কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় এবার সাইবার নিরাপত্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে OpenAI। ডিজিটাল অবকাঠামো সুরক্ষিত রাখা এবং হ্যাকারদের মোকাবিলায় প্রতিষ্ঠানটি নতুন বিশেষায়িত মডেল ‘জিপিটি-৫.৪-সাইবার’ উন্মুক্ত করেছে। সাইবার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
নতুন এই মডেলটি তৈরি করা হয়েছে ওপেনএআইয়ের সর্বাধুনিক ফ্ল্যাগশিপ প্রযুক্তি জিপিটি-৫.৪ এর ভিত্তিতে। এটি মূলত সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের কম্পিউটার সিস্টেমে থাকা দুর্বলতা বা নিরাপত্তা ত্রুটি দ্রুত শনাক্ত করতে সহায়তা করবে। শুধু ত্রুটি খুঁজে বের করাই নয়, সেগুলো সমাধানের ক্ষেত্রেও এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো, অনেক সময় ছোট একটি দুর্বলতাও বড় ধরনের তথ্য ফাঁস বা সাইবার হামলার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ওপেনএআই বলছে, নতুন এই মডেল ব্যবহার করে ঝুঁকি আগেভাগে শনাক্ত করা গেলে ব্যবহারকারীর তথ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা অনেক সহজ হবে।
এই প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকাতে প্রতিষ্ঠানটি তাদের ‘বিশ্বস্ত সাইবার প্রবেশাধিকার’ কর্মসূচিও সম্প্রসারণ করেছে। এর আওতায় হাজার হাজার অনুমোদিত নিরাপত্তা কর্মী এবং শত শত পেশাদার দল উন্নত এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। ওপেনএআইয়ের মতে, এটি নিরাপদ ও দায়িত্বশীল প্রযুক্তি ব্যবহারের একটি বড় উদাহরণ।
তবে প্রতিষ্ঠানটি এটাও স্বীকার করেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেমন প্রতিরক্ষায় কাজে লাগে, তেমনি সাইবার অপরাধীরাও একে অপব্যবহার করতে পারে। তাই কোনো নিরাপত্তা ত্রুটি সংশোধনের আগেই অপরাধীরা যেন সেটি ব্যবহার করতে না পারে, সেজন্য নতুন মডেলে বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে।
সম্প্রতি এআই খাতে প্রতিদ্বন্দ্বী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নতুন প্রযুক্তি উন্মোচনের মধ্যেই ওপেনএআই এই ঘোষণা দিল। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির আরেক নিরাপত্তা টুল ইতোমধ্যে ৩ হাজারের বেশি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত ও সমাধানে সহায়তা করেছে বলেও জানানো হয়েছে।
ওপেনএআই মনে করছে, ভবিষ্যতের সাইবার নিরাপত্তা শুধু নির্দিষ্ট সময় পরপর পরীক্ষা করার বিষয় নয়। বরং তাৎক্ষণিকভাবে ঝুঁকি শনাক্ত করা, দ্রুত প্রতিরোধ গড়া এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমাধান দেওয়ার দিকেই বিশ্ব এগোচ্ছে। আর সেই পরিবর্তনে নতুন এই মডেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সব মিলিয়ে, সাইবার হামলার ঝুঁকি বাড়তে থাকা সময়ে ওপেনএআইয়ের এই উদ্যোগ প্রযুক্তি বিশ্বে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।




























