েছেন খরাজ মুখোপাধ্যায় Logo নেপাল বন্যা: ভয়াবহ বিপর্যয়ে ১৬২ মৃত্যু, নিখোঁজ শত শত Logo চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বৃক্ষমেলায় ব্যাপক সাড়া, ৫ দিন বাড়ল মেলার সময় Logo বিদ্যুৎ টাওয়ারে যুবক, নামার চেষ্টা নিয়ে চাঞ্চল্য Logo হাজী মাদবর আলী হাচানিয়া দাখিল মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হাজী আফাজ উদ্দীনের ইন্তেকাল Logo কক্সবাজার সৈকতে গোসল করতে নেমে পর্যটকের মৃত্যু

কেন লাল চুলের নারী হলেন ডলি পার্টনের ‘জোলিন’-এর অনুপ্রেরণা

গান ও মানবিক কাজের মাধ্যমে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে প্রভাবিত করেছেন ডলি পার্টন। ছবি: সংগৃহীত।

ডলি পার্টন শুধু একজন সংগীতশিল্পী ছিলেন না, তিনি ছিলেন গল্প বলার এক অসাধারণ কারিগর। ‘জোলিন’ গানে অন্য এক নারীর কাছে নিজের স্বামীকে ছেড়ে দেওয়ার আকুতি, ‘কোট অব ম্যানি কালারস’-এ শৈশবের দারিদ্র্য আর ‘নাইন টু ফাইভ’-এ কর্মজীবী মানুষের সংগ্রাম—জীবনের নানা অনুভূতিকে গানে তুলে বিশ্বজুড়ে শ্রোতার হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন ডলি পার্টন। ৮০ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যুতে শেষ হলো কান্ট্রি সংগীতের এক উজ্জ্বল অধ্যায়।

১৯৪৬ সালের ১৯ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের সেভিয়ার কাউন্টিতে জন্ম ডলি রেবেকা পার্টনের। ১২ ভাই-বোনের বড় পরিবারে দারিদ্র্যের মধ্যেই বেড়ে ওঠেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই গান ছিল তাঁর জীবনের সঙ্গী। স্থানীয় বেতার থেকে গ্র্যান্ড ওলে অপ্রি—খুব অল্প বয়সেই সংগীতজগতে নিজের উপস্থিতি জানান দেন তিনি। পরে ন্যাশভিলে গিয়ে গীতিকার হিসেবে কাজ শুরু করেন। নিজের লেখা গান ও স্বতন্ত্র কণ্ঠ তাঁকে দ্রুত আলাদা পরিচিতি এনে দেয়। সাত দশকের ক্যারিয়ারে তিনি ১০ কোটির বেশি রেকর্ড বিক্রি করেছেন এবং অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন।

‘জোলিন’ ডলি পার্টনের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আলোচিত গানগুলোর একটি। ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত এই গানের পেছনে ছিল তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। ডলি জানিয়েছিলেন, লাল চুলের এক ব্যাংককর্মী তাঁর স্বামীর প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহ দেখাতেন। সেই ঘটনা থেকেই গানের ভাবনা আসে। তবে ব্যক্তিগত ঘটনা ছাড়িয়ে গানটি হয়ে ওঠে ভালোবাসা হারানোর ভয়, ঈর্ষা ও অনিশ্চয়তার সার্বজনীন গল্প। পরে বিভিন্ন প্রজন্মের শিল্পী গানটি নিজেদের মতো করে পরিবেশন করেছেন। পরের বছরই ডলি লেখেন ‘আই উইল অলওয়েজ লাভ ইউ’। পোর্টার ওয়াগনারের সঙ্গে পেশাগত বিচ্ছেদের আবেগ থেকে তৈরি গানটি পরে হুইটনি হিউস্টনের কণ্ঠে নতুন ইতিহাস গড়ে।

ডলির গানের বড় শক্তি ছিল সাধারণ মানুষের গল্পকে সহজ ভাষায় তুলে ধরা। ‘কোট অব ম্যানি কালারস’-এ মায়ের হাতে তৈরি পোশাকের স্মৃতি, ‘মাই টেনেসি মাউন্টেন হোম’-এ শৈশবের বাড়ি আর ‘নাইন টু ফাইভ’-এ কর্মজীবী মানুষের বাস্তবতা উঠে এসেছে। জীবদ্দশায় তিনি প্রায় তিন হাজার গান লিখেছেন। ১৯৭৭ সালের ‘হিয়ার ইউ কাম এগেইন’ তাঁকে কান্ট্রি সংগীতের গণ্ডি পেরিয়ে পপ শ্রোতাদের কাছেও পৌঁছে দেয় এবং এনে দেয় প্রথম গ্র্যামি। কেনি রজার্সের সঙ্গে ‘আইল্যান্ডস ইন দ্য স্ট্রিম’-এর সাফল্যও তাঁর জনপ্রিয়তাকে আরও বিস্তৃত করে।

