ঢাকা ১০:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরিশ্রম না করেও সারাক্ষণ ঘুম পায়? জেনে নিন কারণ

অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব অনেক সময় শরীরের লুকিয়ে থাকা সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।

পরিশ্রম না করেও যদি সারাক্ষণ ঘুম ঘুম লাগে, তাহলে বিষয়টি শুধু অলসতা বলে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। চিকিৎসকদের মতে, এটি শরীরের বিভিন্ন শারীরিক বা মানসিক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে এই সমস্যা যদি দুই থেকে চার সপ্তাহের বেশি সময় ধরে থাকে এবং দৈনন্দিন কাজের ওপর প্রভাব ফেলে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

ঘুম সাধারণত শারীরিক ক্লান্তির সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও সব সময় তা-ই নয়। অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, একঘেয়ে কাজ করা, শরীরচর্চার অভাব কিংবা রাতের শিফটে কাজ করার কারণেও দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুম পেতে পারে। এর পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন রোগও এই সমস্যার জন্য দায়ী হতে পারে।

কেন পরিশ্রম না করেও সারাক্ষণ ঘুম পায়?

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাবের পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। যেমন—

  • দীর্ঘ সময় একটানা বসে থাকা বা একঘেয়ে কাজ করা।
  • নিয়মিত ব্যায়াম বা শরীরচর্চার অভাব।
  • রাতের শিফটে কাজ করার কারণে ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট হওয়া।
  • পর্যাপ্ত বা মানসম্মত ঘুম না হওয়া।
  • ঘুমের সময় শ্বাসপ্রশ্বাসে বাধা (স্লিপ অ্যাপনিয়া) তৈরি হওয়া।

যেসব রোগের কারণে সারাক্ষণ ঘুম পেতে পারে

শরীরের কিছু রোগ অতিরিক্ত ঘুমের অন্যতম কারণ হতে পারে। যেমন—

  • থাইরয়েড হরমোন কমে যাওয়া: এতে শরীরের বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যায় এবং ক্লান্তি ও তন্দ্রাভাব দেখা দেয়।
  • ডায়াবেটিস: রক্তে শর্করার মাত্রা খুব বেশি বেড়ে গেলে বা হঠাৎ কমে গেলেও দুর্বলতা ও ঘুম পেতে পারে।
  • রক্তশূন্যতা (অ্যানিমিয়া): শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে পর্যাপ্ত অক্সিজেন না পৌঁছালে সারাক্ষণ ক্লান্তি অনুভূত হয়।
  • কিডনি বা লিভারের সমস্যা: শরীরে বর্জ্য পদার্থ জমে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।
  • ভাইরাসজনিত সংক্রমণ: অসুস্থতার সময় এবং সুস্থ হওয়ার পরও কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত অতিরিক্ত ঘুমের সমস্যা থাকতে পারে।

আরও যেসব কারণে ঘুম ঘুম ভাব হয়

শুধু রোগ নয়, আরও কিছু কারণেও দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুম আসতে পারে।

  • শরীরে পানিশূন্যতা।
  • ডায়রিয়া বা বমির কারণে পানি ও লবণের ঘাটতি।
  • অতিরিক্ত ওজন।
  • মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা।
  • ঠান্ডা, অ্যালার্জি, ব্যথানাশক বা উদ্বেগ কমানোর কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।

যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে

অতিরিক্ত ঘুমের সঙ্গে আরও কিছু উপসর্গও দেখা দিতে পারে। যেমন—

  • সারাক্ষণ ক্লান্তি ও অবসাদ লাগা।
  • মাথাব্যথা বা মাথা ঝিমঝিম করা।
  • খিটখিটে মেজাজ।
  • মনোযোগ ও স্মরণশক্তি কমে যাওয়া।
  • কাজের দক্ষতা ও কর্মক্ষমতা হ্রাস পাওয়া।

সমস্যা কমাতে যা করবেন

বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনলে অনেক ক্ষেত্রেই এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

  • প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যান এবং একই সময়ে ঘুম থেকে উঠুন।
  • প্রতিদিন পর্যাপ্ত সময় ঘুম নিশ্চিত করুন।
  • দীর্ঘক্ষণ একটানা বসে না থেকে মাঝেমধ্যে হাঁটুন।
  • নিয়মিত ব্যায়াম বা অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস করুন।
  • পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং পুষ্টিকর সুষম খাবার খান।
  • ডায়াবেটিস, থাইরয়েড, কিডনি বা লিভারের রোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা চালিয়ে যান।
  • কোনো ওষুধ খাওয়ার পর অতিরিক্ত ঘুম পেলে চিকিৎসককে বিষয়টি জানান।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

যদি অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব দুই থেকে চার সপ্তাহের বেশি সময় ধরে থাকে, কর্মক্ষমতা কমে যায়, অফিস বা পড়াশোনায় সমস্যা হয় কিংবা দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সঠিক কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা শুরু করলে ভবিষ্যতের জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

অতিরিক্ত ঘুমকে কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। এটি অনেক সময় শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা কোনো সমস্যার আগাম সতর্ক সংকেত হতে পারে। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, পর্যাপ্ত ঘুম এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

পরিশ্রম না করেও সারাক্ষণ ঘুম পায়? জেনে নিন কারণ

Update Time : ০৯:১৫:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

পরিশ্রম না করেও যদি সারাক্ষণ ঘুম ঘুম লাগে, তাহলে বিষয়টি শুধু অলসতা বলে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। চিকিৎসকদের মতে, এটি শরীরের বিভিন্ন শারীরিক বা মানসিক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে এই সমস্যা যদি দুই থেকে চার সপ্তাহের বেশি সময় ধরে থাকে এবং দৈনন্দিন কাজের ওপর প্রভাব ফেলে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

ঘুম সাধারণত শারীরিক ক্লান্তির সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও সব সময় তা-ই নয়। অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, একঘেয়ে কাজ করা, শরীরচর্চার অভাব কিংবা রাতের শিফটে কাজ করার কারণেও দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুম পেতে পারে। এর পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন রোগও এই সমস্যার জন্য দায়ী হতে পারে।

কেন পরিশ্রম না করেও সারাক্ষণ ঘুম পায়?

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাবের পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। যেমন—

  • দীর্ঘ সময় একটানা বসে থাকা বা একঘেয়ে কাজ করা।
  • নিয়মিত ব্যায়াম বা শরীরচর্চার অভাব।
  • রাতের শিফটে কাজ করার কারণে ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট হওয়া।
  • পর্যাপ্ত বা মানসম্মত ঘুম না হওয়া।
  • ঘুমের সময় শ্বাসপ্রশ্বাসে বাধা (স্লিপ অ্যাপনিয়া) তৈরি হওয়া।
আরও পড়ুন  প্রথমবার বিশ্বকাপে উঠে চমকে দিল কেপ ভার্দে

যেসব রোগের কারণে সারাক্ষণ ঘুম পেতে পারে

শরীরের কিছু রোগ অতিরিক্ত ঘুমের অন্যতম কারণ হতে পারে। যেমন—

  • থাইরয়েড হরমোন কমে যাওয়া: এতে শরীরের বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যায় এবং ক্লান্তি ও তন্দ্রাভাব দেখা দেয়।
  • ডায়াবেটিস: রক্তে শর্করার মাত্রা খুব বেশি বেড়ে গেলে বা হঠাৎ কমে গেলেও দুর্বলতা ও ঘুম পেতে পারে।
  • রক্তশূন্যতা (অ্যানিমিয়া): শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে পর্যাপ্ত অক্সিজেন না পৌঁছালে সারাক্ষণ ক্লান্তি অনুভূত হয়।
  • কিডনি বা লিভারের সমস্যা: শরীরে বর্জ্য পদার্থ জমে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।
  • ভাইরাসজনিত সংক্রমণ: অসুস্থতার সময় এবং সুস্থ হওয়ার পরও কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত অতিরিক্ত ঘুমের সমস্যা থাকতে পারে।

আরও যেসব কারণে ঘুম ঘুম ভাব হয়

শুধু রোগ নয়, আরও কিছু কারণেও দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুম আসতে পারে।

  • শরীরে পানিশূন্যতা।
  • ডায়রিয়া বা বমির কারণে পানি ও লবণের ঘাটতি।
  • অতিরিক্ত ওজন।
  • মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা।
  • ঠান্ডা, অ্যালার্জি, ব্যথানাশক বা উদ্বেগ কমানোর কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।
আরও পড়ুন  কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো কলা চিনবেন যেভাবে

যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে

অতিরিক্ত ঘুমের সঙ্গে আরও কিছু উপসর্গও দেখা দিতে পারে। যেমন—

  • সারাক্ষণ ক্লান্তি ও অবসাদ লাগা।
  • মাথাব্যথা বা মাথা ঝিমঝিম করা।
  • খিটখিটে মেজাজ।
  • মনোযোগ ও স্মরণশক্তি কমে যাওয়া।
  • কাজের দক্ষতা ও কর্মক্ষমতা হ্রাস পাওয়া।

সমস্যা কমাতে যা করবেন

বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনলে অনেক ক্ষেত্রেই এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

  • প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যান এবং একই সময়ে ঘুম থেকে উঠুন।
  • প্রতিদিন পর্যাপ্ত সময় ঘুম নিশ্চিত করুন।
  • দীর্ঘক্ষণ একটানা বসে না থেকে মাঝেমধ্যে হাঁটুন।
  • নিয়মিত ব্যায়াম বা অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস করুন।
  • পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং পুষ্টিকর সুষম খাবার খান।
  • ডায়াবেটিস, থাইরয়েড, কিডনি বা লিভারের রোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা চালিয়ে যান।
  • কোনো ওষুধ খাওয়ার পর অতিরিক্ত ঘুম পেলে চিকিৎসককে বিষয়টি জানান।
আরও পড়ুন  ঘরেই তৈরি করুন রেস্টুরেন্টের স্বাদের কালা ভুনা

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

যদি অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব দুই থেকে চার সপ্তাহের বেশি সময় ধরে থাকে, কর্মক্ষমতা কমে যায়, অফিস বা পড়াশোনায় সমস্যা হয় কিংবা দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সঠিক কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা শুরু করলে ভবিষ্যতের জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

অতিরিক্ত ঘুমকে কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। এটি অনেক সময় শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা কোনো সমস্যার আগাম সতর্ক সংকেত হতে পারে। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, পর্যাপ্ত ঘুম এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।