ঢাকা ০৮:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বিপদে দোয়েল পাখি! কেন কমছে বাংলাদেশের জাতীয় পাখির সংখ্যা? Logo গাজায় সেরা শিক্ষার্থী সাবা রাবাহের অনুপ্রেরণার গল্প Logo ফ্রিডমের ‘স্কুটি নাকি গোল্ড’ ক্যাম্পেইন: বিজয়ীদের হাতে উঠল পুরস্কার Logo মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বৃদ্ধি করেছে সরকার। Logo গ্যাস অনুসন্ধান রিগে বড় উদ্যোগ, বাপেক্স পাচ্ছে নতুন শক্তি Logo এসএসসি ফল প্রকাশ: সুখবর, ১০ আগস্ট মিলবে ফলাফল Logo চন্দনাইশে পূবালী ব্যাংকের ৩ দিনব্যাপি ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ ’ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন Logo ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো টিভি সিরিজ: চমকপ্রদ নতুন অধ্যায় শুরু Logo আন্দ্রেয়া পিরলো বিতর্ক: ইতালির কোচ হওয়ার আগেই বেটিং প্রতিষ্ঠানের প্রশ্নে নতুন চাপ Logo গভীর নিম্নচাপের প্রভাব: আজ থেকে বাড়বে বৃষ্টি, জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর

গাজায় সেরা শিক্ষার্থী সাবা রাবাহের অনুপ্রেরণার গল্প

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৭:১৫:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
  • ৫১৫

কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন সাবা রাবাহ। ছবি: সংগৃহীত

গাজায় সেরা শিক্ষার্থী সাবা রাবাহ প্রমাণ করেছেন, স্বপ্নের সামনে যুদ্ধও হার মানতে পারে। বাবা হারানো, ঘরবাড়ি ধ্বংস হওয়া এবং একের পর এক বাস্তুচ্যুত হওয়ার মতো কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও তিনি ফিলিস্তিনের জাতীয় উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা ‘তাওজিহি’-তে বিজ্ঞান বিভাগে সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করে সবাইকে অনুপ্রাণিত করেছেন।

মাত্র কয়েক দিন পরই পরীক্ষা। এমন সময় গাজার মধ্যাঞ্চলে তাদের অস্থায়ী আশ্রয়ের বিপরীত পাশে ভয়াবহ বোমা হামলা হয়। জীবন বাঁচাতে পরিবার নিয়ে আবারও পালিয়ে যেতে হয় সাবাকে। কিন্তু এই অনিশ্চয়তার মধ্যেও পড়াশোনা থামাননি তিনি। বারবার বই হারিয়েছেন, বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট ছাড়া রাত কাটিয়েছেন, তবুও নিজের লক্ষ্য থেকে এক মুহূর্তের জন্যও সরে যাননি।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান যুদ্ধের কারণে গাজার অধিকাংশ স্কুল ধ্বংস হয়ে যায়। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিণত হয় বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়কেন্দ্রে। এমন পরিস্থিতিতে হাজারো শিক্ষার্থীর মতো সাবাকেও কঠিন পরিবেশে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। এরপরও তিনি ৯৯.৯ শতাংশ নম্বর পেয়ে বিজ্ঞান বিভাগে সারাদেশে প্রথম হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

এই সাফল্য তিনি উৎসর্গ করেছেন তার প্রয়াত বাবা ফায়েদ রাবাহ, মা, ভাইবোন এবং শিক্ষকদের। তার বাবা জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউ-এর একটি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। ২০২৪ সালের জুনে বিমান হামলায় তিনি নিহত হন। বাবার সেই স্বপ্নই আজ নিজের স্বপ্নে পরিণত করেছেন সাবা।

সাবার ভাষায়, তারা এতবার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন যে সঠিক সংখ্যা মনে নেই। তাদের বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে, অর্ধেক বই হারিয়ে ফেলেছেন। তবুও ভয় কিংবা দুর্ভোগ তাকে দমাতে পারেনি। পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য কখনো অন্য এলাকায় যেতে হয়েছে, আবার কখনো মোবাইল ফোনের টর্চের আলোয় পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হয়েছে।

বর্তমানে সাবার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন চিকিৎসাবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করা। তিনি চান একটি পূর্ণ বৃত্তি অর্জন করে বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে। তার এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত নয়; এটি যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার হাজারো শিক্ষার্থীর জন্যও আশা, সাহস এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক উজ্জ্বল প্রতীক।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিপদে দোয়েল পাখি! কেন কমছে বাংলাদেশের জাতীয় পাখির সংখ্যা?

