ঢাকা ১০:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ভেজালবিরোধী অভিযান জোরদারে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর Logo মেসির স্ত্রীকে রোনালদোর বান্ধবীর বিশেষ উপহার, যা জানালেন Logo প্রেগন্যান্সি কিটে হালকা দাগ কেন? জানুন আসল কারণ Logo এনআইডি সংশোধন নতুন নিয়ম, যা জানা জরুরি Logo রোনালদো কেন সাংবাদিককে বললেন ‘ভালো প্রশ্ন করুন’? Logo পরিশ্রম না করেও সারাক্ষণ ঘুম পায়? জেনে নিন কারণ Logo ট্রাম্পের এফ-৩৫ পরিকল্পনায় ক্ষুব্ধ নেতানিয়াহু, তুরস্ককে কড়া বার্তা Logo বিয়ের প্রথম রাতে ভয় কাটাতে নারীদের যা জানা জরুরি Logo গাজার প্রশাসনিক কমিটি ভেঙে দেওয়া, হামাসের নতুন সিদ্ধান্তে গাজা শাসনে বড় পরিবর্তন Logo ওয়ানডেতেও লজ্জার হারে সিরিজ শুরু বাংলাদেশের

গাজার প্রশাসনিক কমিটি ভেঙে দেওয়া, হামাসের নতুন সিদ্ধান্তে গাজা শাসনে বড় পরিবর্তন

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৮:৫৮:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
  • ৫০৮

গাজার প্রশাসনিক কমিটি ভেঙে দেওয়া বিষয়ে হামাসের সিদ্ধান্তের প্রতীকী দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

গাজার প্রশাসনিক কমিটি ভেঙে দেওয়া ঘোষণা দিয়েছে Hamas, যা গাজা উপত্যকার ভবিষ্যৎ শাসন ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে সেখানে টেকনোক্র্যাটদের নেতৃত্বাধীন একটি বেসামরিক প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি দীর্ঘদিন ধরে চলমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অচলাবস্থায় নতুন গতিপথ আনতে পারে।

২০০৭ সালে HamasFatah-এর সংঘর্ষের পর থেকে গাজার শাসনভার হামাসের হাতে থাকে। এরপর ২০০৬ সালের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর থেকেই তারা গাজায় কার্যত প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। তবে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি ও আন্তর্জাতিক চাপের কারণে শাসন কাঠামো পরিবর্তনের আলোচনা জোরালো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জরুরি সরকারি কমিটির প্রধান মোহাম্মদ আল-ফাররা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রশাসনিক ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য গঠিত জাতীয় কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অফ গাজা (NACG)-এর কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর সহজ করতে কমিটি বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই কমিটি গঠিত হয়েছিল যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায়, যেখানে Donald Trump-এর মধ্যস্থতার কথাও উল্লেখ রয়েছে।

হামাসের মুখপাত্ররা দাবি করেছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে গাজা শাসন থেকে ধাপে ধাপে সরে যাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ হবে। একই সঙ্গে তারা বলছেন, ইসরায়েলি আগ্রাসনের অজুহাত আর থাকবে না। তবে তারা স্পষ্ট করেছে যে অস্ত্র ত্যাগের কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই, যা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমঝোতাকে জটিল করে তুলতে পারে।

অন্যদিকে, NACG নামের টেকনোক্র্যাট নেতৃত্বাধীন সংস্থাটি গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব নেওয়ার কথা থাকলেও নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক কারণে এখনো পূর্ণভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেনি। তারা বর্তমানে গাজার বাইরে অবস্থান করছে এবং আন্তর্জাতিক সমর্থনের অপেক্ষায় রয়েছে। এই অবস্থায় প্রশাসনিক শূন্যতা ও অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে European Union হামাস ও ইসলামিক জিহাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। একই সঙ্গে অভিযোগ উঠেছে যে গাজার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা এখন ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। চলমান সংঘাতে বহু প্রাণহানি ও মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে।

কায়রোতে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হলেও দ্বিতীয় ধাপের যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন এখনও আটকে আছে। বন্দি বিনিময় ও সেনা প্রত্যাহারের মতো বিষয়গুলো নিয়ে অগ্রগতি হয়নি। ফলে গাজার ভবিষ্যৎ শাসন ব্যবস্থা এখনো অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে।

সব মিলিয়ে গাজার প্রশাসনিক কমিটি ভেঙে দেওয়া সিদ্ধান্ত একটি বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেও বাস্তবে এর সফল বাস্তবায়ন নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক সমঝোতা, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভেজালবিরোধী অভিযান জোরদারে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

গাজার প্রশাসনিক কমিটি ভেঙে দেওয়া, হামাসের নতুন সিদ্ধান্তে গাজা শাসনে বড় পরিবর্তন

Update Time : ০৮:৫৮:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

গাজার প্রশাসনিক কমিটি ভেঙে দেওয়া ঘোষণা দিয়েছে Hamas, যা গাজা উপত্যকার ভবিষ্যৎ শাসন ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে সেখানে টেকনোক্র্যাটদের নেতৃত্বাধীন একটি বেসামরিক প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি দীর্ঘদিন ধরে চলমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অচলাবস্থায় নতুন গতিপথ আনতে পারে।

২০০৭ সালে HamasFatah-এর সংঘর্ষের পর থেকে গাজার শাসনভার হামাসের হাতে থাকে। এরপর ২০০৬ সালের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর থেকেই তারা গাজায় কার্যত প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। তবে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি ও আন্তর্জাতিক চাপের কারণে শাসন কাঠামো পরিবর্তনের আলোচনা জোরালো হয়।

আরও পড়ুন  পূর্ব ফ্রান্সে উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে ১১ জন নিহত

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জরুরি সরকারি কমিটির প্রধান মোহাম্মদ আল-ফাররা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রশাসনিক ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য গঠিত জাতীয় কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অফ গাজা (NACG)-এর কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর সহজ করতে কমিটি বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই কমিটি গঠিত হয়েছিল যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায়, যেখানে Donald Trump-এর মধ্যস্থতার কথাও উল্লেখ রয়েছে।

হামাসের মুখপাত্ররা দাবি করেছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে গাজা শাসন থেকে ধাপে ধাপে সরে যাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ হবে। একই সঙ্গে তারা বলছেন, ইসরায়েলি আগ্রাসনের অজুহাত আর থাকবে না। তবে তারা স্পষ্ট করেছে যে অস্ত্র ত্যাগের কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই, যা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমঝোতাকে জটিল করে তুলতে পারে।

আরও পড়ুন  যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সমঝোতা

অন্যদিকে, NACG নামের টেকনোক্র্যাট নেতৃত্বাধীন সংস্থাটি গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব নেওয়ার কথা থাকলেও নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক কারণে এখনো পূর্ণভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেনি। তারা বর্তমানে গাজার বাইরে অবস্থান করছে এবং আন্তর্জাতিক সমর্থনের অপেক্ষায় রয়েছে। এই অবস্থায় প্রশাসনিক শূন্যতা ও অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে European Union হামাস ও ইসলামিক জিহাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। একই সঙ্গে অভিযোগ উঠেছে যে গাজার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা এখন ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। চলমান সংঘাতে বহু প্রাণহানি ও মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুন  যেকোনো মুহূর্তে আবার যুদ্ধ শুরু হতে পারে—ইরানের সতর্কবার্তা

কায়রোতে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হলেও দ্বিতীয় ধাপের যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন এখনও আটকে আছে। বন্দি বিনিময় ও সেনা প্রত্যাহারের মতো বিষয়গুলো নিয়ে অগ্রগতি হয়নি। ফলে গাজার ভবিষ্যৎ শাসন ব্যবস্থা এখনো অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে।

সব মিলিয়ে গাজার প্রশাসনিক কমিটি ভেঙে দেওয়া সিদ্ধান্ত একটি বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেও বাস্তবে এর সফল বাস্তবায়ন নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক সমঝোতা, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর।