পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (পিমস) হাসপাতালের মাতৃসদনে ভয়াবহ আগুনে ১৪ নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার ভোরে তৃতীয় তলার একটি কক্ষে আগুনের সূত্রপাত হয়। সেখানে থাকা ১৫ নবজাতকের মধ্যে মাত্র একজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের অভিযোগ, আগুন লাগার পর নবজাতকদের উদ্ধারে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। কয়েকজন দাবি করেছেন, মাতৃসদনের দরজা তালাবদ্ধ থাকায় ভেতরে থাকা শিশুদের দ্রুত বের করা সম্ভব হয়নি। এমনকি সাধারণ মানুষকে দরজা ভাঙার চেষ্টা করতে হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
নিহত এক শিশুর বাবা খুররম মেহমুদ বলেন, তাঁর তিন দিনের মেয়েকে হারিয়েছেন তিনি। আরেক শিশুর মা জাওয়েরিয়া দাবি করেন, তিনি প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে কাঁদতে ও সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে থাকেন। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে আরও কয়েক ঘণ্টা সময় নেয়।
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দরজা তালাবদ্ধ থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পিমসের নির্বাহী পরিচালক রানা ইমরান সিকান্দার বলেন, ওয়ার্ডের দরজা বন্ধ ছিল না, সেখানে একজন পাহারাদার দায়িত্বে ছিলেন। শিশু চুরির ঘটনা ঠেকাতেই হাসপাতালের নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখা হয়েছিল বলে জানান তিনি।
ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা কর্মীদের উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, আগুন লাগার সময় সেখানে পর্যাপ্ত কর্মী ছিলেন না। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, মানুষকে নিজেরাই দরজা ভাঙতে হয়েছে এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে উদ্ধারকারীদের জানালা ভাঙতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল গফুর বলেন, রোগীদের বাঁচাতে তিনি ভবনের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু মাতৃসদন পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেননি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ভেতরে ঘন কালো ধোঁয়া ছিল এবং অনেক রোগী আটকা পড়েছিলেন।
অন্যদিকে ইসলামাবাদের চিফ কমিশনার সোহেল আশরাফ দাবি করেছেন, জরুরি ফোন পাওয়ার পরপরই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। আগুনের সূত্রপাত একটি শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র থেকে হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
পিমস পাকিস্তানের অন্যতম বড় সরকারি হাসপাতাল। এর মা ও শিশু স্বাস্থ্য ইউনিটে ১৫৬টি শয্যা রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় দুর্বল অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জরুরি বহির্গমন পথের ঘাটতি নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা ও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব আসলাম ঘৌরিকে বরখাস্ত করা হয়েছে। নবজাতকদের মৃত্যুতে এ ঘটনাকে অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে উল্লেখ করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

























