ঢাকা ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ব্রাজিল উন্মাদনা, মুগ্ধ ব্রাজিলের মিডিয়া Logo বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচ আজ, কখন ও কোথায় দেখবেন Logo ব্রাজিল-মরক্কো ম্যাচে কে জিতবে? সুপারকম্পিউটারের চমকপ্রদ ভবিষ্যদ্বাণী Logo ৮৮ বছরের রেকর্ড ধরে রাখতে মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিল Logo বিশ্বকাপের আগে স্বস্তি, ফিটনেস নিয়ে সুখবর দিলেন মার্তিনেজ Logo বড় সুখবর,বিনিয়োগে আস্থা ফেরাতে স্থিতিশীলতার বার্তা Logo দিনে কখন ও কতটুকু আম খাওয়া ভালো জেনে নিন Logo গণ-অভ্যুত্থান সতর্কবার্তা নিয়ে নাহিদ ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য Logo মুখস্থনির্ভর শিক্ষা বদলে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ছে সরকার Logo বিশ্বকাপের আগে মার্তিনেজকে ঘিরে দুশ্চিন্তা, কী হবে আর্জেন্টিনার?

দিনে কখন ও কতটুকু আম খাওয়া ভালো জেনে নিন

আম খাওয়ার সঠিক সময় ও পরিমাণ জানলে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমে। । ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় মৌসুমি ফলগুলোর মধ্যে আম অন্যতম। আম খাওয়ার সঠিক সময় ও পরিমাণ সম্পর্কে অনেকেরই প্রশ্ন থাকে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগী ও ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যক্তিরা আম খাওয়ার আগে দ্বিধায় ভোগেন। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, সঠিক সময়ে ও পরিমিত পরিমাণে আম খেলে এটি শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

আম শুধু সুস্বাদু নয়, এটি ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, আঁশ, পটাশিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ। প্রতি ১০০ গ্রাম আমে প্রায় ৬৫-৭০ ক্যালরি এবং ১৭ গ্রাম শর্করা থাকে। একই পরিমাণ সেদ্ধ ভাতে ক্যালরি থাকে প্রায় ১২৫। ফলে ক্যালরির দিক থেকে আম ভাতের তুলনায় কম হলেও এতে রয়েছে নানা প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি সকালের নাশতার বিকল্প হিসেবে ৩০০ থেকে ৩৫০ গ্রাম আম খেতে পারেন। এটি সাধারণত দুটি বড় বা তিনটি মাঝারি আকারের আমের সমান। তবে আম খাওয়ার সময় অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট যেমন ভাত, রুটি বা মুড়ি এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ এতে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।

আম খাওয়ার সঠিক সময় হলো সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত। মধ্যসকাল বা বিকেলের নাশতা হিসেবেও অল্প পরিমাণে আম খাওয়া যেতে পারে। তবে সন্ধ্যার পর আম খাওয়ার পরামর্শ দেন না পুষ্টিবিদরা। কারণ রাতে শরীরের কার্যক্রম ধীর হয়ে যায় এবং অতিরিক্ত শর্করা জমে ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আম জুস করে খাওয়ার চেয়ে সরাসরি চিবিয়ে খাওয়া বেশি উপকারী। এতে আঁশের পরিমাণ বজায় থাকে এবং হজম প্রক্রিয়াও ভালো হয়। আম খাওয়ার পর কিছুটা হাঁটাহাঁটি বা হালকা ব্যায়াম করলে শরীর আরও ভালোভাবে শর্করা ব্যবহার করতে পারে।

তবে যাদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নেই, তাদের আম খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। একইভাবে কিডনি রোগীদেরও চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে আম খাওয়া উচিত, কারণ এতে থাকা পটাশিয়াম তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।সব মিলিয়ে, আম খাওয়ার সঠিক সময় ও পরিমাণ মেনে চললে এই সুস্বাদু ফলটি শরীরের জন্য উপকারী পুষ্টির উৎস হতে পারে। তাই গ্রীষ্মের এই জনপ্রিয় ফল উপভোগ করুন সচেতনভাবে এবং স্বাস্থ্যকর উপায়ে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ব্রাজিল উন্মাদনা, মুগ্ধ ব্রাজিলের মিডিয়া

দিনে কখন ও কতটুকু আম খাওয়া ভালো জেনে নিন

Update Time : ১১:০৭:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় মৌসুমি ফলগুলোর মধ্যে আম অন্যতম। আম খাওয়ার সঠিক সময় ও পরিমাণ সম্পর্কে অনেকেরই প্রশ্ন থাকে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগী ও ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যক্তিরা আম খাওয়ার আগে দ্বিধায় ভোগেন। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, সঠিক সময়ে ও পরিমিত পরিমাণে আম খেলে এটি শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

আম শুধু সুস্বাদু নয়, এটি ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, আঁশ, পটাশিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ। প্রতি ১০০ গ্রাম আমে প্রায় ৬৫-৭০ ক্যালরি এবং ১৭ গ্রাম শর্করা থাকে। একই পরিমাণ সেদ্ধ ভাতে ক্যালরি থাকে প্রায় ১২৫। ফলে ক্যালরির দিক থেকে আম ভাতের তুলনায় কম হলেও এতে রয়েছে নানা প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান।

আরও পড়ুন  হামের প্রকোপে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ শিশুর মৃত্যু: সারাদেশে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে

বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি সকালের নাশতার বিকল্প হিসেবে ৩০০ থেকে ৩৫০ গ্রাম আম খেতে পারেন। এটি সাধারণত দুটি বড় বা তিনটি মাঝারি আকারের আমের সমান। তবে আম খাওয়ার সময় অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট যেমন ভাত, রুটি বা মুড়ি এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ এতে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।

আরও পড়ুন  চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে স্বাস্থ্যঝুঁকি

আম খাওয়ার সঠিক সময় হলো সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত। মধ্যসকাল বা বিকেলের নাশতা হিসেবেও অল্প পরিমাণে আম খাওয়া যেতে পারে। তবে সন্ধ্যার পর আম খাওয়ার পরামর্শ দেন না পুষ্টিবিদরা। কারণ রাতে শরীরের কার্যক্রম ধীর হয়ে যায় এবং অতিরিক্ত শর্করা জমে ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আম জুস করে খাওয়ার চেয়ে সরাসরি চিবিয়ে খাওয়া বেশি উপকারী। এতে আঁশের পরিমাণ বজায় থাকে এবং হজম প্রক্রিয়াও ভালো হয়। আম খাওয়ার পর কিছুটা হাঁটাহাঁটি বা হালকা ব্যায়াম করলে শরীর আরও ভালোভাবে শর্করা ব্যবহার করতে পারে।

আরও পড়ুন  দিনে কয়টি লিচু খাওয়া নিরাপদ, বয়সভেদে জানুন সঠিক পরিমাণ

তবে যাদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নেই, তাদের আম খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। একইভাবে কিডনি রোগীদেরও চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে আম খাওয়া উচিত, কারণ এতে থাকা পটাশিয়াম তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।সব মিলিয়ে, আম খাওয়ার সঠিক সময় ও পরিমাণ মেনে চললে এই সুস্বাদু ফলটি শরীরের জন্য উপকারী পুষ্টির উৎস হতে পারে। তাই গ্রীষ্মের এই জনপ্রিয় ফল উপভোগ করুন সচেতনভাবে এবং স্বাস্থ্যকর উপায়ে।