ডেভিড ইমন গ্রেপ্তার নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার এড়াতে নিজের চেহারা পরিবর্তন করেছিলেন ডেভিড ইমন। এমনকি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালানোর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে চুল ও দাড়ির স্টাইলও বদলে ফেলেছিলেন। দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ এবং পরিকল্পিত অভিযানের মাধ্যমে তাকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর মামলার তথ্যও প্রকাশ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের আলোচিত সাজ্জাদ গ্যাংয়ের মূল নেতা বড় সাজ্জাদ বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তবে বাংলাদেশে গ্যাংটির কার্যক্রম পরিচালনায় ডেভিড ইমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। গ্যাংয়ের আরেক সদস্য রায়হানও এখনও পুলিশের নিবিড় নজরদারিতে রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে এসপি মাসুদ আলম জানান, পুলিশের অপরাধ তথ্য ব্যবস্থাপনা (সিডিএমএস) অনুযায়ী ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে বর্তমানে মোট ১৩টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে সাতটি হত্যা মামলা এবং অন্যগুলো চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের বিরুদ্ধে ফটিকছড়ি থানায় অস্ত্র আইনে নতুন মামলা হয়েছে। পাশাপাশি পুরোনো মামলায়ও তাদের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হবে বলে জানান তিনি।
ডেভিড ইমনকে যশোর থেকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে পুলিশ সুপার বলেন, এটি কোনো আকস্মিক অভিযান ছিল না। আগে থেকেই বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ এবং অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করা হয়েছিল। এসব তথ্য যাচাইয়ের পর তার অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় বা গোষ্ঠীগত অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ নয়। কেউ সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি বা অন্য কোনো অপরাধে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাউজানের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন এসপি মাসুদ আলম। তিনি জানান, চট্টগ্রামে দায়িত্ব গ্রহণের পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে জঙ্গল সলিমপুর ও রাউজানকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও সেই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এছাড়া গত বছরের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অপরাধীদের সক্রিয় হওয়ার বিষয়ে তদন্তে এখন পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে সাময়িক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ কিছু অপরাধী নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বায়েজিদ থানার একটি দস্যুতা মামলায় কক্সবাজার থেকে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে ২২ দিনের মাথায় তিনি জামিনে মুক্তি পান। সর্বশেষ গ্রেপ্তারের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে চলমান তদন্তে নতুন অগ্রগতি এসেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, সংগঠিত অপরাধ দমনে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হবে এবং পলাতক অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারেও অভিযান অব্যাহত থাকবে।



























