ঢাকা ০৬:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo চট্টগ্রামে এক দিনের ভ্রমণ: ঘুরে দেখুন সেরা ৭ দর্শনীয় স্থান Logo গ্রেপ্তার এড়াতে চেহারা বদলেছিলেন ডেভিড ইমন, তবু শেষ রক্ষা হয়নি Logo ৪২ বছর বয়সে মাতৃত্বের স্বাদ পেলেন কারিশমা তান্না Logo চন্দনাইশে বন্যার পানিতে ভেসে গেল মৎস্যচাষি জেলে টিটু দাশের স্বপ্ন Logo জন্মদিনে ফিরে দেখা ববিতা, যে ১২টি তথ্য হয়তো জানেন না Logo একটি কভার গান বদলে দিয়েছে তাঁদের পথচলা, যেভাবে শুরু হয়েছিল যাত্রা Logo ‘গুলশানের চামেলি’তে নতুন রূপে বাঁধন, থাকছে শক্তিশালী নারী চরিত্র Logo গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডে গান জমা দেবে না বিটিএস, বিস্মিত ভক্তরা Logo অনুপম রায়ের ঢাকা কনসার্ট আবার স্থগিত, জানা গেল কারণ Logo মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় চীনের ক্ষোভ, ‘প্রয়োজনীয় জবাব’ দেওয়ার ঘোষণা

প্রথমবার বিশ্বকাপে উঠে চমকে দিল কেপ ভার্দে

  • Mir Yeaz Mahmud
  • Update Time : ০১:৩৯:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
  • ৫৩৬

বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করার পর কেপ ভার্দে দলের উচ্ছ্বাসপূর্ণ উদযাপন। | ছবি: সংগৃহীত

কেপ ভার্দে প্রথমবারের মতো ফুটবল বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়ে বিশ্ব ফুটবলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে আফ্রিকার এই ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রের অভিষেক ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের অনেক দর্শক এখন জানতে চাইছেন, কেপ ভার্দে কোথায় এবং দেশটি সম্পর্কে বিশেষ কী আছে।

আফ্রিকার পশ্চিম উপকূল থেকে আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে ছড়িয়ে থাকা কয়েকটি আগ্নেয় দ্বীপ নিয়ে গঠিত কেপ ভার্দে, যার বর্তমান সরকারি নাম কাবো ভের্দে। দেশটির জনসংখ্যা মাত্র ছয় লাখের কিছু বেশি হলেও ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিক থেকে এটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ একটি রাষ্ট্র।

কাবো ভের্দে নামের অর্থ ‘সবুজ অন্তরীপ’। ২০১৩ সালে দেশটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পর্তুগিজ নাম ‘কাবো ভের্দে’ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ এখনো দেশটিকে কেপ ভার্দে নামেই চেনে।

একসময় এই দ্বীপপুঞ্জে কোনো মানুষের বসবাস ছিল না। পঞ্চদশ শতকে পর্তুগিজ নাবিকেরা দ্বীপগুলো আবিষ্কার করার পর এখানে বসতি স্থাপন শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে আটলান্টিক দাস বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করে দেশটি।

দীর্ঘদিনের খরা ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ বিদেশে পাড়ি জমায়। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত কেপ ভার্দে বংশোদ্ভূত মানুষের সংখ্যা দেশটির মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশটির অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি।

ফুটবলের ক্ষেত্রে কেপ ভার্দের উত্থানও বেশ চমকপ্রদ। ২০১৫ সালে একটি প্রীতি ম্যাচে তারা ইউরোপের শক্তিশালী দল পর্তুগালকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মূল আসরে জায়গা করে নিয়েছে দেশটি।

প্রথমবার বিশ্বকাপে উঠে
বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়া কেপ ভার্দে

সংগীতপ্রেমী জাতি হিসেবে কেপ ভার্দের সুনাম রয়েছে। দেশটির জনপ্রিয় সংগীতধারা ‘মর্না’ বিশ্বজুড়ে পরিচিত। কিংবদন্তি শিল্পী সেজারিয়া এভোরা তাঁর গানের মাধ্যমে কাবো ভের্দেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত করে তুলেছিলেন।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যও দেশটি বিখ্যাত। কেপ ভার্দের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ পিকো দো ফোগো একটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি। এর ঢালে কফি, আঙুর ও বিভিন্ন ফলের চাষ হয়। পাশাপাশি এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক কচ্ছপের প্রজননক্ষেত্র হিসেবেও পরিচিত।

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং নিরাপদ পর্যটন গন্তব্য হিসেবে কেপ ভার্দে আফ্রিকার অন্যতম সফল দেশ। সুন্দর সৈকত, আগ্নেয় পাহাড় ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতির কারণে প্রতিবছর হাজারো পর্যটক এখানে ভ্রমণে আসেন।

২০২৬ বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের অংশগ্রহণ শুধু একটি ফুটবল সাফল্য নয়, বরং ছোট একটি দেশের বড় স্বপ্ন পূরণের গল্প। বিশ্বকাপের মঞ্চে তারা কতদূর যেতে পারবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়ে কেপ ভার্দে ইতোমধ্যেই ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে এক দিনের ভ্রমণ: ঘুরে দেখুন সেরা ৭ দর্শনীয় স্থান

প্রথমবার বিশ্বকাপে উঠে চমকে দিল কেপ ভার্দে

Update Time : ০১:৩৯:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

কেপ ভার্দে প্রথমবারের মতো ফুটবল বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়ে বিশ্ব ফুটবলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে আফ্রিকার এই ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রের অভিষেক ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের অনেক দর্শক এখন জানতে চাইছেন, কেপ ভার্দে কোথায় এবং দেশটি সম্পর্কে বিশেষ কী আছে।

আফ্রিকার পশ্চিম উপকূল থেকে আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে ছড়িয়ে থাকা কয়েকটি আগ্নেয় দ্বীপ নিয়ে গঠিত কেপ ভার্দে, যার বর্তমান সরকারি নাম কাবো ভের্দে। দেশটির জনসংখ্যা মাত্র ছয় লাখের কিছু বেশি হলেও ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিক থেকে এটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ একটি রাষ্ট্র।

কাবো ভের্দে নামের অর্থ ‘সবুজ অন্তরীপ’। ২০১৩ সালে দেশটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পর্তুগিজ নাম ‘কাবো ভের্দে’ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ এখনো দেশটিকে কেপ ভার্দে নামেই চেনে।

আরও পড়ুন  জার্মানির পরবর্তী কোচ হিসেবে আলোচনায় ইয়ুর্গেন ক্লপ

একসময় এই দ্বীপপুঞ্জে কোনো মানুষের বসবাস ছিল না। পঞ্চদশ শতকে পর্তুগিজ নাবিকেরা দ্বীপগুলো আবিষ্কার করার পর এখানে বসতি স্থাপন শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে আটলান্টিক দাস বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করে দেশটি।

দীর্ঘদিনের খরা ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ বিদেশে পাড়ি জমায়। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত কেপ ভার্দে বংশোদ্ভূত মানুষের সংখ্যা দেশটির মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশটির অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি।

আরও পড়ুন  আর্জেন্টিনার দুর্বলতা খুঁজেই পেলেন না অস্ট্রিয়ার কোচ

ফুটবলের ক্ষেত্রে কেপ ভার্দের উত্থানও বেশ চমকপ্রদ। ২০১৫ সালে একটি প্রীতি ম্যাচে তারা ইউরোপের শক্তিশালী দল পর্তুগালকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মূল আসরে জায়গা করে নিয়েছে দেশটি।

প্রথমবার বিশ্বকাপে উঠে
বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়া কেপ ভার্দে

সংগীতপ্রেমী জাতি হিসেবে কেপ ভার্দের সুনাম রয়েছে। দেশটির জনপ্রিয় সংগীতধারা ‘মর্না’ বিশ্বজুড়ে পরিচিত। কিংবদন্তি শিল্পী সেজারিয়া এভোরা তাঁর গানের মাধ্যমে কাবো ভের্দেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত করে তুলেছিলেন।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যও দেশটি বিখ্যাত। কেপ ভার্দের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ পিকো দো ফোগো একটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি। এর ঢালে কফি, আঙুর ও বিভিন্ন ফলের চাষ হয়। পাশাপাশি এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক কচ্ছপের প্রজননক্ষেত্র হিসেবেও পরিচিত।

আরও পড়ুন  বিশ্বকাপ ম্যাচ: আলোচনায় থাকা গুরুত্বপূর্ণ লড়াইগুলো

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং নিরাপদ পর্যটন গন্তব্য হিসেবে কেপ ভার্দে আফ্রিকার অন্যতম সফল দেশ। সুন্দর সৈকত, আগ্নেয় পাহাড় ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতির কারণে প্রতিবছর হাজারো পর্যটক এখানে ভ্রমণে আসেন।

২০২৬ বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের অংশগ্রহণ শুধু একটি ফুটবল সাফল্য নয়, বরং ছোট একটি দেশের বড় স্বপ্ন পূরণের গল্প। বিশ্বকাপের মঞ্চে তারা কতদূর যেতে পারবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়ে কেপ ভার্দে ইতোমধ্যেই ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে।