ঢাকা ০৪:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গর্বের সাফল্য: বাংলাদেশি গবেষক দলের কোডিং ফেস্ট ২০২৬ চ্যাম্পিয়ন অর্জন Logo জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ ১৫ আমল Logo এবার ফিফার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান কনক্যাকাফের ৪১ দেশের Logo উত্তর কাঞ্চননগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদকে বরণ, আন্তঃবিদ্যালয় বার্ষিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ Logo জুমার দিনের আমল: বড় সওয়াবের এই সুযোগ হাতছাড়া করবেন না Logo অস্ট্রিয়ায় উচ্চশিক্ষা: ভর্তি, খরচ, স্কলারশিপ ও কাজের সুযোগ জানুন Logo গুঁড়া দুধ: স্বাস্থ্যকর নাকি ক্ষতিকর? জানুন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ Logo সাকিব আল হাসান: জাফনা কিংসের জয়ে অলরাউন্ড পারফরম্যান্স Logo শিশুকে নামাজ শেখানো: রাসুল (সা.) কী নির্দেশ দিয়েছেন? Logo শিশুর চিনি খাওয়া কমালে মস্তিষ্ক ভালো থাকতে পারে, বলছে গবেষণা

হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ, আগেই শরীর দেয় ৩০টি সতর্ক সংকেত

  • Mir Yeaz Mahmud
  • Update Time : ১২:৫৯:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
  • ৫২৯

হার্ট অ্যাটাকের আগে শরীর বিভিন্ন সতর্ক সংকেত দিতে পারে। ছবি: সংগৃহীত।

হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ অনেক সময় হঠাৎ দেখা দেয় বলে মনে হলেও বাস্তবে শরীর বেশ আগেই নানা ধরনের সতর্ক সংকেত দিতে শুরু করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব লক্ষণকে অবহেলা করলে প্রাণঘাতী পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

বিশ্বজুড়ে হৃদরোগ মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। তবে অনেক মানুষ প্রাথমিক উপসর্গগুলোকে সাধারণ ক্লান্তি, গ্যাস্ট্রিক সমস্যা বা বয়সজনিত পরিবর্তন ভেবে গুরুত্ব দেন না। চিকিৎসকরা বলছেন, একাধিক লক্ষণ একসঙ্গে দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

হার্ট অ্যাটাকের আগে সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘদিনের অস্বাভাবিক ক্লান্তি, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা এবং অল্প পরিশ্রমেই শ্বাসকষ্ট। হৃদপিণ্ডে রক্ত সরবরাহ কমে গেলে শরীরে শক্তির ঘাটতি দেখা দিতে পারে এবং দৈনন্দিন কাজ করতেও কষ্ট হতে পারে।

বুকের মাঝখানে চাপ, ভারী অনুভূতি, জ্বালাপোড়া বা ব্যথা হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম প্রধান সতর্কসংকেত। অনেক ক্ষেত্রে এই ব্যথা বাম হাত, কাঁধ, ঘাড়, চোয়াল কিংবা পিঠ পর্যন্ত ছড়িয়ে যেতে পারে। হঠাৎ ঠান্ডা ঘাম হওয়া এবং বুক ধড়ফড় করাও হৃদরোগের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃদযন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়লে শরীরে তরল জমতে শুরু করে। এর ফলে পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া, অস্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধি এবং রাতে বারবার প্রস্রাবের জন্য ঘুম ভেঙে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি ফুসফুসে তরল জমলে দীর্ঘস্থায়ী কাশি বা গোলাপি রঙের কফও হতে পারে।

হজমে সমস্যা, বমিভাব, ক্ষুধামন্দা কিংবা ঘন ঘন মাথা ঘোরা অনেক সময় হৃদরোগের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। অনেকে এসব লক্ষণকে সাধারণ গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা মনে করলেও তা হৃদযন্ত্রের দুর্বলতার ইঙ্গিত হতে পারে।

ঘুমের মধ্যে অতিরিক্ত নাক ডাকা, শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া বা স্লিপ অ্যাপনিয়াও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘস্থায়ী মাড়ির প্রদাহ, রক্তপাত এবং শরীরে অতিরিক্ত প্রদাহ হৃদরোগের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হতে পারে।

