ঢাকা ১১:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারীদের জন্য সেরা দেশ ২০২৬, চমকে দেবে নতুন র‍্যাঙ্কিং

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৯:৫০:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
  • ৫২০

নারীদের জন্য সেরা দেশ ২০২৬ প্রকাশিত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত।

নারীদের জন্য সেরা দেশ কোনটি—এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে প্রতি দুই বছর পরপর প্রকাশিত হয় Women, Peace and Security (WPS) Index। ২০২৫-২৬ সালের সর্বশেষ সূচকে আবারও বিশ্বের নারীদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ, সমান সুযোগসম্পন্ন ও বসবাসের উপযোগী দেশ হিসেবে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ডেনমার্ক। অন্যদিকে তালিকার একেবারে নিচে রয়েছে আফগানিস্তান, যেখানে নারীদের নিরাপত্তা, শিক্ষা ও মৌলিক অধিকারের পরিস্থিতি এখনো সবচেয়ে উদ্বেগজনক বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের Georgetown Institute for Women, Peace and Security প্রকাশিত এই সূচকে বিশ্বের ১৮১টি দেশ মূল্যায়ন করা হয়েছে। নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, আইনি সুরক্ষা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, স্বাস্থ্যসেবা, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও সহিংসতার ঝুঁকিসহ মোট ১৩টি সূচক বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি দেশের অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, উত্তর ইউরোপের নর্ডিক দেশগুলো এবারও সেরা পাঁচটি অবস্থান নিজেদের দখলে রেখেছে। তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে ডেনমার্ক, এরপর যথাক্রমে আইসল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন ও ফিনল্যান্ড। এছাড়া লুক্সেমবার্গ, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রিয়া এবং নিউজিল্যান্ডও শীর্ষ দশে জায়গা করে নিয়েছে। গবেষকদের মতে, এসব দেশে নারীরা শিক্ষা, চাকরি, স্বাস্থ্যসেবা, আইনি সুরক্ষা ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে বেশি সুযোগ পান। একই সঙ্গে সহিংসতার হারও অনেক কম এবং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী।

অন্যদিকে তালিকার নিচের দিকে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় থাকা দেশগুলো। আফগানিস্তান সর্বশেষ অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া ইয়েমেন, সিরিয়া, সুদান, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, হাইতি, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, বুরুন্ডি, দক্ষিণ সুদান এবং মিয়ানমারও সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিম্ন অবস্থানে থাকা দেশগুলোর ৭০ শতাংশের বেশি নারী সশস্ত্র সংঘাতের খুব কাছাকাছি এলাকায় বসবাস করেন, ফলে তারা বাস্তুচ্যুতি, সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।

এবারের সূচকে লাতিন আমেরিকার দুটি দেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে। প্রথমবারের মতো কোস্টারিকা এবং উরুগুয়ে বিশ্বের শীর্ষ ২০ শতাংশ দেশের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। নারীদের অধিকার, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তায় ধারাবাহিক উন্নয়নের ফলেই দেশ দুটি এ অবস্থানে পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সূচক কেবল নারীদের অবস্থানই তুলে ধরে না, বরং একটি দেশের সামগ্রিক সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতারও প্রতিফলন ঘটায়। যেসব দেশে অর্থনৈতিক সুযোগ, কার্যকর বিচারব্যবস্থা, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা এবং কম সহিংসতা রয়েছে, সেসব দেশই সাধারণত সূচকে ভালো অবস্থান অর্জন করে। বিপরীতে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত, দুর্বল রাষ্ট্রব্যবস্থা ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা নারীদের জীবনমানকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর তথ্য অনুযায়ী নারীর প্রতি সহিংসতা এখনো বিশ্বের অন্যতম বড় মানবাধিকার সংকট। যুদ্ধ, সংঘাত বা রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় এই সহিংসতার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা, বিচারপ্রাপ্তি এবং অর্থনৈতিক সুযোগও সীমিত হয়ে পড়ে।

গবেষকদের মতে, নারীদের জন্য নিরাপদ ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা শুধু একটি দেশের নারী জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের বিষয় নয়, বরং পুরো সমাজের স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই ভবিষ্যতে উন্নয়ন পরিকল্পনায় নারীর নিরাপত্তা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং আইনি সুরক্ষাকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নারীদের জন্য সেরা দেশ ২০২৬, চমকে দেবে নতুন র‍্যাঙ্কিং

