ইরানের সঙ্গে ‘ভালো’ ও ‘গভীর’ আলোচনা চলছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, চলমান আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। ট্রাম্পের এই বক্তব্য নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, ট্রাম্প একদিকে কূটনৈতিক সমাধানের আশা প্রকাশ করলেও অন্যদিকে সামরিক শক্তি ব্যবহারের হুমকি বহাল রেখেছেন। তবে ইরান বলছে, বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি কোনো আলোচনা হচ্ছে না। কেবল মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কিছু বার্তা আদান-প্রদান চলছে।
এদিকে টানা চার দিনের মতো সোমবারও ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলা বন্ধ ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে এই বিরতি দেওয়া হয়েছে। তবে ট্রাম্প এসব খবরকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যস্থতাকারী কয়েকটি দেশের অনুরোধে সাময়িকভাবে হামলা স্থগিত রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ সমাধানের সম্ভাবনা থাকায় যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তবে প্রয়োজন হলে দ্রুত সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন সামরিক গোলাবারুদের মজুত এবং দীর্ঘমেয়াদি অভিযানের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বৈঠকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও উপস্থিত ছিলেন।
রয়টার্স জানিয়েছে, টানা ১৩ দিনের বিমান হামলার পর মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা ট্রাম্পকে জানিয়েছেন যে অভিযানের কার্যকারিতা ধীরে ধীরে কমে আসছে। একই সঙ্গে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গোলাবারুদ সরবরাহ নিয়েও কিছু উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
তবে গোলাবারুদের ঘাটতির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বেশি গোলাবারুদ রয়েছে। এমনকি প্রয়োজনের চেয়েও বেশি মজুত রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে মার্কিন হামলা বন্ধ থাকায় ইরানও পাল্টা হামলা স্থগিত রেখেছে। তেহরান দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখনো তাদের হাতেই রয়েছে। একই সঙ্গে ওমানের সহযোগিতায় নিরাপদ নৌ চলাচলের নতুন কাঠামো তৈরির কাজ চলছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার জন্য তারা কোনো অনুরোধ করেনি। ওয়াশিংটনের দাবি ‘মনগড়া’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের সঙ্গে চলমান আলোচনা সম্পূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বিষয়।
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চায় আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে ইরান বাধা না দিক। অন্যদিকে ইরান বলছে, প্রণালির ব্যবস্থাপনা ও তদারকির অধিকার তাদেরই থাকবে।
যদিও সরাসরি হামলা আপাতত বন্ধ রয়েছে, তবুও উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা কমেনি। সৌদি আরব, ইয়েমেন, জর্ডান ও ইরাকের বিভিন্ন এলাকায় ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার জন্য ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক আলোচনার পথ এখনো খোলা থাকলেও পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। ট্রাম্পের নতুন হুঁশিয়ারি এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে বিরোধের কারণে যে কোনো সময় আবারও সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।




