এ ছাড়া স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া, মনোযোগের ঘাটতি, বিভ্রান্তি, যৌন অক্ষমতা এবং হাঁটার সময় পায়ে ব্যথাও রক্তনালীতে ব্লকের সম্ভাব্য লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়। হৃদস্পন্দনের অনিয়ম বা অ্যারিদমিয়া থাকলে স্ট্রোকের ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে।

চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো, শরীরের যেকোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তনকে গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘাম বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত। কারণ সময়মতো শনাক্ত করা গেলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

গর্বের সাফল্য: বাংলাদেশি গবেষক দলের কোডিং ফেস্ট ২০২৬ চ্যাম্পিয়ন অর্জন

হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ, আগেই শরীর দেয় ৩০টি সতর্ক সংকেত

Update Time : ১২:৫৯:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ অনেক সময় হঠাৎ দেখা দেয় বলে মনে হলেও বাস্তবে শরীর বেশ আগেই নানা ধরনের সতর্ক সংকেত দিতে শুরু করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব লক্ষণকে অবহেলা করলে প্রাণঘাতী পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

বিশ্বজুড়ে হৃদরোগ মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। তবে অনেক মানুষ প্রাথমিক উপসর্গগুলোকে সাধারণ ক্লান্তি, গ্যাস্ট্রিক সমস্যা বা বয়সজনিত পরিবর্তন ভেবে গুরুত্ব দেন না। চিকিৎসকরা বলছেন, একাধিক লক্ষণ একসঙ্গে দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

হার্ট অ্যাটাকের আগে সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘদিনের অস্বাভাবিক ক্লান্তি, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা এবং অল্প পরিশ্রমেই শ্বাসকষ্ট। হৃদপিণ্ডে রক্ত সরবরাহ কমে গেলে শরীরে শক্তির ঘাটতি দেখা দিতে পারে এবং দৈনন্দিন কাজ করতেও কষ্ট হতে পারে।

আরও পড়ুন  মেহেদিতে ত্বকের ক্ষতি, মেহেদির লুকানো স্বাস্থ্যঝুঁকি

বুকের মাঝখানে চাপ, ভারী অনুভূতি, জ্বালাপোড়া বা ব্যথা হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম প্রধান সতর্কসংকেত। অনেক ক্ষেত্রে এই ব্যথা বাম হাত, কাঁধ, ঘাড়, চোয়াল কিংবা পিঠ পর্যন্ত ছড়িয়ে যেতে পারে। হঠাৎ ঠান্ডা ঘাম হওয়া এবং বুক ধড়ফড় করাও হৃদরোগের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃদযন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়লে শরীরে তরল জমতে শুরু করে। এর ফলে পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া, অস্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধি এবং রাতে বারবার প্রস্রাবের জন্য ঘুম ভেঙে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি ফুসফুসে তরল জমলে দীর্ঘস্থায়ী কাশি বা গোলাপি রঙের কফও হতে পারে।

আরও পড়ুন  বরিশালে আট মাসে নতুন ৩০ জন এইচআইভি আক্রান্ত শনাক্ত

হজমে সমস্যা, বমিভাব, ক্ষুধামন্দা কিংবা ঘন ঘন মাথা ঘোরা অনেক সময় হৃদরোগের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। অনেকে এসব লক্ষণকে সাধারণ গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা মনে করলেও তা হৃদযন্ত্রের দুর্বলতার ইঙ্গিত হতে পারে।

ঘুমের মধ্যে অতিরিক্ত নাক ডাকা, শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া বা স্লিপ অ্যাপনিয়াও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘস্থায়ী মাড়ির প্রদাহ, রক্তপাত এবং শরীরে অতিরিক্ত প্রদাহ হৃদরোগের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হতে পারে।

আরও পড়ুন  দিনে কয়টি লিচু খাওয়া নিরাপদ, বয়সভেদে জানুন সঠিক পরিমাণ

এ ছাড়া স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া, মনোযোগের ঘাটতি, বিভ্রান্তি, যৌন অক্ষমতা এবং হাঁটার সময় পায়ে ব্যথাও রক্তনালীতে ব্লকের সম্ভাব্য লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়। হৃদস্পন্দনের অনিয়ম বা অ্যারিদমিয়া থাকলে স্ট্রোকের ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে।

চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো, শরীরের যেকোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তনকে গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘাম বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত। কারণ সময়মতো শনাক্ত করা গেলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।