Update Time : ০৯:৫০:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

নারীদের জন্য সেরা দেশ কোনটি—এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে প্রতি দুই বছর পরপর প্রকাশিত হয় Women, Peace and Security (WPS) Index। ২০২৫-২৬ সালের সর্বশেষ সূচকে আবারও বিশ্বের নারীদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ, সমান সুযোগসম্পন্ন ও বসবাসের উপযোগী দেশ হিসেবে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ডেনমার্ক। অন্যদিকে তালিকার একেবারে নিচে রয়েছে আফগানিস্তান, যেখানে নারীদের নিরাপত্তা, শিক্ষা ও মৌলিক অধিকারের পরিস্থিতি এখনো সবচেয়ে উদ্বেগজনক বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের Georgetown Institute for Women, Peace and Security প্রকাশিত এই সূচকে বিশ্বের ১৮১টি দেশ মূল্যায়ন করা হয়েছে। নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, আইনি সুরক্ষা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, স্বাস্থ্যসেবা, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও সহিংসতার ঝুঁকিসহ মোট ১৩টি সূচক বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি দেশের অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  পশ্চিমবঙ্গে কোরবানির বিধিনিষেধে আতঙ্কে মুসলিম সম্প্রদায়

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, উত্তর ইউরোপের নর্ডিক দেশগুলো এবারও সেরা পাঁচটি অবস্থান নিজেদের দখলে রেখেছে। তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে ডেনমার্ক, এরপর যথাক্রমে আইসল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন ও ফিনল্যান্ড। এছাড়া লুক্সেমবার্গ, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রিয়া এবং নিউজিল্যান্ডও শীর্ষ দশে জায়গা করে নিয়েছে। গবেষকদের মতে, এসব দেশে নারীরা শিক্ষা, চাকরি, স্বাস্থ্যসেবা, আইনি সুরক্ষা ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে বেশি সুযোগ পান। একই সঙ্গে সহিংসতার হারও অনেক কম এবং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী।

অন্যদিকে তালিকার নিচের দিকে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় থাকা দেশগুলো। আফগানিস্তান সর্বশেষ অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া ইয়েমেন, সিরিয়া, সুদান, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, হাইতি, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, বুরুন্ডি, দক্ষিণ সুদান এবং মিয়ানমারও সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিম্ন অবস্থানে থাকা দেশগুলোর ৭০ শতাংশের বেশি নারী সশস্ত্র সংঘাতের খুব কাছাকাছি এলাকায় বসবাস করেন, ফলে তারা বাস্তুচ্যুতি, সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।

আরও পড়ুন  রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে ন্যাটোর সহায়তা চাইছে ইউক্রেন

এবারের সূচকে লাতিন আমেরিকার দুটি দেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে। প্রথমবারের মতো কোস্টারিকা এবং উরুগুয়ে বিশ্বের শীর্ষ ২০ শতাংশ দেশের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। নারীদের অধিকার, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তায় ধারাবাহিক উন্নয়নের ফলেই দেশ দুটি এ অবস্থানে পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সূচক কেবল নারীদের অবস্থানই তুলে ধরে না, বরং একটি দেশের সামগ্রিক সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতারও প্রতিফলন ঘটায়। যেসব দেশে অর্থনৈতিক সুযোগ, কার্যকর বিচারব্যবস্থা, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা এবং কম সহিংসতা রয়েছে, সেসব দেশই সাধারণত সূচকে ভালো অবস্থান অর্জন করে। বিপরীতে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত, দুর্বল রাষ্ট্রব্যবস্থা ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা নারীদের জীবনমানকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করে।

আরও পড়ুন  জুলাইয়ে বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য ওয়ার্কিং গ্রুপ বৈঠক

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর তথ্য অনুযায়ী নারীর প্রতি সহিংসতা এখনো বিশ্বের অন্যতম বড় মানবাধিকার সংকট। যুদ্ধ, সংঘাত বা রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় এই সহিংসতার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা, বিচারপ্রাপ্তি এবং অর্থনৈতিক সুযোগও সীমিত হয়ে পড়ে।

গবেষকদের মতে, নারীদের জন্য নিরাপদ ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা শুধু একটি দেশের নারী জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের বিষয় নয়, বরং পুরো সমাজের স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই ভবিষ্যতে উন্নয়ন পরিকল্পনায় নারীর নিরাপত্তা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং আইনি সুরক্ষাকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।