গর্ভধারণের খবর নিশ্চিত হওয়ার পর অনেকেই বুঝতে পারেন না কখন ডাক্তার দেখাবেন, কোন পরীক্ষা করবেন বা কোন ওষুধ খাওয়া নিরাপদ। অথচ গর্ভাবস্থার শুরুর সময়টি মা ও শিশুর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রেগন্যান্সি নিশ্চিত হলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সাধারণভাবে মাসিক নির্ধারিত সময়ে না এলে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করা যায়। টেস্ট পজিটিভ হলে গর্ভকাল কত সপ্তাহ চলছে তা নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রথম গর্ভকালীন স্বাস্থ্যসেবা বা ANC যোগাযোগ গর্ভাবস্থার প্রথম ১২ সপ্তাহের মধ্যেই করার পরামর্শ দেয়।
গর্ভাবস্থার শুরুতেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো ফলিক অ্যাসিড। সাধারণ ঝুঁকির ক্ষেত্রে গর্ভধারণের অন্তত এক মাস আগে থেকে এবং গর্ভাবস্থার প্রথম ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত প্রতিদিন ৪০০ মাইক্রোগ্রাম ফলিক অ্যাসিড নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এটি শিশুর মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের কিছু গুরুতর জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
তবে সবার জন্য ফলিক অ্যাসিডের মাত্রা একই নয়। আগে শিশুর নিউরাল টিউবের ত্রুটি থাকলে বা কিছু বিশেষ ঝুঁকি থাকলে চিকিৎসক বেশি মাত্রার ফলিক অ্যাসিড দিতে পারেন। তাই নিজের ইচ্ছায় ৫ মিলিগ্রাম বা অন্য কোনো উচ্চমাত্রার ট্যাবলেট শুরু না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
গর্ভাবস্থায় ফলিক অ্যাসিডের পাশাপাশি আয়রনসহ প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গর্ভবতীদের জন্য দৈনিক আয়রন ও ফলিক অ্যাসিড দেওয়ার সুপারিশ করেছে। তবে আয়রন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি বা অন্য কোনো সাপ্লিমেন্ট কতটা প্রয়োজন, তা ব্যক্তির স্বাস্থ্য ও পরীক্ষার ফল অনুযায়ী চিকিৎসক নির্ধারণ করতে পারেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গর্ভাবস্থায় নিজে থেকে কোনো ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। কিছু ওষুধ ভ্রূণের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। আবার আগে থেকে কোনো রোগের ওষুধ চললে সেটিও হঠাৎ বন্ধ করা ঠিক নয়—গর্ভধারণের বিষয়টি চিকিৎসককে জানিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ পরিবর্তন বা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
শিশুর জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি কমাতে শুধু ওষুধ খেলেই হবে না। গর্ভাবস্থায় নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় রক্ত পরীক্ষা, আল্ট্রাসাউন্ড, পুষ্টিকর খাবার, সংক্রমণ থেকে সতর্ক থাকা এবং অ্যালকোহল, ধূমপান ও মাদক এড়িয়ে চলাও গুরুত্বপূর্ণ। কিছু জন্মগত ত্রুটি শনাক্তের জন্য গর্ভাবস্থার প্রথম ও দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে নির্দিষ্ট স্ক্রিনিংও করা হয়।
প্রথম দিকে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আরেকটি কারণ হলো মায়ের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তস্বল্পতা বা অন্য কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকলে তা দ্রুত শনাক্ত করা। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা শুরু করলে মা ও শিশুর ঝুঁকি কমানোর সুযোগ তৈরি হয়। তাই প্রেগন্যান্সি টেস্ট পজিটিভ হওয়ার পর অপেক্ষা না করে গর্ভকালীন পরিচর্যার পরিকল্পনা শুরু করাই সবচেয়ে ভালো।





























