বর্তমান সময়ে উচ্চ রক্তচাপ বা ব্লাড প্রেশারের সমস্যা অনেক মানুষের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে। মানসিক চাপ, অনিয়মিত জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসের কারণে এই সমস্যা দিন দিন বাড়ছে। এ কারণে অনেকেই নিয়মিত ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওষুধ গ্রহণ করেন।
সাধারণভাবে ধারণা করা হয়, এই ওষুধগুলো হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে এবং জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দীর্ঘমেয়াদে এসব ওষুধ ব্যবহারের কিছু সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয় সামনে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের University of Virginia School of Medicine-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট ধরনের ব্লাড প্রেশারের ওষুধ গ্রহণ করলে কিডনির ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। গবেষকরা বলছেন, এতে কিডনির কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, কিডনির স্বাভাবিক কার্যক্রমে ‘রেনিন সেল’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই কোষগুলো রেনিন নামক একটি হরমোন তৈরি করে, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও রক্ত পরিশোধনে সহায়তা করে। তবে কিছু রাসায়নিক উপাদান এই প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে কিডনির ক্ষতির কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের রাসায়নিক উপাদান অনেক ব্লাড প্রেশারের ওষুধে থাকতে পারে, ফলে দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহার করলে কিডনির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা থাকে।
তাহলে কি ব্লাড প্রেশারের ওষুধ বন্ধ করা উচিত?
চিকিৎসকরা বলছেন, একেবারেই নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্লাড প্রেশারের ওষুধ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। হঠাৎ করে ওষুধ বন্ধ করলে হৃদরোগসহ অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
তবে তারা পরামর্শ দিয়েছেন—
- স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অনুসরণ করা
- নিয়মিত ব্যায়াম করা
- খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা
- চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করা
একই সঙ্গে কিডনির স্বাস্থ্যের বিষয়েও সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।





























