কোলেস্টেরল কমানো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের নতুন নির্দেশনায় আগের তুলনায় আরও আগে থেকেই ঝুঁকি চিহ্নিত ও নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রক্তে অতিরিক্ত এলডিএল বা ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল দীর্ঘদিন থাকলে ধমনিতে জমে হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে শুধু এলডিএল নয়, রক্তের অন্যান্য ক্ষতিকর লিপিড ও লিপোপ্রোটিনও নজরে রাখা প্রয়োজন।
নতুন নির্দেশনায় মূল বার্তা হলো, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ শুরু করার ক্ষেত্রে খুব বেশি দেরি না করা। স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা ও অন্যান্য জীবনযাপনের পরিবর্তনকে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এসব পরিবর্তনের পরও কোলেস্টেরলের মাত্রা কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে না এলে প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ ব্যবহারের কথা বিবেচনা করতে পারেন চিকিৎসকেরা।
কোলেস্টেরল পরীক্ষা নিয়েও এসেছে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। আগে পরীক্ষা না করা শিশুদের ৯ থেকে ১১ বছর বয়সের মধ্যে কোলেস্টেরল পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে পরিবারে গুরুতর হৃদ্রোগ বা কোলেস্টেরল-সংক্রান্ত রোগের ইতিহাস থাকলে আরও কম বয়সেও পরীক্ষা শুরু করা যেতে পারে। অর্থাৎ ঝুঁকি চিহ্নিত করার কাজটি শুধু প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না।
প্রাপ্তবয়স্কদের হৃদ্রোগের ঝুঁকি নির্ধারণেও নতুন PREVENT ক্যালকুলেটর ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে বয়স, কোলেস্টেরল, রক্তচাপ ও জীবনযাপনের মতো বিভিন্ন তথ্য বিবেচনা করে ১০ ও ৩০ বছরের হৃদ্রোগের ঝুঁকি অনুমান করা যায়। ঝুঁকি অনুযায়ী চিকিৎসকেরা জীবনযাপনের পরিবর্তনের পাশাপাশি কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করতে পারেন।
নতুন নির্দেশনায় এলডিএল-এর নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রাও রাখা হয়েছে। সীমান্তবর্তী বা মাঝারি ঝুঁকির ক্ষেত্রে এলডিএল ১০০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটারের নিচে রাখার লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে। উচ্চ ঝুঁকির ক্ষেত্রে লক্ষ্য ৭০-এর নিচে এবং খুব বেশি ঝুঁকির হৃদ্রোগীদের ক্ষেত্রে ৫৫ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটারের নিচে রাখার কথা বলা হয়েছে। তবে ব্যক্তিভেদে চিকিৎসার লক্ষ্য আলাদা হতে পারে।
কোলেস্টেরল কমানোর জন্য স্ট্যাটিন এখনও প্রধান ওষুধগুলোর একটি। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী ইজেটিমাইব, বেমপেডোয়িক অ্যাসিড, PCSK9 ইনহিবিটর ও ইনক্লিসিরানের মতো অন্যান্য ওষুধও ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। কোন ওষুধ প্রয়োজন, তা রোগীর ঝুঁকি ও শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে। তাই নিজে থেকে কোলেস্টেরলের ওষুধ শুরু বা বন্ধ করা উচিত নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আগেভাগে সচেতন হওয়া। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্বাস্থ্যকর খাবার, শরীরচর্চা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা—এই সমন্বিত পদ্ধতিই দীর্ঘমেয়াদে কোলেস্টেরল কমানো ও হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়তে থাকলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।




