গাজায় সেরা শিক্ষার্থী সাবা রাবাহের অনুপ্রেরণার গল্প

Update Time : ০৭:১৫:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

গাজায় সেরা শিক্ষার্থী সাবা রাবাহ প্রমাণ করেছেন, স্বপ্নের সামনে যুদ্ধও হার মানতে পারে। বাবা হারানো, ঘরবাড়ি ধ্বংস হওয়া এবং একের পর এক বাস্তুচ্যুত হওয়ার মতো কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও তিনি ফিলিস্তিনের জাতীয় উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা ‘তাওজিহি’-তে বিজ্ঞান বিভাগে সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করে সবাইকে অনুপ্রাণিত করেছেন।

মাত্র কয়েক দিন পরই পরীক্ষা। এমন সময় গাজার মধ্যাঞ্চলে তাদের অস্থায়ী আশ্রয়ের বিপরীত পাশে ভয়াবহ বোমা হামলা হয়। জীবন বাঁচাতে পরিবার নিয়ে আবারও পালিয়ে যেতে হয় সাবাকে। কিন্তু এই অনিশ্চয়তার মধ্যেও পড়াশোনা থামাননি তিনি। বারবার বই হারিয়েছেন, বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট ছাড়া রাত কাটিয়েছেন, তবুও নিজের লক্ষ্য থেকে এক মুহূর্তের জন্যও সরে যাননি।

আরও পড়ুন  ভাইরাল জিমিন হলান্ড হাঁটা: অবাক করা মুহূর্তে মাতল ভক্তরা

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান যুদ্ধের কারণে গাজার অধিকাংশ স্কুল ধ্বংস হয়ে যায়। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিণত হয় বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়কেন্দ্রে। এমন পরিস্থিতিতে হাজারো শিক্ষার্থীর মতো সাবাকেও কঠিন পরিবেশে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। এরপরও তিনি ৯৯.৯ শতাংশ নম্বর পেয়ে বিজ্ঞান বিভাগে সারাদেশে প্রথম হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

এই সাফল্য তিনি উৎসর্গ করেছেন তার প্রয়াত বাবা ফায়েদ রাবাহ, মা, ভাইবোন এবং শিক্ষকদের। তার বাবা জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউ-এর একটি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। ২০২৪ সালের জুনে বিমান হামলায় তিনি নিহত হন। বাবার সেই স্বপ্নই আজ নিজের স্বপ্নে পরিণত করেছেন সাবা।

আরও পড়ুন  বিশ্বকাপের নায়ক কুকুরেয়া, মাঠের বাইরের লড়াই আরও কঠিন

সাবার ভাষায়, তারা এতবার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন যে সঠিক সংখ্যা মনে নেই। তাদের বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে, অর্ধেক বই হারিয়ে ফেলেছেন। তবুও ভয় কিংবা দুর্ভোগ তাকে দমাতে পারেনি। পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য কখনো অন্য এলাকায় যেতে হয়েছে, আবার কখনো মোবাইল ফোনের টর্চের আলোয় পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হয়েছে।

বর্তমানে সাবার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন চিকিৎসাবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করা। তিনি চান একটি পূর্ণ বৃত্তি অর্জন করে বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে। তার এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত নয়; এটি যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার হাজারো শিক্ষার্থীর জন্যও আশা, সাহস এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক উজ্জ্বল প্রতীক।

আরও পড়ুন  ইউরোপে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ: ১৮ মৃত্যু, ভাঙছে সব রেকর্ড