ঢাকা ০১:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কাসেম মাহবুব উচ্চ বিদ্যালের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ, অভিভাবক সমাবেশ ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এমপি জসীম উদ্দীন আহমেদ Logo দুদকের নতুন চেয়ারম্যান বিচারপতি আসাদুজ্জামান Logo বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিনে চট্টগ্রামের অধীনে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজ ছাত্রদলের দোয়া ও মিলাদ মাহফিল Logo দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনে তাকালে চোখ শুকায় কেন, জানুন সমাধান Logo পোড়া পাতিলের কালো দাগ নিয়ে টেনশন নয় বরফেই হবে ঝকঝকে Logo ত্বক তেলতেলে হলেও শুষ্কতা দেখা দেয় যে কারণে Logo মশা তাড়াতে রসুন Logo কোলেস্টেরল কমাতে নতুন নির্দেশনা কখন শুরু করবেন চিকিৎসা? Logo এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে নিতে জুভেন্টাসের নতুন প্রস্তাব, জমে উঠেছে চমকপ্রদ লড়াই Logo ক্যাপসিকাম কি কমাতে পারে ক্যান্সারের ঝুঁকি?

দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনে তাকালে চোখ শুকায় কেন, জানুন সমাধান

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:০২:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৬

দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনে তাকালে চোখে শুষ্কতা হতে পারে, ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ সময় মোবাইল, কম্পিউটার বা ট্যাবের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলে চোখে শুষ্কতা, জ্বালাপোড়া, চুলকানি ও ঝাপসা দেখার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর সঙ্গে মাথাব্যথা, চোখ ভার লাগা কিংবা ঘাড়-কাঁধে অস্বস্তিও হতে পারে। নিয়মিত ও দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিন ব্যবহারের সঙ্গে এসব উপসর্গের সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে একটানা স্ক্রিন দেখার সময় চোখের স্বাভাবিক পলক ফেলার হার কমে যাওয়ায় শুষ্কতার সমস্যা বাড়তে পারে।

চোখের উপরিভাগে অশ্রুর একটি পাতলা স্তর থাকে, যা কর্নিয়াকে আর্দ্র রাখার পাশাপাশি চোখের পৃষ্ঠকে সুরক্ষা দেয়। স্বাভাবিকভাবে পলক ফেলার সময় এই অশ্রুস্তর পুরো চোখে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন অশ্রু তৈরি হয়। কিন্তু স্ক্রিনে গভীর মনোযোগ দিয়ে তাকিয়ে থাকার সময় মানুষ অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিকের তুলনায় কম পলক ফেলে। এতে চোখের পৃষ্ঠের আর্দ্রতা দ্রুত কমে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।

স্ক্রিনের দিকে একটানা তাকিয়ে থাকলে শুধু চোখের শুষ্কতাই নয়, চোখের ক্লান্তিও বাড়তে পারে। দীর্ঘ সময় কাছের কোনো বস্তুর দিকে তাকিয়ে থাকার কারণে চোখকে ক্রমাগত ফোকাস ধরে রাখতে হয়। ফলে চোখে চাপ অনুভূত হওয়া, সাময়িক ঝাপসা দেখা বা মাথাব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এসব সমস্যাকে অনেক সময় ডিজিটাল আই স্ট্রেইন বা কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোমের আওতায় বিবেচনা করা হয়।

চোখের অস্বস্তি কমাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো একটানা স্ক্রিন ব্যবহারের অভ্যাসে বিরতি আনা। এ ক্ষেত্রে ২০-২০-২০ নিয়ম অনুসরণ করা যেতে পারে—প্রতি ২০ মিনিট পর অন্তত ২০ সেকেন্ডের জন্য প্রায় ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে তাকানো। পাশাপাশি কাজের সময় সচেতনভাবে নিয়মিত পলক ফেলার চেষ্টা করা উচিত। এতে চোখের পৃষ্ঠে অশ্রুর স্তর ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে।

স্ক্রিনের অবস্থান ও ঘরের আলোও গুরুত্বপূর্ণ। কম্পিউটার মনিটর সাধারণত চোখ থেকে আরামদায়ক দূরত্বে এবং চোখের সমতলের সামান্য নিচে রাখলে দীর্ঘক্ষণ কাজ করা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক হতে পারে। স্ক্রিনের অতিরিক্ত উজ্জ্বলতা, ঝলক বা প্রতিফলন চোখে অস্বস্তি বাড়াতে পারে। তাই ঘরের আলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা ঠিক করা ভালো।

চোখে শুষ্কতা অনুভূত হলে পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ঘুম এবং অপ্রয়োজনীয় স্ক্রিন টাইম কমানোর অভ্যাসও উপকারী। কাজের ফাঁকে উঠে হাঁটাচলা করা এবং ঘাড়-কাঁধের হালকা স্ট্রেচিং করলে দীর্ঘ সময় বসে থাকার অস্বস্তি কমানো যায়। শিশুদের ক্ষেত্রেও প্রয়োজন ছাড়া দীর্ঘ সময় মোবাইল বা অন্যান্য স্ক্রিন ব্যবহারের সুযোগ না দেওয়াই ভালো।