সংগীতের পাশাপাশি অভিনয়েও সাফল্য পেয়েছেন ডলি। ‘নাইন টু ফাইভ’, ‘দ্য বেস্ট লিটল হোরহাউস ইন টেক্সাস’ ও ‘স্টিল ম্যাগনোলিয়াস’-এর মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শকের প্রশংসা পান তিনি। একই সঙ্গে উদ্যোক্তা হিসেবেও নিজের সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। টেনেসিতে তাঁর সঙ্গে যুক্ত ডলিউড পরে অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণে পরিণত হয়। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় মানবিক উদ্যোগগুলোর একটি ছিল ‘ইমাজিনেশন লাইব্রেরি’। ১৯৯৫ সালে চালু হওয়া এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে শিশুদের হাতে ৩০ কোটির বেশি বই পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। করোনা টিকার গবেষণাতেও তিনি ১০ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছিলেন।

ডলি পার্টন ২০২৬ সালের ২৫ আগস্ট ন্যাশভিলের ভ্যান্ডারবিল্ট-ইনগ্রাম ক্যানসার সেন্টারে স্বজনদের উপস্থিতিতে মারা যান। তাঁর প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, অল্প সময়ের ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইয়ের পর শান্তিপূর্ণভাবে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সংগীতজগতসহ বিভিন্ন অঙ্গনে শোক নেমে আসে। তবে তাঁর রেখে যাওয়া গান, অভিনয়, ব্যবসায়িক উদ্যোগ ও মানবিক কাজ তাঁকে বহু প্রজন্মের কাছে জীবন্ত করে রাখবে। ‘জোলিন’ কিংবা ‘আই উইল অলওয়েজ লাভ ইউ’ শুধু গান নয়, ডলি পার্টনের দীর্ঘ সৃষ্টিশীল জীবনের স্মারক হয়ে থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সমালোচনা থামাতে পারেনি টক্সিকের বক্স অফিস ঝড়!

কেন লাল চুলের নারী হলেন ডলি পার্টনের ‘জোলিন’-এর অনুপ্রেরণা

Update Time : ০৪:৫৩:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

ডলি পার্টন শুধু একজন সংগীতশিল্পী ছিলেন না, তিনি ছিলেন গল্প বলার এক অসাধারণ কারিগর। ‘জোলিন’ গানে অন্য এক নারীর কাছে নিজের স্বামীকে ছেড়ে দেওয়ার আকুতি, ‘কোট অব ম্যানি কালারস’-এ শৈশবের দারিদ্র্য আর ‘নাইন টু ফাইভ’-এ কর্মজীবী মানুষের সংগ্রাম—জীবনের নানা অনুভূতিকে গানে তুলে বিশ্বজুড়ে শ্রোতার হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন ডলি পার্টন। ৮০ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যুতে শেষ হলো কান্ট্রি সংগীতের এক উজ্জ্বল অধ্যায়।

১৯৪৬ সালের ১৯ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের সেভিয়ার কাউন্টিতে জন্ম ডলি রেবেকা পার্টনের। ১২ ভাই-বোনের বড় পরিবারে দারিদ্র্যের মধ্যেই বেড়ে ওঠেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই গান ছিল তাঁর জীবনের সঙ্গী। স্থানীয় বেতার থেকে গ্র্যান্ড ওলে অপ্রি—খুব অল্প বয়সেই সংগীতজগতে নিজের উপস্থিতি জানান দেন তিনি। পরে ন্যাশভিলে গিয়ে গীতিকার হিসেবে কাজ শুরু করেন। নিজের লেখা গান ও স্বতন্ত্র কণ্ঠ তাঁকে দ্রুত আলাদা পরিচিতি এনে দেয়। সাত দশকের ক্যারিয়ারে তিনি ১০ কোটির বেশি রেকর্ড বিক্রি করেছেন এবং অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন।

