ব্রাজিলের দক্ষিণাঞ্চলীয় পারানা রাজ্যে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ২৩ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় বুধবার ভোরে BR-373 মহাসড়কে রোগীবাহী একটি বাসের সঙ্গে একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় উদ্ধারকারী দল ও ফেডারেল হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।
প্রাথমিক তদন্তে ফেডারেল হাইওয়ে পুলিশ ধারণা করছে, ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত লেনে চলে যাওয়ার পর বাসটির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
দুর্ঘটনায় নিহতদের অধিকাংশই বাসের যাত্রী ছিলেন। সংঘর্ষে ট্রাকচালকও মারা যান। এতে বাসটির সামনের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ঘটনাস্থলে ব্যাপক হতাহতের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি ছিল ইম্বিতুভা পৌরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের। বাসটি রোগীদের পারানা রাজ্যের রাজধানী কুরিতিবা শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাচ্ছিল। ফলে নিহত ও আহতদের মধ্যে রোগী এবং স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও থাকতে পারেন বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার পর ইম্বিতুভা পৌর কর্তৃপক্ষ শহরটিতে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণে BR-373 মহাসড়কের ওই অংশে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। উদ্ধারকাজের পাশাপাশি দুর্ঘটনার আলামত সংগ্রহ ও তদন্তের জন্য মহাসড়কটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে ওই সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয় এবং বিকল্প পথে যানবাহন চলাচল করতে বাধ্য হয়।
ফেডারেল হাইওয়ে পুলিশ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে। ট্রাকটি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল, সেটি দুর্ঘটনার আগে অতিরিক্ত গতিতে চলছিল কি না এবং চালকের অন্য কোনো শারীরিক বা যান্ত্রিক সমস্যা ছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ব্রাজিলে মহাসড়কে বাস ও ভারী যানবাহনের সংঘর্ষে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা আগেও ঘটেছে। বিশেষ করে দীর্ঘপথের সড়কে অতিরিক্ত গতি, চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানো এবং যানবাহনের যান্ত্রিক ত্রুটি দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
এই দুর্ঘটনায় একসঙ্গে এত মানুষের মৃত্যুতে ইম্বিতুভা ও আশপাশের এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত এবং মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হচ্ছে।




