চোখের শুষ্কতা বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে লুব্রিকেটিং আই ড্রপ বা কৃত্রিম অশ্রু ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে সব ধরনের চোখের ড্রপ একই কাজে ব্যবহার করা যায় না, তাই নিজের ইচ্ছায় দীর্ঘদিন কোনো ওষুধযুক্ত ড্রপ ব্যবহার করা ঠিক নয়। চোখ লাল হয়ে যাওয়া, তীব্র ব্যথা, দৃষ্টির স্থায়ী পরিবর্তন বা উপসর্গ দীর্ঘদিন ধরে থাকলে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ সব ধরনের চোখের সমস্যার কারণ শুধু স্ক্রিন ব্যবহার নয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

কাসেম মাহবুব উচ্চ বিদ্যালের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ, অভিভাবক সমাবেশ ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এমপি জসীম উদ্দীন আহমেদ

দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনে তাকালে চোখ শুকায় কেন, জানুন সমাধান

Update Time : ১১:০২:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

দীর্ঘ সময় মোবাইল, কম্পিউটার বা ট্যাবের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলে চোখে শুষ্কতা, জ্বালাপোড়া, চুলকানি ও ঝাপসা দেখার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর সঙ্গে মাথাব্যথা, চোখ ভার লাগা কিংবা ঘাড়-কাঁধে অস্বস্তিও হতে পারে। নিয়মিত ও দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিন ব্যবহারের সঙ্গে এসব উপসর্গের সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে একটানা স্ক্রিন দেখার সময় চোখের স্বাভাবিক পলক ফেলার হার কমে যাওয়ায় শুষ্কতার সমস্যা বাড়তে পারে।

চোখের উপরিভাগে অশ্রুর একটি পাতলা স্তর থাকে, যা কর্নিয়াকে আর্দ্র রাখার পাশাপাশি চোখের পৃষ্ঠকে সুরক্ষা দেয়। স্বাভাবিকভাবে পলক ফেলার সময় এই অশ্রুস্তর পুরো চোখে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন অশ্রু তৈরি হয়। কিন্তু স্ক্রিনে গভীর মনোযোগ দিয়ে তাকিয়ে থাকার সময় মানুষ অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিকের তুলনায় কম পলক ফেলে। এতে চোখের পৃষ্ঠের আর্দ্রতা দ্রুত কমে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।

আরও পড়ুন  মশা তাড়াতে রসুন

স্ক্রিনের দিকে একটানা তাকিয়ে থাকলে শুধু চোখের শুষ্কতাই নয়, চোখের ক্লান্তিও বাড়তে পারে। দীর্ঘ সময় কাছের কোনো বস্তুর দিকে তাকিয়ে থাকার কারণে চোখকে ক্রমাগত ফোকাস ধরে রাখতে হয়। ফলে চোখে চাপ অনুভূত হওয়া, সাময়িক ঝাপসা দেখা বা মাথাব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এসব সমস্যাকে অনেক সময় ডিজিটাল আই স্ট্রেইন বা কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোমের আওতায় বিবেচনা করা হয়।

চোখের অস্বস্তি কমাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো একটানা স্ক্রিন ব্যবহারের অভ্যাসে বিরতি আনা। এ ক্ষেত্রে ২০-২০-২০ নিয়ম অনুসরণ করা যেতে পারে—প্রতি ২০ মিনিট পর অন্তত ২০ সেকেন্ডের জন্য প্রায় ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে তাকানো। পাশাপাশি কাজের সময় সচেতনভাবে নিয়মিত পলক ফেলার চেষ্টা করা উচিত। এতে চোখের পৃষ্ঠে অশ্রুর স্তর ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন  আলু খেলেও বাড়বে না ওজন? জানুন সঠিক খাওয়ার নিয়ম

স্ক্রিনের অবস্থান ও ঘরের আলোও গুরুত্বপূর্ণ। কম্পিউটার মনিটর সাধারণত চোখ থেকে আরামদায়ক দূরত্বে এবং চোখের সমতলের সামান্য নিচে রাখলে দীর্ঘক্ষণ কাজ করা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক হতে পারে। স্ক্রিনের অতিরিক্ত উজ্জ্বলতা, ঝলক বা প্রতিফলন চোখে অস্বস্তি বাড়াতে পারে। তাই ঘরের আলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা ঠিক করা ভালো।

চোখে শুষ্কতা অনুভূত হলে পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ঘুম এবং অপ্রয়োজনীয় স্ক্রিন টাইম কমানোর অভ্যাসও উপকারী। কাজের ফাঁকে উঠে হাঁটাচলা করা এবং ঘাড়-কাঁধের হালকা স্ট্রেচিং করলে দীর্ঘ সময় বসে থাকার অস্বস্তি কমানো যায়। শিশুদের ক্ষেত্রেও প্রয়োজন ছাড়া দীর্ঘ সময় মোবাইল বা অন্যান্য স্ক্রিন ব্যবহারের সুযোগ না দেওয়াই ভালো।

আরও পড়ুন  দিনে কতক্ষণ একসঙ্গে সময় কাটালে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক হয় আরও মজবুত?

চোখের শুষ্কতা বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে লুব্রিকেটিং আই ড্রপ বা কৃত্রিম অশ্রু ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে সব ধরনের চোখের ড্রপ একই কাজে ব্যবহার করা যায় না, তাই নিজের ইচ্ছায় দীর্ঘদিন কোনো ওষুধযুক্ত ড্রপ ব্যবহার করা ঠিক নয়। চোখ লাল হয়ে যাওয়া, তীব্র ব্যথা, দৃষ্টির স্থায়ী পরিবর্তন বা উপসর্গ দীর্ঘদিন ধরে থাকলে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ সব ধরনের চোখের সমস্যার কারণ শুধু স্ক্রিন ব্যবহার নয়।