আরও পড়ুন  সংগীতশিল্পী ডলি পার্টনের মৃত্যু: ১টি ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সমাপ্তি

‘জোলিন’ ডলি পার্টনের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আলোচিত গানগুলোর একটি। ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত এই গানের পেছনে ছিল তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। ডলি জানিয়েছিলেন, লাল চুলের এক ব্যাংককর্মী তাঁর স্বামীর প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহ দেখাতেন। সেই ঘটনা থেকেই গানের ভাবনা আসে। তবে ব্যক্তিগত ঘটনা ছাড়িয়ে গানটি হয়ে ওঠে ভালোবাসা হারানোর ভয়, ঈর্ষা ও অনিশ্চয়তার সার্বজনীন গল্প। পরে বিভিন্ন প্রজন্মের শিল্পী গানটি নিজেদের মতো করে পরিবেশন করেছেন। পরের বছরই ডলি লেখেন ‘আই উইল অলওয়েজ লাভ ইউ’। পোর্টার ওয়াগনারের সঙ্গে পেশাগত বিচ্ছেদের আবেগ থেকে তৈরি গানটি পরে হুইটনি হিউস্টনের কণ্ঠে নতুন ইতিহাস গড়ে।

ডলির গানের বড় শক্তি ছিল সাধারণ মানুষের গল্পকে সহজ ভাষায় তুলে ধরা। ‘কোট অব ম্যানি কালারস’-এ মায়ের হাতে তৈরি পোশাকের স্মৃতি, ‘মাই টেনেসি মাউন্টেন হোম’-এ শৈশবের বাড়ি আর ‘নাইন টু ফাইভ’-এ কর্মজীবী মানুষের বাস্তবতা উঠে এসেছে। জীবদ্দশায় তিনি প্রায় তিন হাজার গান লিখেছেন। ১৯৭৭ সালের ‘হিয়ার ইউ কাম এগেইন’ তাঁকে কান্ট্রি সংগীতের গণ্ডি পেরিয়ে পপ শ্রোতাদের কাছেও পৌঁছে দেয় এবং এনে দেয় প্রথম গ্র্যামি। কেনি রজার্সের সঙ্গে ‘আইল্যান্ডস ইন দ্য স্ট্রিম’-এর সাফল্যও তাঁর জনপ্রিয়তাকে আরও বিস্তৃত করে।

আরও পড়ুন  "অফিস রোমান্স"এর রেকর্ড: ২ কোটি ৪৬ লাখ ভিউয়ে নেটফ্লিক্সে ঝড়

সংগীতের পাশাপাশি অভিনয়েও সাফল্য পেয়েছেন ডলি। ‘নাইন টু ফাইভ’, ‘দ্য বেস্ট লিটল হোরহাউস ইন টেক্সাস’ ও ‘স্টিল ম্যাগনোলিয়াস’-এর মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শকের প্রশংসা পান তিনি। একই সঙ্গে উদ্যোক্তা হিসেবেও নিজের সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। টেনেসিতে তাঁর সঙ্গে যুক্ত ডলিউড পরে অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণে পরিণত হয়। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় মানবিক উদ্যোগগুলোর একটি ছিল ‘ইমাজিনেশন লাইব্রেরি’। ১৯৯৫ সালে চালু হওয়া এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে শিশুদের হাতে ৩০ কোটির বেশি বই পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। করোনা টিকার গবেষণাতেও তিনি ১০ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন  রাজনীতি, প্রেম আর হাসির গল্প—আগস্টে চরকিতে নতুন ৩ কনটেন্ট

ডলি পার্টন ২০২৬ সালের ২৫ আগস্ট ন্যাশভিলের ভ্যান্ডারবিল্ট-ইনগ্রাম ক্যানসার সেন্টারে স্বজনদের উপস্থিতিতে মারা যান। তাঁর প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, অল্প সময়ের ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইয়ের পর শান্তিপূর্ণভাবে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সংগীতজগতসহ বিভিন্ন অঙ্গনে শোক নেমে আসে। তবে তাঁর রেখে যাওয়া গান, অভিনয়, ব্যবসায়িক উদ্যোগ ও মানবিক কাজ তাঁকে বহু প্রজন্মের কাছে জীবন্ত করে রাখবে। ‘জোলিন’ কিংবা ‘আই উইল অলওয়েজ লাভ ইউ’ শুধু গান নয়, ডলি পার্টনের দীর্ঘ সৃষ্টিশীল জীবনের স্মারক হয়ে থাকবে।