চাঁদ নিয়ে কয়েক দশক ধরে গবেষণা চালিয়ে আসছে NASA। বিভিন্ন চন্দ্র অভিযান ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সংস্থাটি সংগ্রহ করেছে বিপুল পরিমাণ বৈজ্ঞানিক তথ্য। এর মধ্যে NASA-এর Lunar Reconnaissance Orbiter (LRO) মিশন থেকে পাওয়া তথ্যের পরিমাণ সংস্থাটির অন্যান্য সব গ্রহসংক্রান্ত মিশনের সম্মিলিত তথ্যের চেয়েও বেশি।
এত বিপুল তথ্য মানুষের পক্ষে বিশ্লেষণ করতে দীর্ঘ সময় ও প্রচুর পরিশ্রম প্রয়োজন। সেই কাজকে দ্রুত ও সহজ করতে IBM-এর সঙ্গে যৌথভাবে নতুন একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI মডেল তৈরি করেছে NASA।
নতুন AI মডেলের নাম Lunar Foundation Model
নতুন মডেলটির নাম NASA-IBM Lunar Foundation Model। এটি একটি ওপেন-সোর্স মডেল এবং বর্তমানে বিনামূল্যে ব্যবহার ও গবেষণার জন্য Hugging Face-এ পাওয়া যাচ্ছে।
NASA জানিয়েছে, মডেলটি চাঁদের বিপুল বৈজ্ঞানিক তথ্য বিশ্লেষণে গবেষকদের সহায়তা করবে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের গবেষণামূলক কাজ আরও দ্রুত সম্পন্ন করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
কী কাজে ব্যবহার হবে এই AI?
নতুন AI মডেল ব্যবহার করে চাঁদের পৃষ্ঠের বিভিন্ন গর্ত বা ক্রেটার শনাক্ত ও মানচিত্র তৈরিতে সহায়তা নেওয়া যাবে। পাশাপাশি অপেক্ষাকৃত নতুন আগ্নেয় বৈশিষ্ট্য খুঁজে বের করা এবং চাঁদের মেরু অঞ্চলে কোথায় পানির বরফ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, তার মডেল তৈরিতেও এটি কাজে লাগতে পারে।
ফলে গবেষকদের বিপুল পরিমাণ ছবি ও বৈজ্ঞানিক তথ্য হাতে ধরে বিশ্লেষণ করার প্রয়োজন কিছুটা কমতে পারে। AI প্রাথমিকভাবে তথ্য বিশ্লেষণ করে দিলে গবেষকরা গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রশ্ন ও আবিষ্কারের দিকে আরও বেশি মনোযোগ দিতে পারবেন।
LRO মিশনের তথ্যেই বড় প্রশিক্ষণ
NASA জানিয়েছে, নতুন AI মডেলটি মূলত Lunar Reconnaissance Orbiter মিশন থেকে পাওয়া তথ্য ব্যবহার করে প্রশিক্ষিত হয়েছে। প্রায় ১৭ বছর ধরে চাঁদের কক্ষপথে থাকা এই মহাকাশযান চাঁদের পৃষ্ঠের উচ্চ রেজল্যুশনের ছবি ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করেছে।
এই দীর্ঘ সময়ের পর্যবেক্ষণের ফলে চাঁদের পৃষ্ঠের প্রায় সম্পূর্ণ একটি বিস্তারিত চিত্রভান্ডার তৈরি হয়েছে। সেই বিপুল তথ্যই নতুন AI মডেলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।
মহাকাশ গবেষণায় বাড়ছে AI-এর ব্যবহার
গ্রহ ও মহাকাশ গবেষণায় AI ব্যবহারের প্রবণতা বর্তমানে দ্রুত বাড়ছে। বিভিন্ন মহাকাশ সংস্থা ও বেসরকারি মহাকাশ প্রতিষ্ঠান বিপুল পরিমাণ বৈজ্ঞানিক তথ্য দ্রুত বিশ্লেষণ করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে।
NASA-ও এর আগে IBM-এর সঙ্গে যৌথভাবে পৃথিবী পর্যবেক্ষণ ও হেলিওফিজিক্স বা সূর্য ও মহাকাশ পরিবেশ নিয়ে গবেষণার জন্য AI মডেল তৈরি করেছে।
NASA-এর বিজ্ঞান ডেটা কর্মকর্তা কেভিন মারফির মতে, AI ব্যবহারের বড় সুযোগ হলো বিশাল পরিমাণ বৈজ্ঞানিক তথ্যকে দ্রুত বিশ্লেষণ করে নতুন আবিষ্কারের সম্ভাবনা তৈরি করা।
চাঁদ গবেষণায় নতুন এই AI মডেল সেই লক্ষ্যেই আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ভবিষ্যতে আরও বেশি মহাকাশ-তথ্য বিশ্লেষণ ও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এ ধরনের মডেলের ব্যবহার বাড়তে পারে।




























