ঢাকা ০৬:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজার সৈকতে গোসল করতে নেমে পর্যটকের মৃত্যু

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৬:০২:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৪

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে নেমে তীব্র স্রোতে ভেসে এক পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ আরও একজন। সংগৃহীত

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে নেমে তীব্র স্রোতের টানে ভেসে গিয়ে এক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ইব্রাহিম খান নামের আরও এক পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে সৈকতের ‘জল তরঙ্গ’ পয়েন্ট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ইয়াসিন খান ও নিখোঁজ ইব্রাহিম খান দুজনই ঢাকার কুড়িল এলাকার বাসিন্দা এবং আই জেড কেপি নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।বীচকর্মী ও নিহতের স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, আই জেড কেপি প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক ভ্রমণে সম্প্রতি তারা কক্সবাজারে যান।

বুধবার দুপুরে কয়েকজনের সঙ্গে তারা সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে নামেন। একপর্যায়ে হঠাৎ তীব্র স্রোতের টানে ইয়াসিন ও ইব্রাহিম ভেসে যান। বিষয়টি দেখতে পেয়ে আশপাশে থাকা লাইফগার্ড কর্মীরা দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।লাইফগার্ড কর্মীরা সাগরে নেমে ইয়াসিন খানকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন। পরে তাকে দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার পর নিহত ইয়াসিন খানের মরদেহ বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, একই স্রোতে ভেসে যাওয়া ইব্রাহিম খানের এখনও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাকে উদ্ধারে দুর্ঘটনার পর থেকেই সাগরে তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। বীচকর্মীরা নিখোঁজ পর্যটকের সন্ধানে বিভিন্নভাবে খোঁজখবর চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়নি।ঘটনার সাক্ষী ও সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের দিকে দুই পর্যটক সমুদ্রে গোসল করতে নামার পর হঠাৎ স্রোতের টানে ভেসে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। বিষয়টি বুঝতে পেরে দ্রুত তাদের উদ্ধারে এগিয়ে যান লাইফগার্ড কর্মীরা। একজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অপরজন স্রোতে ভেসে গিয়ে নিখোঁজ হন।

নিহত ইয়াসিন খান ও নিখোঁজ ইব্রাহিম খান একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। তারা ঢাকার কুড়িল এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক ভ্রমণের অংশ হিসেবে তারা কক্সবাজারে গিয়েছিলেন। আনন্দ ভ্রমণে গিয়ে এমন দুর্ঘটনায় একজনের মৃত্যু এবং আরেকজন নিখোঁজ হওয়ায় সহকর্মী ও স্বজনদের মধ্যে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।সৈকতে গোসল করতে নামার সময় সমুদ্রের স্রোত সম্পর্কে সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে স্রোত বেশি থাকলে পানিতে নামা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

পর্যটকদের জন্য নির্ধারিত নিরাপদ এলাকায় এবং বীচকর্মীদের নির্দেশনা মেনে সমুদ্রে নামার পরামর্শ দেওয়া হয়। সামান্য অসতর্কতাও কখনো কখনো বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।এ ঘটনায় একদিকে যেমন একজন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে, অন্যদিকে নিখোঁজ রয়েছেন আরও একজন। নিখোঁজ ইব্রাহিম খানকে উদ্ধারে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। তার স্বজন ও সহকর্মীরা দ্রুত উদ্ধারের আশায় অপেক্ষা করছেন। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।

কক্সবাজারে প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক পর্যটক সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে আসেন। তাদের অনেকেই সৈকতে নেমে সমুদ্রের পানিতে গোসল করেন। তবে সমুদ্রের ঢেউ ও স্রোতের আচরণ সব সময় একই থাকে না। তাই পানিতে নামার আগে সতর্কতা অবলম্বন করা এবং দায়িত্বশীলদের নির্দেশনা মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ।বুধবারের দুর্ঘটনাটিও হঠাৎ তীব্র স্রোতের কারণে ঘটেছে বলে বীচকর্মী ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে। দুই পর্যটককে স্রোতে ভেসে যেতে দেখে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করা হয়।

ইয়াসিনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। অপরদিকে ইব্রাহিমকে উদ্ধারে তল্লাশি চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।নিহত ইয়াসিন খানের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। তার পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের বিষয়টি জানানো হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।একইভাবে নিখোঁজ ইব্রাহিমের উদ্ধারে চলমান অভিযানের পরবর্তী অগ্রগতি সম্পর্কেও তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।

সমুদ্রসৈকতে এমন দুর্ঘটনা পর্যটকদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। পানিতে নামার আগে সাগরের পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি লাইফগার্ড কর্মীদের সতর্কবার্তা উপেক্ষা না করে নিরাপদ স্থানে গোসল করা উচিত। ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে সমুদ্রে না নামাই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।এদিকে নিখোঁজ ইব্রাহিম খানকে উদ্ধারে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।তবে এখনো তার কোনো সন্ধান না পাওয়ায় স্বজনদের মধ্যে উৎকণ্ঠা রয়েছে। উদ্ধার অভিযান শেষে এ বিষয়ে আরও তথ্য জানা যেতে পারে।

কক্সবাজার সৈকতে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় একজন পর্যটকের মৃত্যু এবং আরেকজনের নিখোঁজের ঘটনায় ভ্রমণকারীদের মধ্যে সতর্কতার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। সমুদ্রে নামার সময় আবহাওয়া, ঢেউ ও স্রোতের পরিস্থিতি বিবেচনা করা জরুরি। বিশেষ করে তীব্র স্রোত থাকলে পানিতে না নামাই নিরাপদ। নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চললে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজার সৈকতে গোসল করতে নেমে পর্যটকের মৃত্যু

Update Time : ০৬:০২:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে নেমে তীব্র স্রোতের টানে ভেসে গিয়ে এক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ইব্রাহিম খান নামের আরও এক পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে সৈকতের ‘জল তরঙ্গ’ পয়েন্ট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ইয়াসিন খান ও নিখোঁজ ইব্রাহিম খান দুজনই ঢাকার কুড়িল এলাকার বাসিন্দা এবং আই জেড কেপি নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।বীচকর্মী ও নিহতের স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, আই জেড কেপি প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক ভ্রমণে সম্প্রতি তারা কক্সবাজারে যান।

বুধবার দুপুরে কয়েকজনের সঙ্গে তারা সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে নামেন। একপর্যায়ে হঠাৎ তীব্র স্রোতের টানে ইয়াসিন ও ইব্রাহিম ভেসে যান। বিষয়টি দেখতে পেয়ে আশপাশে থাকা লাইফগার্ড কর্মীরা দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।লাইফগার্ড কর্মীরা সাগরে নেমে ইয়াসিন খানকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন। পরে তাকে দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার পর নিহত ইয়াসিন খানের মরদেহ বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, একই স্রোতে ভেসে যাওয়া ইব্রাহিম খানের এখনও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাকে উদ্ধারে দুর্ঘটনার পর থেকেই সাগরে তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। বীচকর্মীরা নিখোঁজ পর্যটকের সন্ধানে বিভিন্নভাবে খোঁজখবর চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়নি।ঘটনার সাক্ষী ও সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের দিকে দুই পর্যটক সমুদ্রে গোসল করতে নামার পর হঠাৎ স্রোতের টানে ভেসে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। বিষয়টি বুঝতে পেরে দ্রুত তাদের উদ্ধারে এগিয়ে যান লাইফগার্ড কর্মীরা। একজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অপরজন স্রোতে ভেসে গিয়ে নিখোঁজ হন।

নিহত ইয়াসিন খান ও নিখোঁজ ইব্রাহিম খান একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। তারা ঢাকার কুড়িল এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক ভ্রমণের অংশ হিসেবে তারা কক্সবাজারে গিয়েছিলেন। আনন্দ ভ্রমণে গিয়ে এমন দুর্ঘটনায় একজনের মৃত্যু এবং আরেকজন নিখোঁজ হওয়ায় সহকর্মী ও স্বজনদের মধ্যে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।সৈকতে গোসল করতে নামার সময় সমুদ্রের স্রোত সম্পর্কে সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে স্রোত বেশি থাকলে পানিতে নামা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

পর্যটকদের জন্য নির্ধারিত নিরাপদ এলাকায় এবং বীচকর্মীদের নির্দেশনা মেনে সমুদ্রে নামার পরামর্শ দেওয়া হয়। সামান্য অসতর্কতাও কখনো কখনো বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।এ ঘটনায় একদিকে যেমন একজন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে, অন্যদিকে নিখোঁজ রয়েছেন আরও একজন। নিখোঁজ ইব্রাহিম খানকে উদ্ধারে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। তার স্বজন ও সহকর্মীরা দ্রুত উদ্ধারের আশায় অপেক্ষা করছেন। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।

কক্সবাজারে প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক পর্যটক সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে আসেন। তাদের অনেকেই সৈকতে নেমে সমুদ্রের পানিতে গোসল করেন। তবে সমুদ্রের ঢেউ ও স্রোতের আচরণ সব সময় একই থাকে না। তাই পানিতে নামার আগে সতর্কতা অবলম্বন করা এবং দায়িত্বশীলদের নির্দেশনা মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ।বুধবারের দুর্ঘটনাটিও হঠাৎ তীব্র স্রোতের কারণে ঘটেছে বলে বীচকর্মী ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে। দুই পর্যটককে স্রোতে ভেসে যেতে দেখে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করা হয়।

ইয়াসিনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। অপরদিকে ইব্রাহিমকে উদ্ধারে তল্লাশি চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।নিহত ইয়াসিন খানের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। তার পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের বিষয়টি জানানো হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।একইভাবে নিখোঁজ ইব্রাহিমের উদ্ধারে চলমান অভিযানের পরবর্তী অগ্রগতি সম্পর্কেও তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।

সমুদ্রসৈকতে এমন দুর্ঘটনা পর্যটকদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। পানিতে নামার আগে সাগরের পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি লাইফগার্ড কর্মীদের সতর্কবার্তা উপেক্ষা না করে নিরাপদ স্থানে গোসল করা উচিত। ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে সমুদ্রে না নামাই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।এদিকে নিখোঁজ ইব্রাহিম খানকে উদ্ধারে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।তবে এখনো তার কোনো সন্ধান না পাওয়ায় স্বজনদের মধ্যে উৎকণ্ঠা রয়েছে। উদ্ধার অভিযান শেষে এ বিষয়ে আরও তথ্য জানা যেতে পারে।

কক্সবাজার সৈকতে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় একজন পর্যটকের মৃত্যু এবং আরেকজনের নিখোঁজের ঘটনায় ভ্রমণকারীদের মধ্যে সতর্কতার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। সমুদ্রে নামার সময় আবহাওয়া, ঢেউ ও স্রোতের পরিস্থিতি বিবেচনা করা জরুরি। বিশেষ করে তীব্র স্রোত থাকলে পানিতে না নামাই নিরাপদ। নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চললে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।