বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকট দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, তীব্র খাদ্য অনিরাপত্তায় ভোগা মানুষের বড় একটি অংশ মাত্র কয়েকটি দেশে কেন্দ্রীভূত—যার মধ্যে Bangladesh-ও রয়েছে।
Global Report on Food Crises-এ প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্বের ৪৭টি দেশে প্রায় ২৬ কোটি ৬০ লাখ মানুষ খাদ্য সংকটে পড়েছে। এই সংখ্যা ২০১৬ সালের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষুধায় ভোগা মানুষের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই মাত্র ১০টি দেশে বাস করে। দেশগুলো হলো— আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, মিয়ানমার, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া এবং ইয়েমেন।
এর মধ্যে সুদান, নাইজেরিয়া ও কঙ্গোতেই রয়েছে মোট ক্ষুধার্ত মানুষের এক-তৃতীয়াংশ। তবে প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ও সিরিয়ার পরিস্থিতিতে কিছু উন্নতির ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে।
বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, গত এক দশকের মধ্যে এবারই প্রথম একই বছরে গাজা এবং সুদানের কিছু অঞ্চলে দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে—যা বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত খাদ্য সংকটের প্রধান কারণ। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এ সংকটকে আরও তীব্র করতে পারে।
বিশেষ করে Strait of Hormuz এলাকায় অস্থিরতা জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলছে, যার ফলে সারের দাম বাড়ছে এবং কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
International Fund for Agricultural Development-এর প্রধান Alvaro Lario জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতিতে ক্ষুদ্র কৃষকদের সহায়তা এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষিতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে সার উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মাটির গুণগত মান উন্নয়নে পদক্ষেপ না নিলে খাদ্য সংকট আরও গভীর হতে পারে।




























