পেট ফাঁপা, বদহজম বা বমি বমি ভাবের মতো হজমের সমস্যায় আদা কিছুটা উপকারী হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, আদা পাকস্থলীর খাবার হজম ও খালি হওয়ার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে গ্যাসের সমস্যা সারানোর নিশ্চিত ওষুধ হিসেবে আদাকে দেখার সুযোগ নেই।
রান্নায় ব্যবহৃত এই মসলায় থাকা বিভিন্ন সক্রিয় উপাদান হজমতন্ত্রের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে বমি বমি ভাব কমানোর ক্ষেত্রে আদার উপকারিতার বিষয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি গবেষণা রয়েছে। তবে গ্যাস বা পেট ফাঁপার ক্ষেত্রে আদার কার্যকারিতা নিয়ে এখনো আরও ভালো মানের গবেষণা প্রয়োজন।
খাবারের সঙ্গে অল্প পরিমাণ তাজা আদা খাওয়া যেতে পারে। চাইলে আদা পাতলা করে কেটে চিবিয়ে খাওয়া বা গরম পানিতে আদা দিয়ে পানীয় তৈরি করেও খেতে পারেন। তবে অতিরিক্ত আদা খাওয়ার প্রয়োজন নেই, কারণ বেশি পরিমাণে খেলে কারও কারও পেটে অস্বস্তি, বুকজ্বালা, ডায়রিয়া বা মুখ-গলায় জ্বালাপোড়া হতে পারে।
আদা খাওয়ার ক্ষেত্রে লবণ বা লেবু মেশানো বাধ্যতামূলক নয়। বরং যাদের অ্যাসিডিটি বা বুকজ্বালার প্রবণতা আছে, তারা লেবু বা অতিরিক্ত মসলা যোগ করার আগে সতর্ক থাকবেন। আদা নিজেও কিছু মানুষের ক্ষেত্রে বুকজ্বালা বাড়াতে পারে।
একটি ছোট গবেষণায় দেখা গেছে, আদা গ্রহণের পর সুস্থ ব্যক্তিদের পাকস্থলীর খাবার খালি হওয়ার গতি বেড়েছিল। আর কার্যকরী বদহজমের রোগীদের ওপর করা আরেক গবেষণাতেও পাকস্থলীর খালি হওয়ার গতি বাড়ার তথ্য পাওয়া যায়। তবে এসব গবেষণায় গ্যাসের ব্যথা দ্রুত সারানোর প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তাই গ্যাস হলেই শুধু আদার ওপর নির্ভর না করে খাবারের অভ্যাসের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। অতিরিক্ত তেল-মসলা, খুব দ্রুত খাওয়া, একসঙ্গে বেশি খাবার এবং যেসব খাবারে ব্যক্তিগতভাবে গ্যাস বাড়ে সেগুলো এড়িয়ে চললে উপকার মিলতে পারে।
বারবার গ্যাস, পেটব্যথা, বুকজ্বালা, পেট ফাঁপা বা বদহজম হলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। দীর্ঘদিনের এসব উপসর্গের পেছনে অন্য কোনো হজমজনিত সমস্যা থাকতে পারে। উপসর্গ স্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।




























