ঢাকা ১২:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

ভারত-চীন সম্পর্ক নিয়ে শি জিনপিং-মোদির গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:১১:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৪

ভারত-চীন সম্পর্ক নিয়ে শি জিনপিং ও নরেন্দ্র মোদির বৈঠক| ছবি: সংগৃহীত

ভারত-চীন সম্পর্ককে কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিকোণ থেকে আরও এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তিনি বলেছেন, দুই দেশ একে অপরের শক্তি থেকে শিক্ষা নিতে পারে, পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে পারে এবং যৌথ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন শি।

সাত বছর পর ভারত সফরে এসে মোদি-শি বৈঠকে বসেন চীনের প্রেসিডেন্ট। ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন দিক উঠে আসে। সীমান্ত পরিস্থিতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতা কীভাবে আরও বাড়ানো যায়, তা নিয়ে দুই নেতা আলোচনা করেন।

বৈঠকের শুরুতে শি জিনপিংকে ভারতে স্বাগত জানান নরেন্দ্র মোদি। ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বকালে চীনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এখন দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে শি জানান, গত কয়েক বছরে মোদির সঙ্গে তাঁর ২১টি বৈঠক হয়েছে এবং এসব আলোচনার মাধ্যমে ভারত-চীন সম্পর্ককে স্থিতিশীল উন্নয়নের দিকে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

শি জিনপিং বলেন, দুই দেশের জাতীয় পরিস্থিতি ভিন্ন হলেও পারস্পরিক সহযোগিতার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। তাঁর মতে, ভারত ও চীন একে অপরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের উন্নয়নে এগিয়ে যেতে পারে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ দুটি জনবহুল দেশ এবং গ্লোবাল সাউথের সদস্য হিসেবে বৈশ্বিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে দুই দেশের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে ভারত-চীন সম্পর্কের ক্ষেত্রে সীমান্ত ইস্যু এখনও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দুই দেশের বিরোধপূর্ণ সীমান্তে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বা এলএসি ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা রয়েছে। ভারত মনে করে সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা গেলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অন্যান্য ক্ষেত্রেও অগ্রগতি সম্ভব। অন্যদিকে চীন সীমান্ত বিরোধকে সম্পর্কের অন্যান্য বিষয় থেকে আলাদা রেখে সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে।

মোদি-শি বৈঠকের আগে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যেও উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হয়েছে। গত মাসের শেষ দিকে বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠক করেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। সেখানে সীমান্ত নির্ধারণ, সীমান্ত পারাপার সহযোগিতা এবং এলএসি বরাবর শান্তি বজায় রাখার বিষয় গুরুত্ব পায়। ফলে শি ও মোদির সাম্প্রতিক বৈঠককে ভারত-চীন সম্পর্কের নতুন সম্ভাবনার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের শৈশবের বাড়ি বিক্রি হলো ১৯ লাখ ডলারে

ভারত-চীন সম্পর্ক নিয়ে শি জিনপিং-মোদির গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

Update Time : ১১:১১:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারত-চীন সম্পর্ককে কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিকোণ থেকে আরও এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তিনি বলেছেন, দুই দেশ একে অপরের শক্তি থেকে শিক্ষা নিতে পারে, পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে পারে এবং যৌথ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন শি।

সাত বছর পর ভারত সফরে এসে মোদি-শি বৈঠকে বসেন চীনের প্রেসিডেন্ট। ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন দিক উঠে আসে। সীমান্ত পরিস্থিতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতা কীভাবে আরও বাড়ানো যায়, তা নিয়ে দুই নেতা আলোচনা করেন।

আরও পড়ুন  ভারতে শিক্ষার্থীদের ওপর সহিংসতার জন্য দায়ী কে?

বৈঠকের শুরুতে শি জিনপিংকে ভারতে স্বাগত জানান নরেন্দ্র মোদি। ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বকালে চীনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এখন দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে শি জানান, গত কয়েক বছরে মোদির সঙ্গে তাঁর ২১টি বৈঠক হয়েছে এবং এসব আলোচনার মাধ্যমে ভারত-চীন সম্পর্ককে স্থিতিশীল উন্নয়নের দিকে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

শি জিনপিং বলেন, দুই দেশের জাতীয় পরিস্থিতি ভিন্ন হলেও পারস্পরিক সহযোগিতার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। তাঁর মতে, ভারত ও চীন একে অপরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের উন্নয়নে এগিয়ে যেতে পারে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ দুটি জনবহুল দেশ এবং গ্লোবাল সাউথের সদস্য হিসেবে বৈশ্বিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে দুই দেশের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুন  ভারতের পরীক্ষাব্যবস্থা সংস্কার

তবে ভারত-চীন সম্পর্কের ক্ষেত্রে সীমান্ত ইস্যু এখনও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দুই দেশের বিরোধপূর্ণ সীমান্তে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বা এলএসি ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা রয়েছে। ভারত মনে করে সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা গেলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অন্যান্য ক্ষেত্রেও অগ্রগতি সম্ভব। অন্যদিকে চীন সীমান্ত বিরোধকে সম্পর্কের অন্যান্য বিষয় থেকে আলাদা রেখে সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে।

আরও পড়ুন  পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন: শিলিগুড়িতে মোদির প্রচার, ‘পদ্ম ফোটান অনুপ্রবেশকারী হটান’

মোদি-শি বৈঠকের আগে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যেও উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হয়েছে। গত মাসের শেষ দিকে বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠক করেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। সেখানে সীমান্ত নির্ধারণ, সীমান্ত পারাপার সহযোগিতা এবং এলএসি বরাবর শান্তি বজায় রাখার বিষয় গুরুত্ব পায়। ফলে শি ও মোদির সাম্প্রতিক বৈঠককে ভারত-চীন সম্পর্কের নতুন সম্ভাবনার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।